একঘেয়ে, ক্লান্তিকর আর কর্মব্যস্ত সপ্তাহের পর বন্ধুর সাথে এক সন্ধ্যায় সিনেমা দেখার পরিকল্পনা, সাথে পপকর্ণ ও কোমল পানীয় - এ যেন তপ্ত রোদে ঠান্ডা লেবুর শরবতের মতো প্রশান্তির বাতাস বইয়ে দেয় মনে।
আবার সেই সিনেমায় যদি থাকে দুর্দান্ত কোনো কাহিনী, যাতে বিনোদনের সাথে কিছু অনুপ্রেরণাও পাওয়া যায়, তাহলে তো সোনায় সোহাগা।
মানসিক চাপ মোকাবেলায়, নতুন মানুষের সাথে কথা বলার বিষয় তৈরি করে দিয়ে স্বস্তি দিতে বা কখনো শুধু উদ্ভট কোনো পদ্ধতি দিয়ে মন ভালো করায় সিনেমার জুড়ি নেই। যুগে যুগে তৈরি হয়েছে এমন সব সিনেমা যা থেকে শেখার মতো আছে অনেক কিছু। এসব সিনেমা মন ভালো করে দেয়ার সাথে ক্যারিয়ারেও অনুপ্রেরণা যোগায়।
স্পয়লার ছাড়াই জেনে নেওয়া যাক সেসবের কয়েকটি।
ফরেস্ট গাম্প (১৯৯৬)
ফরেস্ট নামের একটি ছেলের জীবন নিয়ে নির্মিত এই বিখ্যাত চলচ্চিত্রটির পরিচালক রবার্ট জেমেকিস। মানুষের ইচ্ছাশক্তি যদি থাকে তাহলে শারীরিক এবং মানসিক প্রতিবন্ধকতাকে হার মানানো অসম্ভব নয়- এমনটাই দেখানো হয়েছে এই চলচ্চিত্রে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও মেরুদণ্ডে ত্রুটি নিয়ে জন্মানো ফরেস্ট জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিচিত্র সব পেশা গ্রহণ করেন। সেসবের মাঝে ফুটবল খেলোয়াড় থেকে সফল ব্যবসায়ী- কিছুই বাদ যায়নি।
থ্রি ইডিয়টস (২০০৯)
রাজকুমার হিরানি পরিচালিত এই সিনেমাটি যেন বলিউডের পক্ষ থেকে তরুণ পৃথিবীর এক উপহার। ভারতের নামীদামী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া তিন বন্ধুর জীবন- তাদের স্বপ্ন, বন্ধুত্ব, সৌহার্দ্য ও ভালোবাসার মায়ায় জড়িয়ে শিখে নেওয়া যায় জীবনের কিছু দরকারি উপলব্ধি। শিক্ষাব্যবস্থার নিষ্ঠুর দিকগুলোর সাথে নিজের জীবনকে নিজের স্বপ্ন ও আগ্রহের দিকে চালিত করলে সাফল্য নিজেই পিছু নেবে-- এমন উপলব্ধি তো সফল ক্যারিয়ারে দরকারই বটে।
দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা (২০০৬)
পরিচালক ডেভিল ফ্র্যাংকেলের দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ফ্যাশনের জগতের ঝা চকচকে আবহে বলে চলে সফলতা-ব্যর্থতার এক আকর্ষণীয় গল্প। অ্যান্ডি নামে একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী সাংবাদিক ভাগ্যের ফেরে যোগ দেয় নিউইয়র্কের অন্যতম শীর্ষ ফ্যাশন ম্যাগাজিনের সম্পাদক মিরান্ডা প্রিস্টলির সহকারী হিসেবে।
কিন্তু কাজের প্রতিকূল পরিবেশ ও মিরান্ডার অনবরত কাজের চাপ - এই দুইয়ের সাথে এক অদৃশ্য স্নায়ুযুদ্ধে নামতে হয় তাকে। জীবনের মোড় ঘুরে যায় অ্যান্ডির, সাফল্যের প্রচলিত সংজ্ঞা নিয়ে মানসিক দোটানায় পড়ে যায় সে।
স্টিভ জবস (২০১৫)
বিখ্যাত উদ্যোক্তা এবং অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের জীবনের গল্প নিয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন পরিচালক ড্যানি বয়েল। জবসের ঘটনাবহুল জীবনের ঘুরে দাড়ানোর পর্যায় ও সাফল্যের পথে আগানোর গল্প এই চলচ্চিত্রের মূল উপজীব্য। ব্যবসায়িক দূরদৃষ্টি ও সমস্যা সমাধানের কৌশল- জবসের সাফল্যের মূলসূত্র এই চলচ্চিত্রকে দর্শকপ্রিয় করেছে।
দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক (২০১০)
ডেভিড ফিঞ্চার পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে মার্ক জাকারবার্গের জীবন ও কাজ ফুটে উঠেছে। ফেসবুকের অভাবনীয় সাফল্য একা আসেনি, সাথে ছিল মার্কের জীবন থেকে অনেক মানুষের হারিয়ে যাওয়ারও গল্প। এক বিশ্বসেরা উদ্যোক্তার চলার পথে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির চড়াই-উতরাই নিয়েই তৈরি এই সিনেমাটি।
রোমানা রহমান বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে অধ্যয়নরত।
meghrahman1234@gmail.com