Loading...
The Financial Express

গ্যাস বন্ধ: লাকড়ির চুলায় ঈদের মেহমানদারি

| Updated: May 05, 2022 16:05:38


গ্যাস বন্ধ: লাকড়ির চুলায় ঈদের মেহমানদারি

ঈদের রাত থেকে পাইপলাইনের গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অতিথি আপ্যায়নে খাবার তৈরি করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাভার, আশুলিয়া, মানিকগঞ্জ ও রাজশাহী বিভাগের চার জেলার গ্রাহকদের।

গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানিগুলো আগে থেকে সতর্ক করলেও অনেকেই তা যথাসময়ে জানতে পারেননি বলে ভোগান্তিতে পড়ার কথা অভিযোগ আকারে জানিয়েছেন অনেকে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

আগে থেকে না জানার কারণে তাদের কাছে রান্নার গ্যাস চলে যাওয়াটা ছিল আকস্মিক। ফলে এসব এলাকার খাবারের কষ্টে পড়েছেন অনেকেই।

গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) জানায়, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা-যমুনা (বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত) জিটিসিএল-৩০ ইঞ্চির ব্যাসের একটি পাইপে সংস্কার এবং গাজীপুরে দুটি স্থানে বাল্ব প্রতিস্থাপনের জন্য মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য ঢাকার আমিন বাজার, হেমায়েতপুর, সাভার, সাভার ইপিজেড, আশুলিয়া, মানিকগঞ্জ, ধামরাই এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে রাজশাহী বিভাগের কয়েকটি জেলায় একই সময় গ্যাস বন্ধ রয়েছে।

সাভার এলাকার গৃহিণী রোকসানা আক্তার বলেন, নিয়মিত গ্যাস পেলেও ঈদের পরের দিন সকালে রান্না করতে গিয়ে দেখি চুলা জ্বলছে না। আত্মীয়-স্বজন আসবে, ভালো কিছু রান্না করতে হবে। কিন্তু বুঝতে পারছি না কি করব। ফ্ল্যাট বাসায় থাকার কারণে বিকল্প ব্যবস্থাও করতে পারছি না।

 “হোটেল রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় মিষ্টান্ন তো দূরের কথা নিয়মিত খাবার দাবারই কঠিন হয়ে পড়েছে।“

গ্যাস বন্ধ থাকার নোটিস সম্পর্কে কিছুই শোনেননি বলে জানান তিনি।

৪৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকছে না ঢাকার একাংশ ও রাজশাহীতে 

আশুলিয়া এলাকার হযরত আলী জানান, ঈদের সময়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে লাইনে কাজ করা মোটেও ভালো কাজ নয়। এটা মানুষদের কষ্ট দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।

ভাদাইল এলাকার বাসিন্দা রেশমি আক্তার জানান, ঘোষণার বিষয়টি আগে থেকে জানতে পারায় বিকল্প হিসেবে ইট দিয়ে চুলা বানিয়েছেন।

 “কিন্তু আজ বাসায় মেহমান আসছে, তাদেরকে ভাল মন্দ রান্না করে খাওয়াতে হবে। কিন্তু গ্যাস না থাকায় অনেক কষ্ট হচ্ছে। মনের মতো করে রান্না করতে পারছি না। এই সময়ে গ্যাস বন্ধ রাখা ঠিক হয়নি,” অনুযোগ তার।

সাভারের গৃহিণী আনোয়ারা বেগম, পোশাক শ্রমিক সাহিদা বেগমসহ অনেকেই জানান, সকাল থেকেই গ্যাস বন্ধ। বিকল্প ব্যবস্থায় ইট দিয়ে চুলা বানিয়ে কোনো রকমে লাকড়ি এনে রান্না বসাইছি।

তবে ঈদের ছুটির কারণে ও পূর্ব প্রস্তুতি থাকায় সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে গ্যাস নিয়ে তেমন জটিলতার খবর আসেনি।

দুর্ভোগে রাজশাহীর ৪ জেলা

গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও পাবনা জেলায় একই রকম ভোগান্তিতে পড়েছেন গৃহিণীরা বলে প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

রাজশাহী নগরের সাগরপাড়ার গ্রাহক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঈদের মধ্যে রান্নার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে মুশকিলে পড়তে হয়। অনেককেই সিলিন্ডার গ্যাস ও চুলার ব্যবস্থা করতে হয়েছে। দুদিনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে গুনতে হয়েছে কয়েক হাজার টাকা।

পাবনা শহরের দিলালপুর কফিলউদ্দিন পাড়ার বাসিন্দা উৎপল মির্জা বলেন, ঈদে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মজীবী মানুষ পৈত্রিক বাড়িতে আসেন। এবার গ্যাস না থাকায় খাওয়া দাওয়া নিয়ে বিড়ম্বনার পড়তে হয়েছে বেশিরভাগকে।

তার সন্দেহ, “শুধু ওভারটাইম বিল করতেই গ্যাসের লোকজন ঈদের সময় এ হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন”।

পাবনা শহরের পৈলানপুর মহল্লার তপু আহমেদ বলেন, “ঈদের রাত থেকে খুবই কষ্টের মধ্যে রান্নাবান্নার কাজ করতে হচ্ছে। তার উপর বাসায় টাঙ্গাইল থেকে ভায়রা ভাই এসেছেন। কী যে মসিবতের মধ্যে রয়েছি, শুধু আমরাই বুঝতে পারছি।“

লাইব্রেরি বাজার চামড়ার গুদাম এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ নুজহাত নূর তুষ্টি বলেন, ঈদের রাতের রান্না করতে কষ্টের কথা কী আর বলবো! ছাদে ইট দিয়ে কোনোভাবে চুলা তৈরি করে যেনতেন ভাবে রান্না করেছি।

 “পরে স্বামী সন্তানসহ যশোরে বাপের বাড়ি চলে এসেছি শুধু গ্যাস কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালী সিদ্ধান্তের কারণে।“

Share if you like

Filter By Topic