কোরবানির ঈদের দিন দুপুর থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করার লক্ষ্য ঠিক করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
বর্জ্য অপসারণে ‘ব্যাপক প্রস্তুতি’ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারীর এই সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা ‘বড় চ্যালেঞ্জ’। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নগরবাসীর সহায়তা প্রয়োজন।
“আমাদের টার্গেট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য সরিয়ে নেওয়া। এ কাজে আমরা জনগণের সহযোগিতা চাচ্ছি। কারণ বর্তমানে কোভিড মহামারী চলছে, পাশাপাশি এইডিস মশার উপদ্রবও বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ঢাকাবাসীকে আরও অনেক বেশি সক্রিয় হতে হবে।”
মেয়র আতিক বলেন, নগরবাসীকে বর্জ্য ফেলার জন্য ব্যাগসহ অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করবে সিটি করপোরেশন। এরপরও কোনো বাসার সামনে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে রাখা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“যে বাসার সামনে দেখব যত্রতত্র ময়লা ফেলে রেখেছে, সেখানে আমি ট্রাক দিয়ে ময়লা ফেলে দিয়ে আসব। কারণ, ২০০ লোকের জন্য লাখ লাখ মানুষ সাফার করুক এটা আমি চাই না। এজন্য যারা পরিবেশ নোংরা করবে তাদের জন্য এটা সতর্কবার্তা।”
কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ২ লাখের বেশি পশু কোরবানি দেওয়া হতে পারে এবার। পশু কোরবানির জন্য এই সিটিতে ৩০৭টি স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এবার। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
পশু কোরবানির জন্য ডিএনসিসি ২৫০ জন ইমাম এবং ২৫০ জন মাংস প্রস্তুতকারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। রাস্তায় এবং ড্রেনের পাশে পশু কোরবানি না করতে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়েছে।
উত্তর সিটি জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব ২ হাজার ৬৬৭ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পাশাপাশি বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে মোট ১১ হাজার ৫০৮ জন কর্মী কোরবানির পশু বর্জ্য অপসারণের কাজে নিয়োজিত থাকবে।
বর্জ্য অপসারণ এবং কোরবানির পশুর হাটগুলো দ্রুত পরিষ্কার করার লক্ষে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব বর্জ্যবাহী ট্রাক, ভারী যন্ত্রপাতি, ওয়াটার বাউজারের পাশাপাশি আউটসোর্সিং করে অতিরিক্ত গাড়ি নিয়োজিত করা হবে। দৈনিক ১০ হাজার টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য ধরে এসব যানবাহন ও যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঈদের আগের দিন থেকে ঈদের পর দুই দিন বর্জ্যবাহী ড্রাম্প ট্রাক ও খোলা ট্রাক, ভারী যান-যন্ত্রপাতি,পানির গাড়ি, পিকআপ ভ্যানসহ ৪৯৩টি যানবাহন এ কাজে নিয়োজিত থাকবে।
কোরবানির পশু জবাইয়ের স্থানে তরল জীবাণুনাশক মেশানো পানি ছিটানো হবে ১১টি ওয়াটার বাউজারের মাধ্যমে।
কোরবানির বর্জ্য ফেলার জন্য ৬ লাখ ৫০ হাজার বিশেষ ব্যাগ, ৫০ টন ব্লিচিং পাউডার এবং ৫ লিটারের ১ হাজার ৫টি ক্যান কেনা হয়েছে। বর্জ্য ফেলার ব্যাগ, ব্লিচিং পাউডারসহ অন্যান্য পরিচ্ছন্নতা উপকরণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।
বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকির জন্য ২২ সদস্যের একটি টিম গঠন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে সিটি করপোরেশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।
