Loading...
The Financial Express

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৪, হাজার হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন

| Updated: March 18, 2022 16:12:01


জাপানের ফুকুশিমা প্রিফেকচারে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি সড়ক — রয়টার্স জাপানের ফুকুশিমা প্রিফেকচারে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি সড়ক — রয়টার্স

জাপানের উত্তরপূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত চার জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে। ভূমিকম্পের ১০ ঘণ্টা পরও ওই অঞ্চলের হাজার হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে।

বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে ভূমিকম্পটি হয় বলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, প্রাথমিক হিসাবে ভূমিকম্পটি ৭ দশমিক ৩ মাত্রার বলা হলেও পরে সংশোধন করে এর মাত্রা ৭ দশমিক ৪ ছিল বলে জানিয়েছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা। ফুকুশিমা প্রিফেকচারের উপকূলের অদূরে ভূপৃষ্ঠের ৬০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা জানিয়েছেন, চার জনের মৃত্যু হয়েছে এবং পরবর্তী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে শক্তিশালী পরাঘাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সরকার উচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকবে।

অন্তত ১০৭ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে, তাদের কয়েকজনের আঘাত গুরুতর।

একটি সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও বৃহস্পতিবার সকালে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কয়েকটি এলাকা থেকে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে গুরুতর কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর হয়নি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

এ ভূমিকম্প ২০১১ সালের ১১ মার্চ একই এলাকায় হওয়া প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। ফুকুশিমার ওই ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে তখন প্রায় ১৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

এবারের ভূমিকম্পের পরপরই টোকিওর বহু এলাকা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে, তবে ঘন্টা তিনেকের মধ্যেই অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরে আসে। কিন্তু স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত জাপানের উত্তরপূর্বাঞ্চলে তহোকু ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির ২৪ হাজার ২৭০ জন গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিল।

সকাল পর্যন্ত ৪ হাজার ৩০০ বাড়ি পানিবিহীন ছিল। ফুকুশিমা শহরের বাসিন্দারা প্লাস্টিক ট্যাংকে ভরে পানি নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি গাড়ি পার্কিং এলাকায় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল।

ভূমিকম্পের কারণে উত্তরপূর্বাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগও বিঘ্নিত হয়েছে। শিনকাসেন বুলেট ট্রেন সার্ভিস তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়। নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে।

কয়েকটি এলাকায় ভবনের সামনের অংশ ধসে রাস্তায় পড়েছে। টেলিভিশনের ফুটেজে টালির ছাদ ভেঙে একটি গাড়ির ওপর পড়ায় সেটি চূর্ণ হয়ে আছে, এমনটি দেখা গেছে। জরুরি বিভাগের কর্মীদের মহসড়কের ফাটল পরীক্ষা করতেও দেখা গেছে।  

টয়োটা মোটর কর্পোরেশন এবং একটি বৃহৎ চিপ প্রস্তুতকার প্রতিষ্ঠানসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানি উৎপাদন বন্ধ রেখে ভূমিকম্পের প্রভাব যাচাই করে দেখছে। সাপ্লাই চেইনে বিঘ্ন ঘটায় ইতোমধ্যেই চাপে থাকা স্মার্টফোন, ইলেকট্রনিক্স ও অটোমোবাইলের উৎপাদন আরও চাপে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১১ সালের ভূমিকম্প ও সুনামিতে ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিপর্যয় ঘটেছিল। কিন্তু এবার সেখানকার কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কোনো অস্বাভাবিকতার খবর পাওয়া যায়নি। শুধু ক্ষতিগ্রস্ত দাইচি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি টারবাইন ভবনের ফায়ার অ্যালার্ম বেজে উঠেছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

Share if you like

Filter By Topic