চা শ্রমিকদের মজুরি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৭০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত


FE Team | Published: August 27, 2022 22:39:21 | Updated: August 28, 2022 16:25:03


চা শ্রমিকদের মজুরি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৭০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত

চা শ্রমিকদের মজুরি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৭০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চা বাগান মালিকদের বৈঠকে।

একই সঙ্গে বাড়তি চা পাতা তোলা, উৎসব বোনাসসহ শ্রমিকদের আনুপাতিক হারে অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও সম্মতি দিয়েছেন চা বাগান মালিকরা বলে বৈঠক শেষে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস।

প্রধানমন্ত্রী রোববার থেকে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন এবং শিগগির শ্রমিকদের আগ্রহ অনুযায়ী তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলবেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

শনিবার বিকালে গণভবনে বিকাল ৪টা থেকে শুরু হওয়া বৈঠক শেষে মজুরিসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাংবাদিকদের জানান মুখ্য সচিব।

মজুরি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৭০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্তের পর আন্দোলনকারী সংগঠন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা কাজে যোগ দেওয়ার কথা বলেছেন।

ঘোষণা শোনার জন্য হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা জড়ো হয়েছিলেন।

ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ১৭০ টাকা মজুরি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা ১৯ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছি। এই ঘোষণায় আমরা খুশি। কাল থেকে আমরা শ্রমিকদের কাজে যোগদানের জন্য বাগানে বাগানে খবর পাঠাচ্ছি।

একই সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে আমরা রাজী। কারণ, শ্রমিকরা তাদের বক্তব্যে বারবার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যা বলবেন আমরা তাতেই রাজী থাকব এবং কাজে ফিরে যাব।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি নুর মোহামদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে ঘোষণা দিয়েছেন এবং আমাদের মজুরি ৫০ টাকা বাড়িয়েছেন এতে আমরা খুশি। কাল রোববার ছুটির দিন, তবুও আমরা কাজে যাবো।

চা শ্রমিক নেতা পরেশ কালিন্দি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর রোববার থেকে কাজ শুরু করার জন্য তারা প্রত্যেক ভ্যালির বাগান পঞ্চায়েত কমিটির কাছে খবর পাঠাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, রোববার লেবার হাউজে বৈঠক করে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাবো।

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে চা শ্রমিকরা ১৯ দিন ধরে ধর্মঘটসহ আন্দোলন করছেন। এরমধ্যে চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) নেতাদের সঙ্গে শনিবার বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; যেটির দিকে তাকিয়ে ছিলেন শ্রমিকরা।

চা শ্রমিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হৃদয়ে বিশেষ স্থান রয়েছে মন্তব্য করে আহমদ কায়কাউস জানান, বৈঠকে ১৩টি চা বাগানের মালিক উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিকদের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন উল্লেখ করে মুখ্য সচিব জানান, নতুন এ মজুরির পাশাপাশি প্লাকিং বোনাস (অতিরিক্ত চা পাতা তোলার অর্থ), মাঠ কারখানার অধিকার আনুপাতিক হারে বাড়বে। বার্ষিক ছুটি ও বেতনসহ উৎসব ছুটি সেটাও আনুপাতিক হারে বাড়বে।

অসুস্থতা ছুটি বাড়ানো হবে। ভবিষ্যৎ তহবিলে নিয়োগকর্তার চাঁদা আনুপাতিক হারে বাড়বে। কাজে অনুপস্থিতি অনুযায়ী উৎসব ভাতা বাড়বে, মোট প্রদত্ত চাঁদার ৫ শতাংশ প্রশাসনিক খরচ সেটাও আনুপাতিক হারে বাড়বে।

বাগান মালিকরা রেশন ২৮ টাকায় কিনে এখন ২ টাকায় শ্রমিকদের দেয় জানিয়ে আহমদ কায়কাউস বলেন, ভর্তুকি মূল্যে রেশন সুবিধা বাড়ানো হবে।

একই সঙ্গে শ্রমিকদের চিকিৎসা সুবিধা, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের পেনশন, চাশ্রমিকদের পোষ্যদের শিক্ষা বাবদ ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ, গো চারণভূমি চৌকিদারি বাবদ ব্যয়, বিনা মূল্যে বসতবাড়ি ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ শ্রমিক কল্যাণ কর্মসূচি এবং বাসাবাড়িতে উৎপাদন বাবদ আয় বাড়বে জানান তিনি।

এসব কিছু মিলিয়ে মজুরি সাড়ে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকার মত দৈনিক পড়বে। এটা প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, বলেন মুখ্য সচিব।

শেখ হাসিনা এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফিরতে বলেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন চা শ্রমিকদের পক্ষে কথা বলে মজুরি বাড়াবেন, সেটা উনি করেছেন। আগামীকাল থেকে চা শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বলেছেন তিনি। শিগগিরই চা শ্রমিকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কথা বলবেন।

Share if you like