Loading...
The Financial Express

চন্দ্রনাথের পথে, সীতাকুন্ডের অরণ্যানীর মাঝে

| Updated: April 17, 2022 21:18:35


চন্দ্রনাথের পথে, সীতাকুন্ডের অরণ্যানীর মাঝে

পাহাড়ের টান নাকি বড়ই ভয়ংকর! যাকে একবার পাহাড় জয়ের নেশা পেয়ে বসে, সেই নেশা থেকে নাকি বের হওয়া নাকি খুবই দুরূহ হয়ে ওঠে। তাই তো এডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষ বার বার পাড়ি জমাতে থাকেন এ পাহাড় থেকে পাহাড়ে। 

এমনই এক পাহাড় চন্দ্রনাথ। এ পাহাড়ের পেছনে রয়েছে আকর্ষণীয় এক গল্প। পুরাণে আছে, সত্য যুগ সতী মাতা স্বেচ্ছায় দেহত্যাগ করলে, মহাদেব শিব তার প্রিয় সতীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে প্রলয় নৃত্য শুরু করেন। তা দেখে বিষ্ণুদেব তার সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর মৃতদেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেন। এতে করে সতী মাতার দেহের বিভিন্ন অংশ ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন জায়গায় পড়ে এবং সেই জায়গাগুলো শক্তিপিঠ হিসেবে পরিচিত হয়।

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে সতী মাতার অর্ধ হস্ত পতিত হয়েছিল বলে এ জায়গার নাম সীতাকুন্ড আর এ জায়গাতেই চন্দ্রনাথ পাহাড়। পাহাড়ের চূড়ায় আছে ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রনাথ মন্দির যা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান।

পাহাড় আরোহণের একদম শুরুতেই দেখা মিলবে শ্রী শ্রী ক্রমদীশ্বর সয়ম্ভূনাথ মন্দিরের। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সাধারণত এ মন্দিরে দর্শন দিয়ে পাহাড়ে চূড়ার দিকে এগিয়ে যান।

পাহাড়ে ওঠার রাস্তা দুইটি৷ একটি সিঁড়ি দিয়ে আরেকটি পাহাড়ি বন্ধুর রাস্তার মধ্য দিয়ে৷ ২২০০ থেকে ৩০০০ এর মত সিঁড়ি রয়েছে এখানে। তবে পাহাড়ে ওঠার জন্য সিঁড়ির চেয়ে পাহাড়ি রাস্তাই বেশি সুবিধাজনক। নেমে আসার ক্ষেত্রে বরং সিঁড়ি বেয়ে আসা যায়।  

চূড়ার দিকে যাত্রাপথে পাওয়া যাবে অনেক দোকান আর বসার জায়গা - যেখানে চাইলে বিশ্রাম নেওয়া যায়,  হালকা কিছু খেয়েও নেওয়া যায়। পাহাড় চূড়ায় যাওয়ার আগে মাঝপথে পড়বে বীরুপাক্ষ মন্দির। পাহাড়ি ঝর্ণার দেখাও মিলবে।

একদম চূড়ায় পাওয়া যাবে চন্দ্রনাথ মন্দীরের দেখা৷ এখানে শিবরাত্রিতে এখনো বিশেষ পূজা ও মেলা হয়। এ মেলা 'শিব চতুর্দশীর মেলা' নামে পরিচিত। দেশ - বিদেশ থেকে আগত লক্ষ লক্ষ মানুষ এ মেলায় আসেন৷ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্রচন্ড ভক্তি আর আবেগের জায়গা এ মন্দির।

১১৫২ ফুট উচ্চতার পাহাড়টি ট্রেকিং করতে খুব বেশি সময় লাগেনা। যেহেতু কষ্ট কম, তাই হাঁটার অভ্যাস আছে এমন যেকোনো বয়সের মানুষ অনায়াসেই এই পাহাড়ে উঠতে পারেন। কিন্তু চূড়ায় ওঠার আগে খাড়া অংশটা সাবধানতার সাথে পার করতে হবে৷ এরপর একদম পাহাড়চূড়ায় ওঠার পর চারপাশ জুড়ে যে মুগ্ধতার সাক্ষী হওয়া যাবে তার সত্যিই কোনো তুলনা হয় না। সেই মুগ্ধতাই সকলকে বার বার পাহাড়ের নেশায় বেঁধে ফেলতে পারে সহজেই।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যেতে হলে আসতে হবে সীতাকুন্ডে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোনো বাসে উঠে সীতাকুন্ড বাজারে আসতে হবে। ভাড়া পড়বে নন - এসি বাসে আনুমানিক ৫৮০ টাকা আর এসি বাসে ১১০০ টাকার মত। তারপর বাজার থেকে সিএনজি নিয়ে একেবারে ক্রমদীশ্বর মন্দিরের গেট, যেখান থেকে যাত্রা শুরু হবে।

এছাড়াও বাসে বা ট্রেনে চট্টগ্রাম এসে, লোকাল বাসে সীতাকুন্ড বাজার হয়ে আবার সিএনজি দিয়েও মন্দিরের গেটে যাওয়া যায়।

সীতাকুন্ডে থাকা খাওয়ার জন্য ভাল মানের হোটেল - রেস্টুরেন্টও আছে। চাইলে সেখানে থেকে সীতাকুন্ডের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানও খুব সহজেই ঘুরে আসা যাবে। তবে যেকোনো ভ্রমণে দলের সাথে আসার আনন্দটাই অন্যরকম!

অর্থী নবনীতা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত। 

aurthynobonita@gmail.com

 

Share if you like

Filter By Topic