কোভিড-১৯: ভারতে শহরের মানুষ টিকা পাচ্ছে দ্রুত


FE Team | Published: June 05, 2021 17:11:27 | Updated: June 05, 2021 19:15:59


কোভিড-১৯: ভারতে শহরের মানুষ টিকা পাচ্ছে দ্রুত

ভারতে গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী কোটি কোটি জনগোষ্ঠীর চেয়ে শহরের বাসিন্দারা তুলনামূলক দ্রুত কোভিড-১৯ টিকা পাচ্ছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম খবরটি দিয়েছে রয়টার্স হতে।

সরকারি তথ্যের বরাতে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির বৈষম্যের কথা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ভারতের সবচেয়ে অনুন্নত ১৭ কোটি ৬০ লাখ বাসিন্দার আবাস ১১৪টি জেলায় সব মিলিয়ে মাত্র দুই কোটি ৩০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।

অথচ এর অর্ধেক বাসিন্দার আবাস এমন বড় নয়টি শহরে- যার মধ্যে আছে নয়া দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দেরাবাদ, পুনে, থানে ও নাগপুর- এর সমান টিকা দেওয়া হয়েছে।

টিকাদানে বৈষম্য গতমাসে আরও প্রকট হয়েছে, যখন সরকার ৪৫ বছরের কম বয়সীদের কাছে বেসরকারিভাবে টিকা বিক্রির অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে শহরের বড় বেসরকারি হাসপাতাল ঘিরে থাকা বাসিন্দারা সুবিধা পেয়েছে।

ভারত সরকারের টিকাদান পোর্টাল কো-উইনের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের প্রথম চার সপ্তাহে ওই প্রান্তিক জেলাগুলোর চেয়ে উল্লেখিত নয়টি শহরে ১৬ শতাংশ বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে।

ভারতের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য মহারাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের প্রান্তিক জেলা সাতারার বাসিন্দা ৩৮ বছরের কৃষক অতুল পাওয়ার বলেন, শহরে বসবাসকারী আমার বন্ধুরা বেসরকারি হাসপাতাল থেকে টিকা নিয়ে ফেলেছে। আমিও পয়সা খরচ করতে রাজি আছি। কিন্তু এখানে টিকার ডোজ সহজলভ্য নয় এবং লকডাউনের কারণে জেলার সীমানাও বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেও মন্তব্য করেনি ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

জানুয়ারির মাঝামাঝিতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর এ পর্যন্ত ২২ কোটি ২০ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে ভারত। শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ভারতের চেয়ে বেশি টিকা দিতে পেরেছে। কিন্তু ভারতের ৯৫ কোটি প্রাপ্ত বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মাত্র পাঁচ শতাংশ প্রয়োজনীয় দুই ডোজ টিকা পেয়েছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল দেশটির ১৩৫ কোটি জনগোষ্ঠীর তিন ভাগের দুই ভাগেরই বসবাস গ্রামাঞ্চলে। শহরাঞ্চলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার অনেক বেশি হলেও, ভাইরাসের বিস্তার নিয়ে যারা খবরাখবর রাখেন, তারা বলছেন দেশের প্রান্তীয় অঞ্চলেও মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে।

কিন্তু গ্রামে নিশ্চিতভাবে শনাক্তের প্রকৃত সংখ্যা পরিসংখ্যানে আসছে না। কারণ সেখানে শহরের তুলনায় কম পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী, স্বাস্থ্যকর্মী ও যাদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি তাদের বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার।

গত মাস থেকে রাজ্যগুলোও নিজ নিজ উদ্যোগে কম বয়সী জনগোষ্ঠীর জন্য টিকা কেনার চেষ্টা শুরু করেছে অথবা বেসরকারি খাতের মাধ্যমে তা সরবরাহের চেষ্টা করছে।

দ্ররিদ্র্যতর রাজ্যগুলো জানিয়েছে, এই পরিস্থিতির কারণে টিকাপ্রাপ্তি নিয়ে তাদের বাসিন্দারা আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সব বয়সী নাগরিকদের বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সবচেয়ে দারিদ্র্যপীড়িত পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ড।

অনেক রাজ্যেই শুধু শহরে ৪৫ বছেরর কম বসয়ীদের জন্য টিকা মিলছে। কোনো কোনো কর্মকর্তা বলছেন, শহরাঞ্চলের ভীড়ে সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায় বলে এমন করে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

শহরগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যাপারে রাজ্য প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ওড়িশা রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক বিজয় কুমার মহাপাত্র বলেন, এর কারণ মূলত শহরাঞ্চলে সংক্রমণের উচ্চ হার।

প্রধানত বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মাইক্রোসফট, পেপসি, অ্যামাজন, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আদানি গ্রুপ ও টাটা মোটরসের মতো বহুজাতিক ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান নিজেদের কর্মীদের টিকাদানের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব বেশিরভাগ কোম্পানি এবং বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলো বিভিন্ন নগরকেন্দ্রে অবস্থিত।

ভারতের গ্রামীণ এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম ধীরে চলার আরেকটি কারণ ইন্টারনেট সেবার দুর্বল অবকাঠামো। টিকা নেওয়ার জন্য অনলাইনে জটিল ব্যবস্থা পার হয়ে নিবন্ধন করার যে প্রক্রিয়া সেটাও টিকা পেতে শহরের বাসিন্দাদের তুলনায় গ্রামের বাসিন্দারের পিছিয়ে রাখছে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এ সপ্তাহে সরকারের চলমান টিকাদান কার্যক্রমের সমালোচনা করেছে এবং শহরে ও গ্রামে কি পরিমাণ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে তার একটি হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

৩১ মে জারি করা একটি আদেশে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, বেসরকারি হাসপাতালগুলো দেশের সবপ্রান্তে সমানভাবে বিস্তৃত নয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের সেবার আওতা বড় শহরগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামের মানুষের তুলনায় শহরের মানুষই বেশি টিকা পাবে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলো বেশি মুনাফার আশায় সরাসরি বেসরকারি করপোরেশনের কাছে ডোজ বিক্রি করে দিতে পারে যারা নিজেদের কর্মীদের টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

Share if you like