ঘরের যান্ত্রিক বন্ধুদের যত্নে


শবনম জাবীন চৌধুরী | Published: November 20, 2021 15:18:25 | Updated: November 20, 2021 18:50:04


ঘরের যান্ত্রিক বন্ধুদের যত্নে

যন্ত্র, যান্ত্রিক, যান্ত্রিকতা- ঘরে বাইরে এ যেন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যন্ত্র যেন মানুষের একরকম বন্ধুই হয়ে উঠেছে। নিত্যদিনের ঘর-গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক পণ্যসমূহ আমাদের জীবনযাত্রাকে অনেক সহজ করে তুলেছে। আমরা এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি যে যদি এই পণ্যসমূহ একদিনের জন্য বিকল বা অকেজো হয়ে পড়ে তাহলে তা আমাদের বিরাট সমস্যায় ফেলে দেয়।

মানবসৃষ্ট এই যন্ত্রগুলো বিকল হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। তবে সঠিকভাবে যত্ন নিলে এবং ব্যবহার করলে পণ্যগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার উপযোগী থাকে। আজকের এই লেখায় আমরা কিছু টিপস আপনাদের সাথে শেয়ার করবো যেগুলো মেনে চললে আমাদের বাড়ি-ঘরে ব্যবহৃত নিত্য ইলেকট্রনিক পণ্যসমূহ অনেকদিন ভালো থাকবে।

রেফ্রিজারেটর

রেফ্রিজারেটরে কখনোই একসাথে প্রচুর খাবারদাবার রাখা উচিত নয়। এতে করে অতিরিক্ত খাবার ঠান্ডা ও সতেজ রাখার জন্য কম্প্রেসারের উপর বাড়তি চাপ পড়ে।

রেফ্রিজারেটরের কনডেনসার কয়েল অবশ্যই নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। রেফ্রিজারেটরের অভ্যন্তরের গরম হাওয়াকে বাইরে বের করে ভিতরের পরিবেশটাকে শীতল রাখার কাজটাই করে থাকে এই কয়েলগুলো। এই কয়েলগুলোর উপর অনায়াসেই ধুলাবালি জমে যায়। একটি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার নিয়ে এর মাথায় সাথে থাকা ব্রাশ যুক্ত করে নিয়ে খুব সহজেই ধুলাবালিগুলো পরিষ্কার করে ফেলতে পারেন।

রেফ্রিজারেটরের দরজার গায়ে লাগানো রাবার সিলগুলো বাইরের গরম বাতাসকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয় না। তবে সময়ের সাথে এগুলো দুর্বল হয়ে যায় এবং জায়গায় জায়গায় ফেটে যায়। এই রাবার সিলগুলো দীর্ঘদিন ভালো রাখতে পেট্রোলিয়াম জেলির একটি প্রলেপ দিয়ে রাখতে পারেন

মাইক্রোওয়েভ ওভেন

খাবার গরম করার সময় কখনোই কোন ধাতব পাত্র বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের মোড়কসহ দেওয়া যাবে না। এতে করে খুব সহজেই ভেতরে আগুন ধরে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটে যায়। ঢাকনা বন্ধ অবস্থায় কোন পাত্রে খাবার বা পানীয় দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

বন্ধ অবস্থায় আপনি চাইলে আপনার শখের মাইক্রোওয়েভটি ঢেকে রাখতেই পারেন, তবে খাবার গরম করার পূর্বে উপরের কাভারটি খুলে ফেলুন

মরিচা ও দুর্গন্ধ রোধে প্রতিবার খাবার গরম শেষে মাইক্রোওয়েভের ভেতরে লেগে থাকা খাবার ও খাবারের দাগ পরিষ্কার করে মুছে ফেলুন।

এয়ার কন্ডিশনার

আপনার ঘরকে শীতল রাখতে যে যন্ত্রটি কাজ করে থাকে তার দুটো প্রধান অংশ থাকে- একটি হচ্ছে কনডেনসার যা ঘরের বাইরে রাখা হয়; আরেকটি ইভ্যাপরেটর কয়েল

ইভ্যাপরেটর কয়েলের উপরিভাগের আবরণটি মাঝে মাঝে খুলে দেখতে হবে যে সেখানে কোন ময়লা জমেছে কিনা। যদি ধুলাবালি জমে থাকে তাহলে তা আপনি একটি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়েই খুব সহজে পরিষ্কার করে ফেলতে পারবেন। আর যদি সেখানে বরফ জমে যায় তাহলে বুঝতে হবে মেকানিক্যালি কোন একটি সমস্যা হয়েছে এবং অতিসত্বর একজন দক্ষ মেকানিকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে আপনাকে।

আর কনডেনসারের ক্ষেত্রেও নিয়মিত চেক করা জরুরি যাতে সেখানেও কোন ধরনের ময়লা জমে না থাকে।

ওয়াটার হিটার

ওয়াটার হিটার বা গিজার ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় নিয়মিত খেয়াল রাখতে হয়। পানিতে উপস্থিত খনিজ ও ক্যালসিয়াম ওয়াটার হিটারের প্রেসার রিলিফ ভালোভের মধ্যে জমা হতে হতে একসময় ভালোভটি আটকে যায়। এহেন ঝামেলা এড়ানোর জন্য বছরে কয়েকবার ভালোভটি খুলে পরিষ্কার করতে হবে।

অনেক সময় দেখা যায় যে ওয়াটার হিটারের সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও আপনি ঠিকমতো গরম পানির সরবরাহ পাচ্ছেন না, এর একটাই কারণ হতে পারে যে এর ডিপ টিউবটিতে মরিচা পড়েছে এবং ভঙ্গুর হয়ে গিয়েছে; এমতাবস্থায় ডিপ টিউবটি পরিবর্তন করাই শ্রেয়।

ব্যবহার শেষে প্রতিবারই ওয়াটার হিটারের সম্পূর্ণ পানি শেষ করে ফেলতে হবে নতুবা ট্যাংকের তলায় অধঃক্ষেপ জমা হবে।

ওয়াশিং মেশিন

ওয়াশিং মেশিনে ভারী বা অনেক বেশি কাপড়চোপড় একসাথে না ধোয়াই শ্রেয়, নতুবা এই যন্ত্রের আয়ুষ্কাল দ্রুত কমে যাবে।

কাপড় ধোয়ার সময় বিশেষত যেসব মেশিনে পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ থাকে না সেসব ওয়াশিং মেশিনে অধিক ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা যাবে না। অতিরিক্ত ডিটারজেন্ট ব্যবহারের ফলে মেশিনের ভেতরের দিকে একটি পাতলা আস্তর পড়ে যায় যেখানে খুব সহজেই ছত্রাক বংশবৃদ্ধি করতে পারবে।

প্রতি সপ্তাহে অন্ততপক্ষে একদিন মেশিনের ভেতরের ড্রামটি ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে পরিষ্কার করতে হবে যাতে ডিটারজেন্টের কোন অবশিষ্ট বা কাপড়ের সুতা আটকে না থাকে। কাপড় ধোয়া শেষ হলে ওয়াশিং মেশিনের দরজাটি কিছুক্ষণের জন্য খোলা রাখতে হবে যাতে করে ভেতরের ভেজা ভাবটা চলে যায়।

শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।

zabin860@gmail.com

Share if you like