করোনাভাইরাস থেকে সেরে উঠলেও শেষ পর্যন্ত আর আপিল বিভাগে বসা হল না বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসানের; হঠাৎ অবস্থার অবনতি হওয়ায় শপথ নেওয়ার আগেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
শুক্রবার ভোর সোয়া ৬টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মুহাম্মদ সাইফুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।
ছোট ভাই তৌফিক মারুফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, উনি সুস্থ হয়েই উঠেছিলেন। বাসায় আসবে কবে এর মাঝেই হঠাৎ অবস্থা খারাপ হয়ে গেল।
আমরা ভেবেছিলাম, তিনি সুস্থ হচ্ছেন দ্রুত। সুস্থ হলেই বাসায় নিয়ে যাবে। ৬ ফেব্রুয়ারির দিকে শপথ নেবেন-এরকমও কথা ছিল। আমরাই ভেবেছিলাম। কিন্তু দুইদিন আগে অবস্থার অবনতি হয়।
শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের আইসিইউতেই বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসানের মৃত্যু হয় বলে জানান তার ছোট ভাই।
এক প্রশ্নের জবাবে তৌফিক মারুফ বলেন, তার ভাইয়ের কোভিড পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হয়েছিলেন ২৯ জানুয়ারি।
এফ আর এম নাজমুল আহাসানের জন্ম ১৯৫৫ সালে। মাস্টার্স শেষ করে তিনি আইনের ডিগ্রি নেন এবং ১৯৮৬ সালে জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
পরে ১৯৯৪ সালে হাই কোর্ট বিভাগে এবং ২০০৯ সালে আপিল বিভাগে তিনি আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
নাজমুল আহাসান হাই কোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান ২০১০ সালে। নিয়ম অনুযায়ী দুই বছরের মাথায় তার নিয়োগ স্থায়ী হয়।
এ বছরের শুরুতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসানসহ চারজন আপিল বিভাগে নিয়োগ পান। তাদের তিনজন গত ৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে শপথও নেন। কিন্তু অসুস্থ থাকায় বিচারপতি নাজমুল আহাসানের আর আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে শপথ নেওয়া হয়নি।
আপিল বিভাগের নিয়োগ শপথের দিন থেকে কার্যকর হয়। শপথ নিতে না পারায় তিনি এখন হাই কোর্টের সাবেক বিচারক হিসাবেই বিবেচিত হবেন। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটেও তার নাম এখনো হাই কোর্টের বিচারকদের তালিকায় রয়েছে।
নাজমুল আহাসান আইনজীবী ও বিচারক হিসাবে তিন যুগ পার করেছেন আইন অঙ্গনে। সুস্থ থাকলে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি হত তার তার সর্বশেষ কর্মদিবস।
বিচারপতি নাজমুল আহাসানের মরদেহ শুক্রবার নেওয়া হবে তার কর্মস্থল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে। দুপুরে সেখানে জানাজার পর তাকে নিয়ে যাওয়া হবে গ্রামের বাড়ি বরিশালের কাউনিয়ার। সেখানে আবারো জানাজার পর স্থানীয় মুসলিম গোরস্থানে দাফন করা হবে তাকে।