Loading...

চিনি ছাড়াই খাবার মিষ্টি করার উপায়

| Updated: January 12, 2022 18:40:03


চিনি ছাড়াই খাবার মিষ্টি করার উপায়

খাবারের শেষ পাতে একটুখানি মিষ্টি খেয়ে রসনাবিলাস পূর্ণ করা কিংবা ভালো কোনো খবর পেলে কাউকে মিষ্টিমুখ করানোর জন্য চেপে ধরা আমাদের প্রিয় কাজ।

এমনকি সম্পর্কে মিষ্টতা ধরে রাখতেও অনেকসময় ঝোঁকা হয় সেই মিষ্টির দিকেই। যদিওবা মিষ্টি, মূলত চিনি খাওয়ার রয়েছে বেশ কিছু ঝুকিপূর্ণ দিক, তবু বেশিরভাগ লোকই মিষ্টি খাওয়ার এই মিষ্টি স্বভাবটি ছাড়তে গিয়েও ছাড়তে পারেন না।

তাদের জন্য অবশ্য এমন কিছু বিকল্প আছে যেগুলো খাবারে চিনি সংযোজন ছাড়াই পূরণ করবে মিষ্টতার অভাব। 

দারুচিনি

হেঁশেলের পরিচিত মশলাগুলোর মধ্যে বেশ জনপ্রিয় এটি। তবে খাবারে মশলার ভূমিকা পালন করা ছাড়াও চিনির অভাব পূরণ করতে দারুচিনি বেশ সহায়ক। বেশি কাজে লাগে দারুচিনি গুঁড়ো, যা কিনা এখন বাজারে আলাদাভাবেই কিনতে পাওয়া যায়। কেউ চাইলে নিজেও ঘরে তৈরি করে নিতে পারেন, ব্লেন্ডার বা শিলনোড়ার সাহায্যে।

যেসব খাবারে মিষ্টতা থাকা দরকার কিন্তু বাড়তি চিনি যোগ করতে ভয় পাচ্ছেন, সেখানে এক চিমটি দারুচিনি গুঁড়ো ছড়িয়ে দিতে পারেন। মিষ্টি স্বাদের সাথে উপরি পাওনা হিসেবে পাবেন সুগন্ধও। এছাড়া রক্তে চিনির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে দারুচিনি। 

কলা

ছোট বাচ্চাদের অন্যতম পছন্দের ফল হচ্ছে কলা। এর কারণটা অবশ্যই কলার নিরীহ মিষ্টতা।

বেশিরভাগ ফলই যদিওবা মিষ্টি স্বাদের হয়, কলার ক্ষেত্রে বিশেষত্ব হচ্ছে এর উচ্চমাত্রার প্রাকৃতিক চিনির উপস্থিতি।

তবে ঠিক এ কারণেই অনেকে কলাও এড়িয়ে চলেন, কিন্তু এক পিস চিনিযুক্ত কেক বা ডোনাট না খেয়ে কেউ যদি একটি কলা খায়, তবে ব্যবধানটা প্রশংসনীয়। পাকা কলা দিয়ে স্মুদির পাশাপাশি তৈরি করা যাবে আইসক্রিম, কেক বা রুটিজাতীয় খাবারও। 

খেজুর

রমজান মাসে ইফতার করার সময় বা সেহরিতে খেজুর খাবার রীতি পালন করেন অনেকেই। এমনিতে যারা ব্যায়াম করেন বা নিয়মিত দৌড়ান, তারা দিনের শুরুতে শরীরে শক্তি যোগাতে একটা বা দুটো খেজুর চিবিয়ে নিতে পারেন। সেইসাথে মিষ্টি খাবার ইচ্ছেপূরণেও খেজুরকে বেশ এগিয়ে রাখা যায়, এর সহজলভ্যতা ও সুস্বাস্থ্যকর স্বভাবের জন্য।

তবে খেজুর বা অন্যান্য ড্রাইড ফ্রুট কিনবার সময় খেয়াল রাখত হবে, প্যাকেটে যেন অতিরিক্ত চিনি যোগ না করা হয়। নয়তো একটু অসাবধানতার জন্য গোড়াতে গলদ হতে পারে। 

নারকেল

বাংলাদেশের পিঠাপুলিতে সবচেয়ে বেশি উপস্থিত থাকে নারকেল। এছাড়াও আছে নারকেলের চিড়ে, নাড়ু ইত্যাদি। তবে সেসব খাবারে বেশিরভাগ সময় অতিরিক্ত চিনি বা গুড় যোগ করা হয়।

নারকেল খেতে এমনিতেই মিষ্টি হলেও অতি মাত্রার মিষ্টতার জন্য এমনটা করা হয়। তবে এক্ষেত্রে সচেতন হতে চাইলে কয়েক টুকরো নারকেল ফালিই পূরণ করতে পারে একটুখানি মিষ্টিমুখের চাহিদা।

খালি খালি যেমন খাওয়া যাবে, তেমনি মিষ্টিজাতীয় খাবার যেমন পুডিং, পায়েস ইত্যাদিতেও নারকেল কুড়িয়ে বা ফালি ফালি করে ব্যবহার করা যাবে। 

ভ্যানিলা

ভ্যানিলা এসেন্স বা পাউডার যোগ করে যেকোনো খাবারের হাবভাবই পালটে ফেলা যায়। সকালের নাশতায়, স্মুদি বা অন্যান্য পানীয়তে একটুখানি ভ্যানিলা এসেন্স যোগ করে মিষ্টতার ঘাটতি পূরণ করা যায়।

দই থেকে শুরু করে কফি- ভ্যানিলা ব্যবহার করা যাবে সবকিছুতেই। তবে এর ইষৎ অ্যাসিডিক স্বাদের জন্য রান্নায় ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। 

কখনো কখনো জিভের স্বাদের চাইতে বেশি গুরুত্ব দিতে হয় স্বাস্থ্যকে। তাই চিনির মতো ক্ষতিকর খাদ্যাভ্যাস এড়িয়ে চলতে নিতে হবে বিকল্প ব্যবস্থা। উপরোক্ত খাদ্য উপাদানগুলো ছাড়াও এসব ক্ষেত্রে গ্রহণ করা যায় আপেলের সস, মিষ্টি আলু, বেরিজাতীয় ফল ইত্যাদি। 


অনিন্দিতা চৌধুরী বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা করছেন।

anindetamonti3@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic