খোকনের বিষয়ে তদন্ত ‘প্রভাবিত হয়ে নয়’: দুদক


FE Team | Published: June 29, 2021 19:37:55 | Updated: June 30, 2021 10:06:27


খোকনের বিষয়ে তদন্ত ‘প্রভাবিত হয়ে নয়’: দুদক

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর মাধ্যমে হয়রানির যে অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন তা অস্বীকার করেছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার বিকালে এই বিষয়ে দুদক সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, দুদক স্বাধীন সংস্থা, তারা কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাজ করে না, নিজের প্রয়োজনে অনুযায়ী কাজ করে।

দুদকের আবেদনে আদালতের আদেশে ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) হওয়ার পর সাঈদ খোকন এজন্য বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে দুষেছেন। দুদকের মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন খোকন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।

মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসে সাবেক মেয়র খোকন অভিযোগ করেন, মেয়র তাপস নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তাকে হয়রানি করছেন।

এরপর বিকেলে এই বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে দুদক সচিব বলেন, এই রকম কোনো বিষয় নেই।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুদক সব সময় সবার স্বার্থ রক্ষা করে কাজ করে। প্রয়োজন হলে তার স্বার্থ রক্ষা করবে।

দুদক মানুষকে অযথা বা একচেটিয়া, একদিক থেকে কোনো কিছু করে না।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের শুরু থেকেই অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। এই অভিযোগে ইতোমধ্যে মেয়র থাকাকালীন সময়ে তার পিএস ও এপিএসকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন কমিশনের কর্মকর্তারা।

সাঈদ খোকনকে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা আছে কিনা, এমন প্রশ্নে দুদক সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, তদন্তকারী অফিসার প্রয়োজন মনে করলে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন।

সাবেক মেয়রের অবরুদ্ধ আটটি ব্যাংক হিসাবে কত টাকা রয়েছে সেই বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি।

দুদক সচিব বলেন, আটটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হল- শাহানা হানিফের নামে দুটি, একটি সিটি ব্যাংক, একটি এক্সিম ব্যাংক লিমিটেডে। ফারহানা আলমের নামে একটি, তারপর সাঈদ খোকন প্রপার্টিজ লিমিটেড নামে সিটি ব্যাংকে, ফোর এ প্রাইভেট লিমিটেডের নামে ন্যাশনাল ব্যাংকে, মেসার্স এইচ এম এস করপোরেশনের নামে সিটি ব্যাংক বনানী শাখা এবং ফাতেমা খাতুনের নামে ব্যাংক এশিয়া বনানী শাখায় একটি। এই আট অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।

দুদুকের আবেদনে আদালত এগুলো অবরুদ্ধ করেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, একাউন্টগুলো ফ্রিজ থাকবে। মনে করা হচ্ছে যে, অতীতে বেশ টাকা পয়সার অস্বাভাবিক লেনদেন আছে। ভবিষতে সেখান থেকে টাকা-পয়সা.. ইয়ে হয়ে যেতে পারে বিভিন্নভাবে।

অনুসন্ধানের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদন করেছেন এবং আবেদন মঞ্জুর হয়েছে।

তবে সংবাদ সম্মেলনে খোকন জানান, অবরুদ্ধ আটটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সাত কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি রয়েছে।

তিনি বলেন, আপনাদের অবগতির জন্য জানাতে চাই, দুদক আমার এবং আমার পরিবারের কোনো সদস্যকে কোনোরূপ নোটিস প্রদান না করে, কোনোরূপ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি আদালতের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

খোকন অভিযোগ করে বলেন, আমি মনে করি, এহেন কর্মকাণ্ডে আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশেনের মেয়র তাপস নগর পরিচালনায় তার সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতে আমার প্রতি বিভিন্ন হয়রানিমূলক এবং বিদ্বেষমূলক আচরণ করে আসছে। আমি ও আমার প্রাণপ্রিয় ঢাকাবাসী এবং প্রিয় দেশবাসী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দুদকের এহেন কর্মকাণ্ড তাপসের প্ররোচনায় সংঘটিত হয়েছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য খোকনের এই অভিযোগের বিষয়ে দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য তাপসের সঙ্গে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম সরাসরি কথা বলতে পারেনি।

মেয়র মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে তার ব্যক্তিগত সহকারী নাছিরুল হাসান সজীব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এটা সম্পূর্ণ আদালত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের বিষয়। এটা নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আদালতের আদেশ পেয়ে উনার মাথা ঠিক নেই, যা ইচ্ছে তাই বলছেন। মেয়র মহোদয় এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবেন না।

দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদকের একজন উপপরিচালক গত রোববার খোকন ও তার পরিবারের কয়েকজন সমস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করার আবেদন করেছিলেন।

ঢাকা মহানগরের একজন জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ ওইদিনই তা ম্ঞ্জুর করেন।

Share if you like