চট্টগ্রাম মেডিকেলে ‘ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি কেয়ার’ চালু


FE Team | Published: September 04, 2021 19:35:35 | Updated: September 05, 2021 11:12:24


চট্টগ্রাম মেডিকেলে ‘ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি কেয়ার’ চালু

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি কেয়ার (ওএসইসি) চালু হয়েছে।

শনিবার দুপুরে হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় সাংসদ মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা ওএসইসিতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে অসুস্থতার মাত্রার ভিত্তিতে প্রাথমিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা পাবেন।

এখানে থাকছে সেবা নিতে আসা রোগীদের ট্রিয়াজ, টিকেট কাউন্টার, ইএমও ও ওয়েটিং রুম।

জরুরি রোগী চিহ্নিত করে রিসাসসিটেশন, জরুরি ল্যাব পরীক্ষা, ইসিজি, এক্স-রে, সিটি স্ক্যান ও আলট্রসাউন্ড, টিকেট কাউন্টার, একিউট ট্রিটমেন্ট, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক সেবা, আন্তঃবিভাগে ভর্তি, বর্হিবিভাগে রেফার, ছাড়পত্র, মৃতদেহ সংরক্ষণ, জরুরি মেডিসিন ও শল্যসেবা এবং রোগী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে ওএসইসি থেকে।

আছে পৃথক মুক্তিযোদ্ধা কর্নার ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য ট্রান্সজেন্ডার কর্নার। সাধারণ (মাইনর) অপারেশন থিয়েটার। রোববার থেকে ১০০ শয্যার এই ইউনিটে সেবা কার্যক্রম শুরু হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল সাংবাদিকদের বলেন, দেশে আর কোনো সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এভাবে ওএসইসি হয়নি। খুব দরকারি এই ‍উদ্যোগকে ধরে রাখতে হবে।

কারণ এখানেই যদি আমরা রোগীদের প্রাথমিক স্ক্রিনিংটা সেরে ফেলতে পারি। তাহলে হাসপাতালে ভর্তির যে চাপ সেটা অনেকাংশে কমে যাবে। এখান থেকে অনেক রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা এমনকি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দিয়ে প্রয়োজনে ২৪ ঘণ্টা রেখে বাসিয়ে পাঠিয়ে দিতে পারব।

নওফেল বলেন, স্বাস্থ্যখাতে যে ব্যাপক বিনিয়োগ চলছে বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে তার মাধ্যমে এটা সম্পাদিত হয়েছে। এখানে জনবলের একটা চ্যালেঞ্জ আছে সেটা নিরসন করব শীঘ্রই।

এরআগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি কেয়ার স্বাস্থ্যসেবার অপরিহার্য অংশ। ঢাকা সিএমএইচে চার বছর ধরে এটা চলছে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে একটি পাইলট প্রজেক্ট আছে। তবে সরকারি পর্যায়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এটাই প্রথম।

ইমার্জেন্সি সার্ভিসের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ সেবা দিবেন সপ্তাহে সাতদিন, ২৪ ঘণ্টা। রোগী আসার সাথে সাথে ডায়গনসিস দ্রুততম সময়ে হবে। ইনডোরে যে চাপ (দৈনিক তিন হাজার রোগী থাকে) তা কমে এক হাজারে এ নেমে আসবে। রোগীরা পূর্ণ সন্তুষ্টি পাবেন কারণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাদের দেখবেন। ওষুধ নিয়ে বাসায় থাকতে পারবেন।

পরিচালক এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, সর্বোপরি দালালের দৌরাত্ম ৯০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। অনেক সময় ওষুধ পায় না রোগীরা। সরকার এত টাকা খরচ করে ওষুধ যায় কোথায়? এটা ভাঙতে হবে।

ওষুধের মিনি স্টোর ওয়ান স্টপে থাকবে। যখন কাগজে দেখি সাধারণ প্যারাসিটামাল রোগীদের কিনতে হয়, তখন লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে। ওএসইসিতে রোগীদের অভিযোগ সমাধানে একজন উপ-পরিচালক থাকবেন।

চমেক হাসাপাতালের বিদ্যমান জনবল দিয়েই ওএসইসি চালু হলেও এর জন্য আলাদা জনবলের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তা সমাধানের দাবি জানান পরিচালক।

ওএসইসিতে ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার, ইন্টার্নাল মেডিসিন, সার্জারি, অর্থপেডিক, হৃদরোগ, শিশু, নিউরো মেডিসিন ও আইসিইউ বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। পাশাপাশি রেডিওলজিস্ট ও প্যাথলজিস্টরা সেবা দেবেন।

এর জন্য প্রায় চার কোটি টাকার মেডিকেল যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছে চিটাগাং ক্লাব লিমিটেড।


তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে একটি সিস্টেম ডেভলপ হয়েছে বলে আজ সমাজ-রাষ্ট্রের সব সেক্টর এক সূত্রে কাজ করছে। চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে একসময় অপ্রতুলতা ছিল। প্রধানমন্ত্রী অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। ৩-৫ বছরে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্যে চট্টগ্রাম একটা জায়গায় পৌঁছাবে।

আমরা ব্যক্তি স্বার্থের জন্য পাবলিক ইন্টারেস্টে যদি আপোস করি তাহলে অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। সকল শ্রেণির মানুষ জরুরী সেবা যদি রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে পায় তাহলে সেবার মান বাড়বে। সেবা পেতে সমস্যা হলে মানুষ সেটা জানাবে। ফলে সেবার প্রাপ্যতা বাড়বে।

করোনার ক্রাইসিস মোমেন্টে চিকিৎসকদের অবদান স্মরণ করে নওফেল বলেন, আপানারা ও ব্যবসায়ী মহল যেভাবে এগিয়ে এসেছেন। এভাবেই ঐক্য তৈরি হয়। সমাজের জন্য যে বিনিয়োগ করছেন তা অব্যাহত রাখবেন। সামগ্রিক সাম্য তখনই সম্ভব হবে যখন ব্যক্তির অতিরিক্ত সম্পদ মানুষের কাজে ব্যবহার হবে।

চিটাগাং ক্লাবের চেয়ারম্যান নাদের খান বলেন, ওএসইসির জন্য জনবল চট্টগ্রামবাসীর দাবি। মেডিকেলের ইমার্জেন্সি সম্পর্কে অনেকের আস্থা নেই। এখন যে আয়োজন এই বার্তাটা তৃণমূলে গেলে মানুষ আগ্রহী হবে। নাগরিকদের প্রত্যেকের দেশের প্রতি দায়িত্ব আছে। সম্পদশালীদের সম্পদের উপর সাধারণের হক আছে।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষ সরকারি হাসপাতালে আসেন। এই উদ্যোগ তাদের খুব উপকারে আসবে। এ ধরণের ইনোভেশন শুধু সেবা দিবে না বেসরকারি খাতের রেগুলেটর হিসেবেও কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে চমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শাহেনা আক্তার, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মো. হাসান শাহরীয়ার কবীর, চিকিৎসক নেতা মুজিবুল হক খান, চমেক সার্জারি বিভাগের প্রধান আনোয়ারুল হক ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এম এ হাসান বক্তব্য রাখেন।

৩১৭০০ বর্গফুটের ওএসইসি নির্মাণ করা হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে। পূর্ত কাজ করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগ।

০৩১৬১৯৭৬১ নম্বর ওএসইসিতে যোগাযোগ করতে পারবেন সেবা প্রার্থীরা।

Share if you like