বাজার হস্তক্ষেপ কৌশল হিসেবে স্থানীয় বাজারের দামস্তর স্থির রাখতে ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকার ২ লাখ ৭৩ হাজার টন খাদ্যসামগ্রীর যোগান দেবে, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গত অর্থবছরে এই যোগানের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার টন, যা চলতি অর্থবছরে ৫৫.১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। রাষ্ট্রচালিত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বাণিজ্য কর্পোরেশন (টিসিবি) কিনে নেবে সকল খাদ্যসামগ্রী।
টিসিবি সাধারণত বাজারের অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে ভর্তুকিযুক্ত দামে দ্রব্যাদি বিক্রি করে থাকে।
কাঁচাবাজারের ঘাটতি কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো নিয়ে একটি মজুত তৈরি করা হবে, বলেন এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি আরো জানান যে, টিসিবি ইতোমধ্যে উন্মুক্ত দরপত্র ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পণ্যদ্রব্য সংগ্রহ করা শুরু করে দিয়েছে।
পণ্যদ্রব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোজ্য তেল, চিনি, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, ছোলা এবং খেজুর।
২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭৫ হাজার টন সয়াবিন তেল, ৭৫ হাজার টন পিঁয়াজ, ৬৫ হাজার টন চিনি এবং ৪৮ হাজার টন ডাল সংগ্রহের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।
একইসাথে রাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সংস্থাটি পবিত্র রমজান মাসের কথা ভেবে ১০ হাজার টন ছোলা এবং ৭৫০ টন খেজুর আমদানি করার পরিকল্পনা করেছে।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এর মজুদে ৮ হাজার ১৪১ টন সয়াবিন তেল, চিনি ও ডাল রয়েছে।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন যে, ৪৩ হাজার ৭৪০ টন সয়াবিন তেল, চিনি, পেঁয়াজ এবং মসুর ডাল সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে গিয়েছে।
পরিমাণমতো যোগান নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, সরকারের বিভিন্ন দল বাজারে যোগান ও দামের পরিবর্তন খুব কাছ থেকে কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে, যাতে মজুতদাররা কোনোভাবে কাঁচাবাজারে কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি করতে না পারে।
কোভিড-১৯ অতিমারীর কারণে গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে টিসিবি দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ বাজার ও মুদির দোকান পরিচালনা করে আসছে।
টিসিবির এক তথ্যসূত্র থেকে জানা যায় যে, তারা বর্তমানে সয়াবিন, চিনি ও ডাল - এই তিনটি খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করছে। শীঘ্রই এ তালিকায় পেঁয়াজ যুক্ত হবে।
