ক্যারিয়ার গড়তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম


ফারিয়া ফাতিমা স্নেহ | Published: March 25, 2021 12:03:21 | Updated: March 29, 2021 22:09:16


ছবিঃ ইন্টারনেট

আজ থেকে দুই যুগ আগেও কি কেউ ভাবতে পেরেছিল, ডিজিটাল সামাজিক মাধ্যম হতে পারে জীবিকা নির্বাহের অন্যতম উৎস? ডাটারিপোর্টাল ডট কমের তথ্যমতে, বর্তমান বিশ্বে ৪.২০ বিলিয়ন মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। আর সোশ্যালি রিক্রুটেড ডট কমের তথ্যানুযায়ী, ৭৯ শতাংশ চাকরি আবেদনকারী, চাকরির খোঁজে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে থাকেন। তবে চাকরির খোঁজ করা ছাড়াও আরও বিভিন্ন কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ক্যারিয়ার গঠনে রাখছে অন্যতম ভূমিকা। আর এসব নিয়েই আজকের এ লেখাটি।

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার

এটি কোনো প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং ও সেলস বিভাগের একটি বিশেষায়িত পদ। সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস বা পণ্যের প্রচারণার বিষয়টি নিয়ে কাজ করেন। এ ছাড়া সামাজিক নেটওয়ার্কগুলোতে প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও পরিষেবার উপস্থাপনের পরিকল্পনা, সংস্থার সোশ্যাল মিডিয়া পেজগুলোতে কনটেন্ট তৈরি ও তদারকি করেন। ডিজিটাল মিডিয়া সম্পর্কে আগ্রহী ও পারদর্শীরা এ বিষয়ে চেষ্টা করতে পারেন। সঙ্গে থাকতে হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিপণন, বিজ্ঞাপণ, কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও প্রসার সম্পর্কিত জ্ঞান। যোগাযোগে দক্ষতা ও ডিজাইনের কাজ জানা থাকলে তা এনে দিতে পারে বাড়তি সুযোগ। নিজেকে নিত্য প্রযুক্তি, নতুন বৈশিষ্ট্য এবং সেবার সঙ্গে পরিচিত রাখা এ পেশায় জরুরি।

লিংকডিন

বর্তমানে পেশাজীবীদের জন্য সবচেয়ে বড় পরিসর হচ্ছে লিংকডিন। একজন কর্মীর সবকটি পেশাগত দক্ষতা জানতে এবং চাকরি প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাইয়ে নিয়োগকর্তারা অনেকক্ষেত্রেই এর সাহায্য নিয়ে থাকেন। ২০০৩ সালে শুধু পেশাজীবীদের জন্য তৈরি করা হয় এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি। শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বর্তমান কাজের তথ্য, জীবন বৃত্তান্ত ও বিভিন্ন কাজের নমুনা রাখা যায় লিংকডিন প্রোফাইলে। ক্যারিয়ারের পথচলা সুন্দর করতে দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে এর জনপ্রিয়তা।

পেশাদার প্রোফাইল

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন ক্যারিয়ার সচেতন মানুষের প্রোফাইলটি হওয়া উচিত তার ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন। ফেসবুক বা লিংকডইনের বায়ো এবং প্রোফাইল নিয়মিত আপডেট করা প্রয়োজন। ডিজিটাল মিডিয়ায় বায়ো এবং ছবি দিয়ে নিজেকে উপস্থাপন করা যায় বৃহৎভাবে।

বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজ অনুসরণ

সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপে যুক্ত হলে নতুন মানুষজনের সঙ্গে পরিচয় হয়। আবার পরিচিত মানুষের সঙ্গেই সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে যোগাযোগ মাধ্যমে। এই যোগাযোগ স্থাপনের দরুন বেশিসংখ্যক মানুষের সংস্পর্শে আসা যায় এবং চাকরির খবরাখবর, প্রস্তাব সম্পর্কেও জানা যায়। নিজেকে অন্যের কাছে ভালোভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে, বাইরের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এভাবে ধীরে ধীরে হতে পারে ক্যারিয়ারে উন্নতি।

এ ছাড়া লিংকডিন এবং ফেসবুকে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত গ্রুপগুলোতে যুক্ত হয়ে কাজ সম্পর্কিত বিভিন্ন আলোচনায় অংশগ্রহণ করা যেতে পারে। এগুলো ব্যবহার করা যায় চাকরি পাওয়ার নেটওয়ার্ক হিসেবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনুসরণ করে ক্যারিয়ার বিষয়ক পথ নির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে। কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত মানুষদের অনুসরণ করে কর্মক্ষেত্র সম্পর্কেও অনেক কিছু জানা যায়। সেই সঙ্গে একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকাও সহজ হয়। এ ছাড়া সাক্ষাৎকারের আগে কোনো প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইল ও পেজ দিতে পারে বিশেষ ধারণা।

চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা

অতিমারী করোনা পরিস্থিতিতেও স্থবির অর্থনীতিতে আশা জাগিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবসা। এ সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যেমন নতুন ক্ষুদ্র-মাঝারি-বৃহৎ ব্যবসা শুরু হয়েছে, তেমনি আগে শুরু করা ব্যবসাগুলোও নতুন গতি পেয়েছে। অনেকেই নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু করেছেন নানা ধরনের জিনিসপত্রের বেচা-কেনা। এবং ডিজিটাল এই সময়ে নিজের ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দারুণভাবে সফলও হচ্ছেন তারা। ই-ক্যাব (ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে অনলাইন লেনদেন যেখানে ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, সেখানে ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬১৬ কোটি টাকায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রতিষ্ঠানেই চাকরি

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর জনপ্রিয়তা ব্যাপকহারে বেড়েই চলেছে। কোটি কোটি মানুষের ব্যবহৃত ওয়েবসাইটগুলো রক্ষণাবেক্ষণে তাই প্রয়োজন বিশাল সংখ্যক কর্মী। সরাসরি অফিস হোক বা ফ্রিল্যান্সিং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে সারা পৃথিবী থেকে বহু কর্মী নিয়োগ করছে। নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের সুপরিচিত এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করা হতে পারে ক্যারিয়ারে সুবর্ণ সুযোগ।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেকারত্বের পরিসংখ্যান যেখানে ভয়াবহ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঠিক এবং যথাযথ ব্যবহার সেখানে এনে দিতে পারে ক্যারিয়ারে মসৃণ পথ। যথাযথ প্রচেষ্টায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবসাই হতে পারে কারও ক্যারিয়ারের বাতিঘর।

লেখক বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা করছেন।

ইমেইলঃ fariasneho@gmail.com

Share if you like