Loading...

ছাত্রদলের সংঘাতে নিহত শিক্ষার্থী সনির নামে হল বুয়েটের ছাত্রীহল

| Updated: November 04, 2021 17:44:00


ছাত্রদলের সংঘাতে নিহত শিক্ষার্থী সনির নামে হল বুয়েটের ছাত্রীহল

দুই দশক আগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যে সাবিকুন নাহার সনি নিহত হয়েছিলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রী হলটি তার নামেই করা হল। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

বুধবার বুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ফোরকান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৫২৬তম সভায় এই ছাত্রী হলের নাম সাবেকুন নাহার সনি হল অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি নবনির্মিত ছাত্রী হলের নাম বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল রাখার সিদ্ধান্ত হয়।”

তবে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নামের বিষয়ে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে।

সনির নামে যে হলটি হল, তা ১৯৮৭ সালে নির্মিত। চারতলা এই আবাসিক হলটি এতদিন ‘ছাত্রী হল’ নামে পরিচিত ছিল।

২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েটে দরপত্র নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান কেমিকৌশল বিভাগের ৯৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী সনি।

বুয়েট ছাত্রদল সভাপতি মোকাম্মেল হায়াত খান মুকি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের টগর গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যে পড়েছিলেন তিনি।

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। নিম্ন আদালতে মুকিত, টগর ও সাগরের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়।

২০০৬ সালের ১০ মার্চ হাই কোর্ট মুকিত, টগর ও সাগরের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেনয় এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এসএম মাসুম বিল্লাহ ও মাসুমকে খালাস দেয় হাই কোর্ট।

মুকি পরে পালিয়ে যান অস্ট্রেলিয়ায়। পলাতক রয়েছেন নুরুল ইসলাম সাগর। কারাগারে রয়েছেন টগর।

সনি হত্যার দিনটিকে প্রতিবছর বুয়েটে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ‘সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করছে। এছাড়া সনি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ৮ জুন ‘সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন’ দিবস হিসেবে পালন করছে।

সনি হত্যার বিচারের দাবিতে এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন থেকে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা ছাত্রী হলটি সনির নামে করার দাবি জানিয়ে আসছিল।

শিক্ষার্থীদের সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েট কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “(হলটিতে) কয়েকদিনের মধ্যে নেমপ্লেট লাগিয়ে দেওয়া হবে।”

সম্প্রতি বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের জন্য ১২ তলা বিশিষ্ট আরও একটি নতুন হল নির্মাণ করা হয়েছে। এই হলের নাম ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করবেন জানিয়ে অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, “বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ১০০টি ভবনের উদ্বোধন করবেন, তার মধ্যে বুয়েটের এ হলটিও অন্তর্ভুক্ত।”

Share if you like

Filter By Topic