‘চুলে তেল না দিলে কি আর চুল ভালো হয়’ - জীবনে কমবেশি এই কথা সকলেই শুনেছে। ছোটবেলায় মা-খালারা চুলে বিলি কেটে নিয়মিত তেল দিয়ে দিতেন। পরিণত বয়সে যখন নিজের যত্ন নিজেকেই নিতে হয় তখন চুলে তেল দেওয়ার কথা শুনলে কারো চেহারায় যেমন চরম বিরক্তি প্রকাশ পায় আবার অন্যদিকে চুলের যত্নে সঠিক তেলের সন্ধানে অনেকের মন অনুসন্ধিৎসু হয়ে পড়ে।
এই ছুটির মৌসুমেই চুলের যত্ন নেওয়ার মোক্ষম সুযোগ। তাই কোন ধরনের তেল ব্যবহার করা যায় কোন চুলে তা জেনে রাখাও দরকারি। চুলের ধরনভেদে রয়েছে বিভিন্ন তেলের ব্যবহার।
নারিকেল তেল
বলার অপেক্ষা রাখে না যে নারিকেল থেকে এই তেল তৈরি হয়। এই তেলে থাকে লরিক অ্যাসিড (এক ধরনের স্যাচুরেটেড ফ্যাট) যা চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে।
নারিকেল তেল সব ধরনের চুলের জন্য উপকারী তবে ভগ্নপ্রায়, শুষ্ক ও নির্জীব চুলের জন্য এবং যাদের চুল খুব একটা বড় হয় না তাদের ক্ষেত্রে বেশ উপযুক্ত।
ব্রঙ্গাদি তেল
বিভিন্ন ঔষধি গাছের নির্যাসের সাথে তিলের তেল, দুধ, বৈঁচির ফল, ভৃঙ্গরাজ, কালোকেশী, তিলের বীজ, শিবজল ফুলসহ আরো অনেক উপকরণের মিশ্রণে এই তেল তৈরি করা হয়। এই তেলের অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
সব ধরনের চুলেই ব্যবহার করা যায় তবে যাদের চুল পড়া বা খুশকির সমস্যা রয়েছে এবং শুষ্ক চুলের জন্য উপকারী। সেই সাথে অকালে চুল পাকা রোধ করে।
কাঠ বাদামের তেল (আমন্ড অয়েল)
কাঠবাদামের ভেতরের শাঁস থেকে এই তেল তৈরি হয়। এতে ভিটামিন ই, ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ম্যাগনেশিয়াম থাকে।
শুষ্ক, ভগ্নপ্রায় চুল, ড্যানড্রাফ হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে বা চুলের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার জন্য এই তেল ব্যবহার করা হয়।
তিলের তেল
সেই প্রাচীনকাল থেকেই চুলের যত্নে এই তেলের ব্যবহার রয়েছে। তিলের বীজ থেকে এই তেল শোধিত হয়। তিলের তেলে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন ই রয়েছে। এছাড়াও জিংক, ম্যাগনেশিয়াম এবং ভিটামিন বি৬ থাকে।
অকালে চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা থাকলে, চুল পরা রোধে এবং উকুনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এই তেল ব্যবহার করা হয়।
ওলিভ অয়েল (জলপাই তেল)
জলপাইয়ের নির্যাস থেকে এই তেল তৈরি করা হয়। ওলিভ অয়েল চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং কেরাটিনের সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে ফলে চুল মসৃণ থাকে।
ঝলমলহীন, রুক্ষ এবং খুশকির সমস্যাযুক্ত চুলের ক্ষেত্রে এই তেলের যেন বিকল্প নেই।
গ্রেপসিড অয়েল
আঙুরের বীজের নির্যাস থেকে এই তেল পরিশোধিত হয়। এই তেলে অ্যান্টি অক্সিডেন্টের পাশাপাশি স্টিয়ারিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন ই থাকে যা স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের জন্য অপরিহার্য।
যাদের প্রচন্ড রকম চুল পড়ার সমস্যা রয়েছে এবং একেবারেই চুল বড় হয় না এই সমস্যা নিরসনে গ্রেপসিড অয়েল একটি ভরসার নাম।
আরগন অয়েল
আরগন গাছের নির্যাস থেকে এই তেলের উদ্ভব। আরগান ওয়েলে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন ই থাকে। স্বর্ণাভ রঙের কারণে এই তেলকে ‘লিকুইড গোল্ড’ বলা হয়।
শুষ্ক, পাতলা বা চিটচিটে চুল; যারা প্রায়ই হেয়ার স্টাইলার ব্যবহার করে বা যাদের চুলে সহজেই জট বেঁধে যায় এসব ক্ষেত্রে আরগান অয়েল সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
ল্যাভেন্ডার অয়েল
ল্যাভেন্ডার ফুলের নির্যাস থেকে তৈরি হয় এবং এটি একটি এসেনশিয়াল অয়েল যা অন্য তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করতে হয়। প্রায় ২৫০০ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে এই তেল ব্যবহার হয়ে আসছে। স্বাস্থোজ্জ্বল চুলের জন্য এটি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় কারণ এটি চুলের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী হেয়ার ফলিকলের সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে।
সব ধরনের চুলেই ব্যবহার করা যায় তবে তৈলাক্ত চুলের জন্য এটি বিশেষ উপকারী।
শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
zabin860@gmail.com
