Loading...

ঘরে বন্দী ঈদ ও শিশুদের উদযাপন

| Updated: July 24, 2021 13:38:23


ফাইল ছবি ফাইল ছবি

সকালে ঘুম থেকে উঠেই নতুন পোশাক পরা, বাবার সাথে ঈদের নামাজ পড়তে ঈদগাহে যাওয়া আর নামাজ থেকে ফিরে ঈদি সংগ্রহের জন্য বাড়ির বড়দের নিয়ে নানা আত্মীয়ের বাসায় ঘুরে বেড়ানো– এ যেনো এদেশের গড়পড়তা সব শিশুরই ঈদের দিনের চিত্র। কিন্তু ২০২০ সাল থেকে এই চিত্রপটে এসেছে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন। করোনা মহামারি সবকিছুর সাথে সাথে শিশুদের ঈদের আনন্দও যেনো কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে।

মহামারির কারনে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চিত্রপটে এসেছে পরিবর্তন, তবে এই পরিবর্তনের রেশটা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি লেগেছে শিশু-কিশোরদের জীবনে। স্কুল বন্ধ সেই ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে,  লকডাউনের কারণে বাড়ির বাইরে যাওয়াও দুরূহ। তাই শিশুরা এখন গৃহবন্দীই বলা চলে। এই গৃহবন্দী জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো তারা পালন করলো ঈদ-উল-আযহা।

এবারের কোরবানির ঈদ কেমন গেল, তা জানতে চাইলে ৮ বছরের ছোট্ট শিশু সামিত মুফলিহুন জানাল তার অনূভুতি। সে হার্ড কো ইন্টারন্যাশনালের ক্লাস ওয়ানের ছাত্র। এবার কোরবানি ঈদ পালন নিয়ে সে খুব খুশি, আগেরবার লকডাউনের কারণে তার নিজ বাড়িতে গৃহবন্দী অবস্থায় ঈদ করতে হয়েছে। কিন্তু এবার ঈদের আগে লকডাউন শিথিল হওয়ায় সে বাবা-মার সাথে খালার বাড়িতে ঈদ করতে এসেছে।  যদিও করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারনে তার আগেকার মতো ঈদের দিন কোনো রেস্তোরাঁ বা পার্কে ঘুরতে যাওয়া হয়নি, তবে খালাতো ভাইবোনের সাথে ঈদ করতে পেরেই সে খুব খুশি।

১২ বছরের অর্ক (ছদ্মনাম) ঢাকার রামপুরার বাসিন্দা, গতবারের মতো এবারো সে ঢাকা থেকে দাদাবাড়ি শেরপুরে যেতে পারেনি করোনা মহামারির জন্য। তবে ঈদের দিন সে বাবার সাথে ঈদের নামাজ পড়তে সকালে মসজিদে গেছে, দিনের বাকি অংশ কাটিয়েছে ফোনে খালাতো, ফুপাতো ভাইবোনদের ভিডিও কলের মাধ্যমে। অর্ক ঈদের দিন বন্ধুদের সাথে দেখা করাটা খুব মিস করে আর এবার বাড়িতে কোরবানি হয়নি বিধায় ওর মনও খানিকটা খারাপ ছিল। তবে মায়ের হাতে রান্না করা পছন্দের খাবার আর বিকাশের মাধ্যমে পাওয়া ঈদের সালামি তার ঈদের দিনটিকে যথেষ্ট রঙিন করে তুলেছে বলে সে জানিয়েছে।

বালুখালী আইডিয়াল কে জি স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী শায়লা আফরিন সুমাইয়ার সাথে কথা বলে জানা যায় তার এবারের গৃহবন্দী ঈদের অভিজ্ঞতা। সুমাইয়া আক্ষেপ করে বলে, “প্রত্যেকবার ঈদে বাইরে ঘুরতে যেতে পারলেও এবার ঘরেই থাকতে হয়েছে, সালামিও পাইনি। ঈদের আগে লকডাউন থাকার কারণে পছন্দমত জামাও কিনতে পারিনি।” এসব কারণে ছোট্ট সুমাইয়ার মন ঈদের দিন কিছুটা খারাপ ছিল। সুমাইয়া চায়, তাড়াতাড়ি যাতে করোনা মহামারি চলে যায় আর সে আগের মতো করে সবার সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে।

বরাশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী সামিহা শিকদার। বয়স আটের কাছাকাছি। কোরবানি দেখতে পেরে ছোট্ট সামিহার মনে আনন্দ থাকলেও ঈদের দিনে বাড়ির বাইরে বের হতে না পারা তার সেই আনন্দকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে। লকডাউনের কারণে এবার সে হাতে মেহেদিও পরতে পারেনি। সামিহার কাছে তার ঈদের দিন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সে জানায়, “লকডাউনের আগের ঈদে খেলনা কিনতে পেরেছি, বাইরে খেতে যেতে পেরেছি, এখন শুধু বাসায় থাকতে হয়।”

তবে গৃহবন্দী থাকলেও সামিহা এবার ঈদের দিন পরিবারের সবার সাথে মিলিয়ে একইরকম পোশাক পরেছে আর খেয়েছে নিজের পছন্দের খাবার। আগামীর ঈদ কীভাবে কাটাতে চায়, জানতে চাওয়া হলে সামিহা জানায়, “এর পরের ঈদে যাতে বাইরে ঘুরতে যেতে পারি, বন্ধুদের সাথে খেলতে পারি।”

করোনা মহামারির করাল গ্রাসে হয়তো শিশুদের ঈদ উদযাপনের গতানুগতিক চিত্রে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু তা মোটেও শিশুমনে ঈদ উৎসবের সামগ্রিক আনন্দকে ম্লান করতে পারেনি। কেউ হয়তো বাবার সাথে কোরবানির হাটে যেতে পারেনি, কেউবা নানা/দাদাবাড়িতে ঈদ করতে যেতে পারেনি। কিন্তু তাতে করে নিজ পরিবারের সবার সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়নি। ভাইবোনদের সাথে খুনসুটি, পছন্দের খাবার আর আপনজনদের সঙ্গের মধ্যেই তাই এবার শিশুরা খুঁজে নিয়েছে নিজেদের ঈদ আনন্দ। 

তৌসিফা ফারহাত বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এম এ শিক্ষার্থী। tousifa1995@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic