গণফোরামের দুই পক্ষে মারামারি, আহত ১৫ জন


FE Team | Published: March 12, 2022 17:10:13 | Updated: March 13, 2022 14:11:38


গণফোরামের দুই পক্ষে মারামারি, আহত ১৫ জন

জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সময়ে গণফোরামের দুই পক্ষের কর্মসূচির মধ্যে মারামারিতে আক্রান্ত হয়েছে একাংশের কাউন্সিল।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন অংশের কাউন্সিল শুরু হয়।

অন্যদিকে মোস্তফা মহসিন মন্টু নেতৃত্বাধীন অংশের মানববন্ধনের কর্মসূচি ছিল প্রেস ক্লাবের সামনে।

দুপুরে মন্টু নেতৃত্বাধীন অংশের নেতা-কর্মীরা কামাল নেতৃত্বাধীন অংশের কাউন্সিলে ঢুকে পড়লে মারামারি বাঁধে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

কাউন্সিলে থাকা গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি মোকাব্বির খান অভিযোগ করেছেন, গণফোরাম থেকে বহিষ্কৃতরা পরিকল্পিতভাবে তাদের উপর হামলা চালায়।

সংসদ সদস্য মোকাব্বিরসহ প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গণফোরামের অপর অংশের নেতা মন্টু। তিনি বলেছেন, তার অনুসারী কেউ ওই কাউন্সিলে ঢোকেনি।

২০১৯ সালে গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিলের পর দলটিতে কোন্দল চলছে। এক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারও চলে।

এখন কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একাংশ চলছে, যাতে নির্বাহী সভাপতি মোকাব্বির। অন্যদিকে মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, আবু সাইয়িদের নেতৃত্বে চলছে আরেক অংশ।

এর মধ্যেই কামাল নেতৃত্বাধীন অংশ কাউন্সিলের ঘোষণা দিয়ে শনিবার তা আয়োজন করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে মন্টু নেতৃত্বাধীন অংশেরন নেতা-কর্মীরা প্রেস ক্লাবের বাইরে মানববন্ধনের পর স্লোগান দিতে দিতে মিলনায়তনে ঢুকে পড়ে। তারা মোকাব্বির খানকে সরকারের দালাল আখ্যায়িত করে স্লোগান দেয়।

এরপর দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। মঞ্চ থেকে নেমে এসে থামাতে গেলে প্রতিপক্ষের ছোড়া চেয়ারের আঘাতে জখম হন মোকাব্বির।

পরে প্রেস ক্লাবে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার পরিদর্শক শেখ আবুল বাশার বলেন, গণফোরামের একটি অংশ প্রেস ক্লাবের অডিটরিয়ামে কাউন্সিল করতেছিল, আরেক অংশ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে।

কিছুক্ষণ পরে হট্টগোল দেখে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিত শান্ত করেছি। সেখানে দুই পক্ষই উপস্থিত ছিল।

কতজন আহত হয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা কাউন্সিল করেছে তাদের দাবি অনেকেই আহত হয়েছে। আসলে কতজন আহত হয়েছে বা কতজন হাসপাতালে, তা দেখতে হবে।

সংঘর্ষের পর প্রেস ক্লাব মিলনায়তন থেকে বেরেয় মোকাব্বির সাংবাদিকদের বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিল আয়োজন করেছি। এটা পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি।

কিন্তু কিছু দুষ্কৃতকারী কাউন্সিলে হামলা করে আমাকেসহ আরও অনেককে আহত করেছে। এটা গণতন্ত্রের উপর হামলা। গণফোরাম থেকে বহিষ্কৃতরা এই হামলা চালিয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে গণফোরামের অপর অংশের নেতা মোস্তফা মহসিন মন্টু টেলিফোনে বলেন, আমি একটি ব্যক্তিগত কাজে বাইরে আছি, আমাদের সুব্রত চৌধুরীসহ জ্যেষ্ঠ নেতার কেউ প্রেস ক্লাবে আজ যায়নি। আমাদের মহানগরের কমিটি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধনের আয়োজন করেছে। সেখান থেকে তারা প্রতিবাদ সমাবেশ শেষ করে চলে এসেছে।

মোকাব্বিরের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, আমদের লোকজন কেন ওদের কাউন্সিলে যাবে? এই পর্যন্ত তারা বহু প্রোগ্রাম করেছে, আমাদের লোকজন তো যায়নি, আজকে কেন যাবে?

গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কামাল হোসেন প্রেস ক্লাবে ছিলেন না।

কাউন্সিল আহ্বানকারীদের সঙ্গে কামাল হোসেনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন মন্টু।

আজকে যারা কাউন্সিলের আয়োজন করেছে ড. কামাল হোসেন তো তাদের সঙ্গেও নেই। তিনি তো আমাদের চিঠি দিয়েছেন।

Share if you like