Loading...

জনশক্তি রপ্তানির সূচকে উর্ধগতি

| Updated: August 08, 2021 17:06:14


জনশক্তি রপ্তানির সূচকে উর্ধগতি

সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকের চাহিদা বাড়তে শুরু করায় চলতি বছরের জুলাইয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বৈদেশিক কল্যাণ ডেস্ক থেকে পাওয়া তথ্য উপাত্ত বলছে, গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে ২৫,৩৫২ জন শ্রমিক কাজ করতে গিয়েছেন। জুন মাসে এই সংখ্যা ছিল ১৯,২৮৯ জন এবং মে মাসে ছিল ২২,৫৮২ জন।

এ বছরের গত ৭ মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ২ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৩ জন শ্রমিক বিদেশে কাজ করতে গেছেন। এদের মধ্যে ২ লাখ ১ হাজার ৭৫১ জন পুরুষ এবং ৪৬ হাজার ৭৮২ জন নারী।

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, এ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী বিদেশে গেছেন মার্চ মাসে। ওই মাসে বিদেশে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা ছিল ৫১ হাজার ৭৮২ জন। এই সংখ্যা এপ্রিলে ছিল ৪৫ হাজার ৪২০, ফেব্রুয়ারিতে ৪৪ হাজার ৮৫০ এবং জানুয়ারিতে ৩৯ হাজার ২৫৮ জন।

বর্তমানে শুধুমাত্র সৌদি আরবই বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আমদানি করছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তিনটি শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং কুয়েত গত এপ্রিল থেকে করোনা মহামারির কারণে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া স্থগিত রেখেছে।

জনশক্তি রপ্তানি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সৌদি আরব কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে বর্তমানে কোনো কর্মী নিচ্ছে না। এ কারণে সৌদিতে সম্প্রতি বাংলাদেশি শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে।

এ ছাড়া, সৌদি সরকার সে দেশের বেসরকারি খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কোটা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করেছে।

জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ যদি চলমান সুযোগকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে তাহলে জনশক্তি আমদানি করা দেশগুলোতে কয়েকগুন বেশি কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে।

জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান অপরাজিতা ওভারসিজের কর্ণধার এবং জনশক্তি রপ্তানি এজেন্সি ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান বলেছেন, জনশক্তি রপ্তানির গতি বাড়াতে হলে সরকারকে জনশক্তি রপ্তানি সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো এবং বিদেশগামী শ্রমিকদের সুবিধার দিকে আরও বেশি মনযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, যদিও সরকার বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে লকডাউনের নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রেখেছে, তারপরও সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে তাঁরা যথাযথ পরিষেবা পাচ্ছেন না।

এ কারণে শ্রমিকদের জন্য নতুন ভিসা ইস্যু করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া জিসিসির অনুমোদনপ্রাপ্ত মেডিকেল সেন্টারস অ্যাসোসিয়েশন (জিএএমসিএ) - এর পরিষেবাও বন্ধ রয়েছে।

আরিফুর রহমান বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন ভিসা এবং মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

জনশক্তি কর্মকর্তারা বলেছেন, এ বছরের শুরুতে জনশক্তি রপ্তানির বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ায় আবার এই খাত মারাত্মকভাবে ধাক্কা খেয়েছে।

তবে দেশের অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারকে আরও বেশি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও পরামর্শ দেন। অন্যদিকে, প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকারের পক্ষে কাজ করা আন্দোলনকর্মীরা মনে করছেন, বিদেশে গিয়ে শ্রমিকদের যাতে প্রতারকদের খপ্পরে পড়তে না হয় বা সেখানে যাতে তাঁদের হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে কারণে বিদেশে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দরকার। তাঁরা বলছেন, শ্রমিকদের যেখানে পাঠানো হচ্ছে সেই শ্রমবাজার সম্পর্কে আগে ভালো করে পর্যালোচনা করা দরকার।

Share if you like

Filter By Topic