Loading...

জীবন বাজুক সহজ সুরে

| Updated: October 02, 2021 10:55:02


জীবন বাজুক সহজ সুরে

কোনোকিছুকে সহজ বা কঠিন করে দেখার মধ্যেই নিহিত থাকে স্বস্তি কিংবা অস্বস্তির বীজ। জীবনে চলার পথে প্রতিনিয়ত আমরা এর মধ্য দিয়ে যাই। খুব বেশি ভাবার দরকার নেই, এমন বিষয়ে অতি ভেবে অনেকসময় আমরা ‘অহেতুক গবেষক’ সাজি। ফলে, জীবন নামের মৌচাকের মধু খায় সময়, আর আমরা কেবল মৌমাছির কামড়ে ক্ষতবিক্ষত হই হরহামেশাই। আমাদের আজকের আলোচনা মূলত, জীবনকে ক্রমশ জটিল না করে সহজ ও সুন্দরভাবে বাঁচার উপায় নিয়ে।

কাজ সমান উন্নতি

আমরা অনেকেই হয়তো কর্মের মধ্যে থেকে সঠিক ফলপ্রাপ্তির চিন্তায় হতাশ হয়ে পড়ি। কাজ করছি, অথচ কিছুই হচ্ছে না, ব্যাপারটি মানতে পারি না বা চাই না। কিন্তু, খুব গভীর কায়দায় ভাবলে দেখা যাবে, আপনি প্রতিনিয়ত আপনার কর্মফল ভোগ করছেন। চোখ বন্ধ করে গত এক বছর আগেকার আপনাকে কল্পনা করুন। দেখুন, সেই আপনি আর আজকের আপনি কি একই আছেন? নিশ্চয়ই না। বরং, কর্ম আপনাকে আরও উন্নত করেছে। মজবুত করেছে। যা পরবর্তী যেকোনো সময় আপনাকে দুর্দান্ত কিছুর সন্ধান দিতে সক্ষম।

আপনি মরণশীল

চিরদিন থাকার উদ্দেশ্যে আমাদের কারোরই পৃথিবী ভ্রমণের সুযোগ মেলেনি। বরং, চলে যাওয়াই সারকথা। কিন্তু, এমন ধ্রুব সত্যটিও অনেকসময় আমরা ভুলে যাই। প্রাপ্তির নেশায় মিথ্যার আশ্রয় কিংবা ছলচাতুরিকে অত্যধিক গুরুত্ব দিই। 

বিষয়টি সাময়িক স্বস্তি হয়তো দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘসময়ের জন্য তা মানুষকে যন্ত্রণা দেয়। যখন কেউ সৎ না থেকে অসততার সঙ্গে বাঁচে বা বাঁচতে চায়, খুব স্বাভাবিকভাবেই তার ভেতর একটা ভয় কাজ করে- সত্য প্রকাশের ভয়; যা সবসময়ই জীবনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

স্পষ্টবাদিতা

জীবনের অর্ধেক জটিলতা বোধহয় কমে যেতো, যদি আমরা স্পষ্ট হতে পারতাম। অনেকসময় আমরা যা বোঝাতে চাই, তা বলতে পারি না, আবার যা বলি- তা হয়তো বোঝাতে চাইনি। ফলে, কাছের মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। একাকিত্বে ডুবে যাই আমরা। এক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা ভালো, আপনার হৃদয় পড়ার সামর্থ্য বা পরিস্থিতি পাশের মানুষটির এই মুহূর্তে না-ই থাকতে পারে। সে-ও হয়তো তার ব্যক্তিগত দুনিয়ায় ক্লান্ত।

তাই, কেউ একজন আপনাকে দেখামাত্র বুঝবে- এমন ভাবনা পরিত্যাগ করে, সরাসরি বলুন। ফলাফল ভালো বৈ মন্দ হয় না এতে।           

আপনি মানুষ

তথাকথিত সামাজিক চাওয়া পূরণ কিংবা অন্য কারো সাথে প্রতিযোগিতায় নেমে, নিজেকে ক্রমশ যন্ত্রের তকমা দেয়া সুখকর কিছু নয়। মনে রাখুন, আপনি মানুষ। নিরাপত্তার অজুহাতে নিজের হৃদয়গত চাওয়া কিংবা আনন্দকে বিসর্জন দেয়ার কোনো মানে নেই। কথা প্রসঙ্গে নাট্য নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের একটি কথা তুলে ধরতেই হয়, তিনি ‘যে জীবন ফড়িংয়ের’ নাম তার একটি নাটকে লিখেছিলেন, “নিরাপত্তাই যদি শেষ কথা হতো, তবে মাতৃগর্ভ ভেদ করে পৃথিবীতে আসতাম না।” 

অন্যকে পরিবর্তন 

এমন মানুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, যারা প্রতিনিয়ত অন্যকে পরিবর্তনের চিন্তায় মশগুল থাকে। এতে করে দিনশেষে কাজের কাজ কিছুই ঘটে না, বরং নিজেরাই নিজেদের একগাদা বিষাদ উপহার দেয়। তাই, যে যেমন তাকে সে রূপে বিবেচনায় রাখা ভালো। এতে চলতে সহজ হয়। বাঁচা যায় আনন্দে। 

সঠিক সঙ্গ 

চলতে গেলে বন্ধু লাগে। কিন্তু, বাঁচতে গেলে লাগে সঠিক বন্ধু, শুদ্ধ মানুষ। আপনি যখন নেতিবাচক মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা করবেন, তখন অজান্তেই আপনার ভেতর আত্মবিশ্বাস ঘাটতি কিংবা সমস্ত ইতিবাচক ব্যাপারে বিপরীত কিছু খুঁজে পাওয়ার প্রবণতা পারে। যা নিজেকে পিছিয়ে দেয়া ছাড়া আর কিছুই দিতে পারে না। তাই, চলার পথে অল্পকিছু সঠিক মানুষকে হৃদয়ের থলেতে রাখতে পারা মঙ্গল। 

ভালো কিছু কখনোই ফুরিয়ে যায় না। বরং, সঠিক সময়ে তা নিতে না পারলে ভাগ-বাটোয়ারা বাড়ে। হয়তো আজ যেখানে পঞ্চাশ পাবার কথা, কাল সেখানে বিশ কিংবা পনেরো পাওয়াই মুশকিল ঠেকে। যদিও, পৃথিবীর যাবতীয় সুন্দর কিংবা ভালো কোনোকিছুই সংখ্যায় প্রকাশ সম্ভব নয়, বোঝার সুবিধার্থে শুধু এমনটা বলা। তাই, জীবনের আজকের পঞ্চাশ আজকেই বুঝে নিন, প্রাণ খুলে হাসুন জীবনের করিডোরে। 

আমাদের নেয়া হোক পৃথিবীর সুঘ্রাণ, সব প্রাণ মিলে হোক এক প্রাণ এক প্রাণ।     
 

সঞ্জয় দত্ত ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। sanjoydatta0001@gmail.com      

Share if you like

Filter By Topic