করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসায় চট্টগ্রামে যক্ষা নির্ণয়ের পরীক্ষা বাড়ার পাশাপাশি শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ২০২১ সালে যক্ষা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২০৮৫৭ জন। এটা আগের বছরের তুলনায় ৬৭৪১ জন বা ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।
তবে যক্ষা নির্ণয়ের পরীক্ষার কারণে শনাক্তের হার বাড়ায় চিকিৎসা গ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়বে এবং সংক্রমণ কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য রোগীদের পুরো চিকিৎসা শেষ করার পরমার্শ তাদের।
‘বিনিয়োগ করি যক্ষা নির্মূলে, জীবন বাঁচাই সবাই মিলে’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার বিশ্ব যক্ষা দিবস পালিত হচ্ছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে ২০২১ সালে জেলায় মোট যক্ষা রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৮৫৭ জন। এর মধ্যে ক্যাটাগরি-১ রোগী ১৯ হাজার ৮৬৯ জন।
রোগীদের মধ্যে ১২ হাজার ৯০৩ জনের ফুসফুস আক্রান্ত হয়। একবার আক্রান্ত হয়ে আবারও আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৯৮৮ জন। ফুসফুস ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশে যক্ষা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ১৩৫ জন।
জেলায় যক্ষা শনাক্তের হার প্রতি লাখে ১৭৭ জন। ফুসফুস আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্তের হার প্রতি লাখে ১০৫ জন। শিশুদের মধ্যে যক্ষা শনাক্ত হয়েছে মোট ৯২৮।
চিকিৎসায় রোগীদের সুস্থতার হার ৯৬ শতাংশ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় যক্ষা ও অন্যান্য কারণে মারা গেছেন ২২৮ জন।
২০২০ সালে জেলায় যক্ষা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ১১৬ জন (লাখে ১২০ জন)। ২০১৯ সালে ছিল ১৯ হাজার ২৯৫ জন (লাখে ১৬৯ জন)।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, “কোভিড সংক্রমণের শুরুর দিকে অনেক রোগীই অসুস্থ বোধ করলেও হাসপাতালে বা ডাক্তারের চেম্বারে যেতে ভয় পেতেন। তাই ২০২০ সালে রোগী শনাক্তের হার কম ছিল।
“২০২১ সালে করোনা সংক্রমণ আগের তুলনায় কিছুটা কমায় পরীক্ষা বেড়েছে। এতে শনাক্তের সংখ্যাও বেড়েছে। এটা ইতিবাচক। কারণ রোগীরা চিকিৎসার আওতায় আসলে সংক্রমণ কমবে। তারাও সুস্থ হবেন।”
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব অনুসারে, ২০১৮ সালে জেলায় ১৮ হাজার ৬৭ জন, ২০১৭ সালে ১৫ হাজার ৫৩৫ জন এবং ২০১৬ সালে ১৪ হাজার ১৯ জন যক্ষা রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রোগ্রাম অর্গানাইজার গাজী মো. নূর হোসেন জানান, দেশে প্রতি লাখে গড়ে যক্ষা রোগীর সংখ্যা ২১৯ জন।
“চট্টগ্রামে ১ কোটি ১৭ লাখ ৭৯ হাজার মানুষের মধ্যে (নগরীতে ৬০ লাখ এবং উপজেলায় ৫৭ লাখ ৭৯ হাজার) রোগী হওয়ার কথা ২৫ হাজার ৭৯৬। জেলায় শনাক্তের হার লাখে ১৭৭ জন। কাজেই চট্টগ্রামের অবস্থা তুলনামূলক ভালো।”
গাজী মো. নূর হোসেন বলেন, “শহর এলাকায় রোগী বেশি। শহরে বস্তিতে যাদের বসবাস, তাদের অধিকাংশই স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় থাকেন। ফলে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই রোগের জীবাণু দ্রুত সংক্রমিত হয়। গ্রামে রোগী তুলনামূলক কম।”
দুই সপ্তাহের বেশি কাশি হলে কফ পরীক্ষা এবং যক্ষা শনাক্ত হলে নিয়মিত ও পূর্ণ কোর্স ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন তিনি।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, “বিনা মূল্যে কফ পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা আছে। শনাক্ত হলে চিকিৎসা শেষ করানো উচিত।
“অবশ্যই পুরো কোর্সে ওষুধ গ্রহণ ও পুরো চিকিৎসা শেষ করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে যক্ষা নিমূর্লে কাজ চলছে। তাই এখনই রোগী শনাক্ত হওয়া ভালো।”
যক্ষা রোগের চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণে জেলায় স্বাস্থ্য কর্মীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে (ডট্স) কর্নার আছে ৭৯টি। এরমধ্যে নগরীতে ৬৪টি এবং উপজেলাগুলোতে ১৫টি।
কফ পরীক্ষার কেন্দ্র আছে ৬৫টি। এর মধ্যে নগরীতে ২৭টি ও উপজেলায় ৩৮টি। এসব কেন্দ্রে গত এক বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৬ জনের কফ পরীক্ষা করা হয়।
