Loading...
The Financial Express

চট্টগ্রাম ও সিলেটে ‘টাকা হাতিয়ে’ নারায়ণগঞ্জে ধরা

| Updated: June 21, 2021 17:38:30


--গ্রেপ্তার মো. মনজিল --গ্রেপ্তার মো. মনজিল

ছিলেন মুদি দোকানি, সেখান থেকে বনে যান আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। চট্টগ্রাম-সিলেটে রীতিমত অফিস খুলে বসেছিলেন ঋণদানের জন্য। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।

 মাস খানেকের মধ্যে মানুষের কাছ থেকে জামানতের নামে নেওয়া ‘কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া’ মো. মনজিল নামের ৩৮ বছর এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রামের পুলিশ।

মনজিলের খোলা বিএসএম বিজনেস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল লজিস্টিক কোম্পানির বেশ কয়েকজন আগেই পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন। শনিবার গভীর রাতে মনজিলকে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা পুলিশ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে।

ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নগরীর শেখ মুজির রোডের আগ্রাবাদ সেন্টারে গত বছরের ১ জুন বিএসএম বিজনেস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল লজিস্টিক কোম্পানির অফিস খোলেন মনজিল ও তার সহযোগীরা।

“মানুষকে পাঁচ লাখ থেকে পাঁচ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে জামানত হিসেবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি উধাও হয়ে গিয়েছিলেন।”

ওসি জানান, এই ‘প্রতারণার’ জন্য অভিনব এক কৌশল নিয়েছিলেন মনজিল। ওই ভুয়া কোম্পানিতে তিনি বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ দিয়েছিলেন, বলেছিলেন, এক লাখ টাকা ঋণ দিতে পারলে মূল বেতনের পাশাপাশি এক হাজার টাকা করে কমিশন দেওয়া হবে।

“নিয়োগপ্রাপ্তরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে পাঁচ কোটি টাকায় পাঁচ লাখ টাকা সুদের প্রলোভন দেখিয়ে ঋণের জামানত আদায় করেছিলেন। কিন্তু কোম্পানি খোলার দেড় মাসের মধ্যে ২১ জুলাই হঠাৎ ওই অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি চাকরি নেওয়া কর্মীরাও বিষয়টি আগে জানতে পারেননি।”

ওসি মহসিন বলেন, মনজিল উধাও হয়ে যাওয়ার পর তার কোম্পানিকে চাকরি নেওয়া লোকজন বিপাকে পড়ে যায়। জামানত দেওয়া লোকজন তাদের এসে ধরে। তখন এরিয়া ম্যানেজারসহ বিভিন্ন পদে চাকরি নেওয়া কয়েকজন ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন মনজিল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

কোম্পানির কার্যক্রম মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করতে বোর্ড মেম্বার ও অর্গানোগ্রাম তৈরি করে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছিল অফিসে। চট্টগ্রামে ২৮ জনকে ঋণ দেওয়ার কথা মনজিল ২০ লাখ ৫১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

ওসি বলেন, “চট্টগ্রাম থেকে ব্যবসা গুটিয়ে সিলেটেও একই কায়দায় একটি অফিস খুলেছিলেন মনজিল। সেখানে ১৫ দিনের মাথায় অফিস বন্ধ করে গ্রাহকের জামানতের টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।”

তখন সিলেটে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয় এবং ওই কোম্পানির কয়েকজন পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তবে মনজিল ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

চট্টগ্রাম ও সিলেটে ‘প্রতারণা’ করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিভিন্ন কোম্পানির ডিলারশিপ নিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেন কয়েক মাস আগে। সেই খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনজিল পুলিশকে বলেছেন, তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি তিনি পার হতে পারেননি।

এক সময় নিজের গ্রামে তিনি মুদি দোকান চালাতেন। কিন্তু ব্যবসা দাঁড় করাতে না পেরে ঢাকায় গিয়ে একটি ট্র্যাভেল এজেন্সিতে পিয়নের কাজ নেন।

সেখানে কাজ করার সময় মনজিলের সঙ্গে এক জনশক্তি রপ্তানিকারকের পরিচয় হয়। তার পরামর্শেই মনজিল ওই বিএসএম বিজনেস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল লজিস্টিক কোম্পানি খুলে প্রতারণা জাল পাতেন বলে পুলিশের ভাষ্য। 

মনজলিকে রোববার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আদালত পরবর্তীতে শুনানির দিন নির্ধারণ করে মনজিলকে কারগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে বলে জানান ওসি মহসিন।

 

Share if you like

Filter By Topic