Loading...
The Financial Express

খুঁজে পাওয়া গেল কোটি বছরের পুরনো ডাইসোনরের ডিম

| Updated: July 03, 2022 12:35:02


ছবি:ইউনিল্যাড ছবি:ইউনিল্যাড

ডাইনোসরেরশহরে বসবাস। ডাইনোসর নিয়ে আগ্রহটাও তাই হয়তো একটু বেশিই। লাইব্রেরি আর মিউজিয়ামেও সময় পেলে ছুটে যাওয়া আর ডাইনোসর নিয়ে অনেক অনেক তথ্য সংগ্রহের ব্যাপক আগ্রহ।এমন একজন যদি একদিন হুট করে ইতিহাসের এই বিশাল প্রাণীর একটি ডিমের সন্ধান পেয়ে যায়। তবে তার অনুভূতিটা ঠিক কেমন হবে?

ডাইনোসরের শহর হিসেবে পরিচিত চীনের গুয়াংডং প্রদেশের হেয়ুয়ান শহর। ৯ বছর বয়সী ঝ্যাং ইয়াংঝের বসবাস এই শহরে। ডাইনোসর নিয়ে তার ব্যাপক আগ্রহ। ২০১৯ সালে বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে চলা ডংজিয়াং নদীর তীরে বসে খেলার সময় হঠাৎ অদ্ভুত কিছু লক্ষ্য করে। দ্য সানে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, খেলার সময় মাটি খুঁড়তে গিয়ে অনেকটা পাথরের মতো দেখতে কিছু একটা তার নজরে আসে।

দ্রুত তার মাকে ডাকে এবং কাছাকাছি থাকায় তার মা, লি জিয়াওফ্যাং তাড়াতাড়ি সেখানে চলে আসেন। ঝ্যাং এর ডাইনোসর বিষয়ে খানিকটা জ্ঞান থাকায় হঠাৎই তার মনে হয়, ‘এটা ডাইনোসরের ডিম নয় তো?” আর তাছাড়া কিছুদিন আগেই বাচ্চাটি একটি মিউজিয়ামে ডাইনোসরদের বিভিন্ন আকারের ডিমের ফসিল দেখেছিল; যার মধ্যে অনেকগুলো ছিল খানিকটা ভাঙা আবার অনেকগুলো প্রায় অক্ষত ছিল।

ছেলের এমন ধারণার ব্যাপারে মা খুব একটা অবাক হয় না কারণ এই শহরে এর আগেও ডাইনোসরের ডিম পাওয়া গিয়েছিল (সর্বপ্রথম ১৯৯৬ সালে অনেকগুলো ডাইনোসরের ডিম এবং হাড়ের ফসিল পাওয়া যায়)। আর সেই সাথে এর প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য সম্পর্কে ধারণা থাকায় তিনি খুব দ্রুত তার এক বন্ধুর সহায়তায় শহরে অবস্থিত হেয়ুয়ান ডাইনোসর মিউজিয়ামে (ডাইনোসর নিয়ে বিশদ গবেষণার জন্য এই অঞ্চলে এই মিউজিয়ামটি স্থাপন করা হয়)যোগাযোগ করেন।

বেইজিং ইয়োথ ডেইলির রিপোর্ট অনুযায়ী, সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে মিউজিয়ামটির ডেপুটি ডিরেক্টর হুয়াং ঝিকিং ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

অতঃপর একদল বিশেষজ্ঞের কাছে ডিমটি হস্তান্তর করা হয় এবং সেখানে আরো ১০ টি পাথরের মতো দেখতে ডিম পাওয়া যায়। এই মোট ১১ টি ডিমের প্রায় সবগুলোর ব্যাসই ৯ সে.মি. এর কাছাকাছি। ডিমগুলো সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য সেগুলো মিউজিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়।

ডিমগুলো যেখানে পাওয়া যায় নদী তীরের সেই জায়গাটার মাটি বেশ নরম ছিল। কারণ বন্যার কারণে নদীর উপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে যায় এবং অতিরিক্ত চাপের কারণে আশেপাশের মাটি অনেকটাই আলগা হয়ে গিয়েছিল।

পরবর্তীতে মিউজিয়াম থেকে নিশ্চিত করে বলা হয় যে, ডিমগুলো ডাইনোসরের এবং এগুলো প্রায় ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর পুরনো। সেই সাথে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন যে, এত বছর পেরিয়ে গেলেও পানি বা অন্যান্য কিছুর সংস্পর্শে আসলেও ডিমগুলো একদম অক্ষত রয়েছে।

মেসোজয়িক যুগের শেষের দিকে অর্থাৎ ক্রিটেশিয়াস যুগের (ডাইনোসর বিলুপ্তির যুগ বলা হয়) ডাইনোসরদের এই ডিমের ফসিলগুলো হয়তো আরো নতুন কিছু তথ্যের সন্ধান দিবে। ডেইলি মেইলের রিপোর্ট অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হেয়ুয়ান শহরে ডাইনোসরের প্রায় ১৭,০০০ ডিমের ফসিল পাওয়া গেছে যার মধে ১০,০০০ টি ডিমের ফসিল জনসাধারণের দেখার জন্য হেয়ুয়ান মিউজিয়ামে রাখা হয়েছে।

৯ বছর বয়সী ঝ্যাং কখনো কল্পনাও করতেও পারে নি, একসময় এই পৃথিবীতে দাপিয়ে বেড়ানো বিশাল সরীসৃপ প্রাণীর এমন দেহাংশের সাথে তার এভাবে পরিচয় হবে।

 

শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

zabin860@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic