গোলা পড়ছে কিয়েভে, প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশিরা বাংকারে


FE Team | Published: February 25, 2022 10:30:12 | Updated: February 25, 2022 14:16:45


গোলা পড়ছে কিয়েভে, প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশিরা বাংকারে

যুদ্ধের কারণে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের পোল্যান্ড হয়ে ফেরানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে পরারাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানালেও বাস্তবে ইউক্রেইনেই থাকতে হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের।খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

আর তাই রাশিয়ার বিমান আক্রমণ থেকে রাজধানী কিয়েভে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, আকাশ পথে যে কোনো মুহূর্তে হামলার আশঙ্কায় তারা বাংকারে আশ্রয় নিয়েছেন।

গত কিছু দিন ধরে যুদ্ধের দামামার পর বৃহস্পতিবার রাশিয়ার বাহিনী ইউক্রেইনের উপর স্থল ও আকাশ পথে হামলা শুরু করেছে। রাজধানী কিয়েভেও গোলাবর্ষণ হচ্ছে।

ইউক্রেইন প্রবাসী মাহবুব পারভেজ কিয়েভের দ্রুজভি নারোডিভ এলাকা থেকে রাতে টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সকালে বিকট শব্দে ঘুম ভাঙার পরই জানতে পারি রাশিয়া আক্রমণ করেছে। যে এলাকায় ছিলাম, সেখান থেকে তখনই অন্য এলাকায় এসে আশ্রয় নিই।

এই মুহূর্তে এয়ারস্ট্রাইক শুরু হয়েছে বলে খবরে দেখতে পাচ্ছি। নিজ নিজ বাড়িঘর ছেড়ে আমরা বাংলাদেশিরাও বাংকারে অবস্থান নিচ্ছি।

কিয়েভের ত্রোয়েশ্চাইনা এলাকায় সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি থাকেন জানিয়ে মাহবুব বলেন, তাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ হচ্ছে। সবাই খুব আতঙ্কে আছেন। কমবয়সী মানে যাদের বয়স ১৮ বা ১৯, তারা ফোন দিয়ে কান্নাকাটি পর্যন্ত করেছেন।

রাশিয়া সীমান্তবর্তী খারখিভ শহরের বাসিন্দা সাজু সরদার সাজু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সকালে ঘুম ভেঙেছে বোমার আওয়াজে। আমার বাসার থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে এয়ারপোর্টে বোমা ফেলেছে রাশিয়ানরা।

রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে গেছে। বাজারঘাট করে কেবল ফিরেছি। আমার বাসা বহুতল ভবনে হওয়ায় স্ত্রী ও সন্তানকে বাংকারে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমি অবশ্য বাসা ছাড়িনি। বিমান হামলার ঝুঁকি সত্ত্বেও বাসা ফাঁকা রাখতে পারছি না।

প্রায় ৩০ বছর ধরে ইউক্রেইনে থাকা এই গার্মেন্টস পণ্যের ব্যবসায়ী বলেন, আবার ব্যবসা বাণিজ্য সব এইখানে বলে পোল্যান্ডও যেতে পারছি না। আমার পরিচিত দুই পরিবারের একটি আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে পোলান্ডের উদ্দেশে এবং অপরটি জার্মানির উদ্দেশে শহর ছেড়েছে বলে জেনেছি।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউক্রেইনের বিভিন্ন শহরে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা আটকে পড়েছেন। তারা উদ্ধারের আকুতিও জানাচ্ছেন। এদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী।

দেশটিতে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস না থাকায় তাদের সহায়তা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেছেন, ইউক্রেইনে থাকা বাংলাদেশিরা পাশের দেশ পোল্যান্ডে পৌঁছতে পারলে তাদের থাকা ও ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবে সরকার।

মাহবুব বলেন, আমার জানা মতে, খুব কম প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীই ইউক্রেইন ছাড়তে পেরেছে।

ইউক্রেইনের কিয়েভ থেকে পোল্যান্ড সীমান্তের দূরত্ব পাঁচশ কিলোমিটারের মতো। এখন সেখানে বিমান চলাচল বন্ধ। স্থলপথে যানবাহন চলাচলও স্বাভাবিক নয়।

এই পরিস্থিতিতে পোল্যান্ড যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে জানিয়ে মাহবুব বলেন, টাকা পাঠানো জটিল বলে এই পরিস্থিতিতে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর হাতে টাকাও নেই যে পোল্যান্ড পর্যন্ত যাবে।

ইউক্রেইনের যে দিকে পোল্যান্ড, তা বিপরীত দিকে ১ হাজারের বেশি কিলোমিটার দূরের মারিওপোলেও কিছু বাংলাদেশি রয়েছে বলে খবর মিলেছে।

মাহবুব বলেন, পোল্যান্ড পর্যন্ত যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। গোলাগুলি চলছে।

তিনি জানান, ভারতীয় দূতাবাস সে দেশের নাগরিকদের বাসে করে পোল্যান্ড সীমান্তে নিয়ে যাচ্ছে।

ইউক্রেইনে খারকভ শহরের বাসিন্দা সাজু সরদার প্রায় ৩০ বছর ধরে দেশটিতে রয়েছেন। খারখিভে থাকা সাজু বলেন, আমরা এখানকার নাগরিক বলে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করি নাই। যতটা জানতে পেরেছি, পোল্যান্ডে থাকা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে বাংলাদেশিরা ব্যর্থ হয়েছে।

তবে পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুলতানা লায়লা হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ইউক্রেইন থেকে অনেকে ইতোমধ্যে পোল্যান্ডে চলে এসেছেন।

যে যেদিকে পারছে বর্ডারের দিকে চলে যাচ্ছে। আজ (বৃহস্পতিবার) রাত পর্যন্ত বাংলাদেশির সংখ্যা ৬০০ পেরিয়ে গেছে। তিনটি গ্রুপ করা হয়েছে। অন্য বাংলাদেশিদের খোঁজ পেতে আইওএম এবং রেডক্রসের সাথে যোগাযোগ করছি আমরা।

জ্বালানি সঙ্কটের কারণে ইউক্রেইনে বাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটার কথা শুনেছেন বলে জানান ওয়ারশতে থাকা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।

যারা পোল্যান্ডে পৌঁছাচ্ছেন, তাদের বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন লায়লা।

দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করবেন অথবা কাছাকাছি যারা ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করছে, তাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।

এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, পোল্যান্ড দূতাবাস থেকে গত তিন-চার দিন ধরে ইউক্রেইনে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের সঙ্গে নিয়মিত ভার্চুয়াল বৈঠক হচ্ছে।

জরুরি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতালি ও জার্মানি থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ওয়ারশ দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Share if you like