অগ্রসর হতে থাকা রুশ বাহিনীর কাছে কয়েক দিনের মধ্যেই ইউক্রেইনের রাজধানী কিয়েভের পতন হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিউজউইক ম্যাগাজিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন মার্কিন কর্মকর্তা এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
তিন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, কিয়েভের পতনের পরপরই ইউক্রেইনের প্রতিরোধ ভেঙে পড়বে।
এই কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রতিবেশী দেশটিকে নিরস্ত্রীকরণ করতে ‘বিশেষ সামরিক অভিযানের’ কথা বলেছেন। এই অভিযানে মস্কোর লক্ষ্য থাকবে কিয়েভের ইউক্রেনীয় বাহিনীকে ঘিরে ফেলা এবং তাদেরকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা কিংবা ধ্বংস করে দেওয়া।
আর এমন হলে কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, কিয়েভ রাশিয়ার দখলে চলে আসতে পারে ৯৬ ঘণ্টাতেই আর ইউক্রেইনে নেতৃত্বের পতন ঘটতে পারে এক সপ্তাহের মধ্যেই।
সাবেক এক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিউজউইককে বলেন, “বিমান হামলা এবং গোলা বর্ষণ শেষ হওয়ার পর আসল স্থল যুদ্ধ শুরু হয়। আমার মনে হয় অল্প কয়েক দিনেই কিয়েভের পতন হবে। সেনাবাহিনী আরও কিছুদিন টিকে থাকতে পারে, কিন্তু সেটি খুব বেশিদিন নয়।”
তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ গণমাধ্যমে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলছেন, মস্কো কেবল ইউক্রেইনকে ‘সামরিকভাবে নিরস্ত্র’ করতে চায়, দখল করতে চায় না।
রাশিয়া একটি গণতান্ত্রিক দেশের পতন ঘটাতে চায় কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ‘দেশটিকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না’ বলেই আভাস দিয়েছেন ল্যাভরভ। তিনি তখন পূর্ব ইউক্রেইনের রুশভাষী মানুষদের ওপর দেশটির বিরূপ আচরণের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
রাশিয়ার সেনারা ইউক্রেইনে আক্রমণ শুরুর পর দ্বিতীয় দিনেই তুমুল লড়াইয়ের মধ্যে রাজধানী কিয়েভে পৌঁছে গেছে।ইউক্রেইনের সেনাদের আক্রমণ প্রতিরোধ করার চেষ্টার মধ্যেই চেরনোবিল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দখল নিয়ে নিয়েছে রুশ সেনারা।
মার্কিন এক সামরিক কর্মকর্তার মতে, চেরনোবিলের কোনও 'সামরিক তাৎপর্য' না থাকলেও এটি বেলারুশ থেকে কিয়েভ পর্যন্ত সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত রুটে অবস্থিত। তাই চেরনোবিল দখল ইউক্রেইন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে রাশিয়ার একটি কৌশল।
চেরনোবিলের দখল নেওয়ার পরিকল্পনা রাশিয়ার ছিল বলে উল্লেখ করেছেন এক ঊধ্র্বতন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাও। রাশিয়া ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে কিয়েভ ঘিরে ফেলতে পারে বলেও মানেন ইউক্রেইন সরকারের ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা। তবে তিনি বলেন, ইউক্রেইন সরকার এমন পরিস্থিতিতে শক্ত থাকবে; ভেঙে পড়বে না।
ওদিকে, যুক্তরাজ্যও বলেছে, রাশিয়া গোটা ইউক্রেইনই দখল করে নিতে চায়। কিন্তু তারা তা পেরে উঠছে না। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস শুক্রবার বলেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনী তাদের মূল লক্ষ্যগুলোই অর্জন করতে পারেনি।
তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যুক্তরাজ্যের এমন দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, রাশিয়া সামরিক অভিযানের প্রথম দিনেই তাদের সব প্রধান লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে।
চেরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্র দখল নিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, কেন্দ্রটি সন্ত্রাসীদের হাত থেবে রক্ষা করার জন্যই রুশ সেনারা সেটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। “জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী ও অন্য সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো চলমান পরিস্থিতির সুযোগে যাতে পারমাণবিক উস্কানি দিতে না পারে সেজন্যই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
বিবিসি জানায়, রাশিয়া এরই মধ্যে এক বিবৃতিতে যুদ্ধে জয় লাভের দাবিও করছে। এ পর্যন্ত ১৫০ জনের বেশি ইউক্রেইনীয় সেনা আত্মসমপর্ণ করেছে এবং অসংখ্য সামরিক স্থাপনা, অস্ত্র ও যানবাহন ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
ওদিকে, ইউক্রেইনের সশস্ত্র বাহিনী ইতোপূর্বে এক ফেইসবুক পোস্টে দাবি করেছে, তারা “দোনেৎস্ক এবং লুহানস্কে নিজ অবস্থান ধরে রেখেছে এবং রাশিয়ার সেনারা হামলায় ব্যর্থ হয়েছে।” যদিও কোন পক্ষের দাবিই নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায়নি।
