Loading...

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য এসএমই ব্যাংক চালু করতে চায় বিসিক

| Updated: February 16, 2021 13:27:45


ছবিঃ সংগৃহীত ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় ঋণ সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন 'এসএমই ব্যাংক' একটি পৃথক ও বিশেষ ব্যাংক চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন শিল্পমন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যাপারে অনুমতি চেয়েছে।

এসএমই পলিসি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন একটি বিশেষ এসএমই ব্যাংক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

২০১৯ সালের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা উদ্যোগ নীতি অনুযায়ী, এসএমই খাতে নতুন ব্যবসা উদ্যোগের মূলধন যোগাতে সহায়তা প্রদান করা এবং এ উদ্দেশ্যে  ‘এসএমই ব্যাংক’ব্যবস্থা চালু করার কথা বলা হয়েছে।

বিসিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা উদ্যোগ নীতি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই এসএমই ব্যাংক চালু করতে চায় বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে জানান, "একটি ব্যাংক চালু করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে এবং এসএমই পলিসি অনুযায়ী আমরা একটি ব্যাংক ব্যবস্থা চালু করতে চাই"।

তিনি বলেন,  তারা আসলেই ব্যাংকটি পরিচালনা করতে সমর্থ কি না তা যাচাই করতে শিল্পমন্ত্রণালয় তাদেরকে একটি সম্ভাব্যতা জরিপ পরিচালনা করার জন্য বলেছে।

"সম্ভাব্যতা জরিপ পরিচালনা করার জন্য বর্তমানে আমরা ২ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছি"।

জনাব হাসান উল্লেখ করেন, যেহেতু বড় বড় ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলো কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ঋণ প্রদান করে না, তাই ব্যাংক ঋণ এবং অন্যান্য সেবার জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সমস্যায় পড়তে হয়।

"তাই, ব্যবসা শুরুর জন্য বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবিশেষের কাছ থেকে তাদেরকে উচ্চ সুদের হারে ঋণ নিতে হয়। ফলে, পরবর্তীতে তাদের জন্য ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে"।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান বলেন, সংস্থাটি প্রতি বছর ২০,০০০ উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে পারবে এবং ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য তাদেরকে সহজ পদ্ধতিতে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা করা হবে। এর ফলে তাদেরকে কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না এবং ঋণখেলাপী হবার সম্ভাবনাও থাকবে না।

কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ঋণ প্রদানের জন্য সংস্থাটি সরকারের পক্ষ থেকে একশ কোটি টাকার সহায়তা পেয়েছে সম্প্রতি।

কোভিড-১৯ মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ঋণের পরিমাণ পাঁচগুণ বৃদ্ধি করেছে।

কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা খাতের অন্তর্ভুক্ত ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসা চালু এবং পরিচালনাকরার জন্য এখন থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত  ঋণ পাবে।

গত ১১ ফেব্রুয়ারিতে সারাদেশে প্রেরিত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশনের চিঠি অনুযায়ী, "বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন বোর্ড ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থ সহায়তার অনুমোদন প্রদান করবে"।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের মহাপরিচালক (শিল্প উন্নয়ন এবং প্রসার) পূর্বের ১০ লক্ষ টাকার বিপরীতে ২০ লক্ষ টাকার ঋণ প্রস্তাবের অনুমোদন প্রদান করবে সংশোধিত নতুন ঋণ নীতি অনুসারে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের আঞ্চলিক পরিচালক পূর্বের ৫ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিতরণ করতে পারবে।

Share if you like

Filter By Topic