বিদেশে পড়াশোনা করা বা ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনাভাইরাসের টিকা নিবন্ধনের ব্যবস্থা করার বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষকে দেখতে বলেছে হাই কোর্ট। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।
সুরক্ষা অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে টিকার জন্য তাদের নিবন্ধনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গেও রাষ্ট্রপক্ষকে সরাসরি কথা বলতে বলা হয়েছে।
রোববার এই সংক্রান্ত একটি বিষয় উপস্থাপনের পর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ থেকে মৌখিক এই নির্দেশনা আসে।
একই সঙ্গে আবেদনকারীর আইনজীবীকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা যে নিবন্ধন করতে পারছে না- সে অসুবিধার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে চিঠি লিখতে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম । রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।
সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, একজন আইনজীবী বিষয়টা আজকে আদালতে ম্যানশন করেছিলেন। তখন আদালত বললেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে কথা বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে খোঁজ নিতে।
প্রবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে টিকা নিবন্ধন শুরু করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে সরকারের অবস্থানটা কি তা জানার জন্য। আমি অ্যাটর্নি জেনারেল স্যারকে জানিয়েছি। এখন স্যারের সাথে স্বাস্থ্য অদিদপ্তরের মহাপরিচালকের কথা হবে।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আদালতের নির্দেশ পেয়ে স্বাস্থ্য অদিদপ্তরে এই বিষয়ে কথা বলেছি। আগামীকাল আবেদন করে তা আবার আদালতকে জানানো হবে।
এই আইনজীবী জানান, উচ্চ শিক্ষার জন্য একজন শিক্ষার্থী কানাডায় যাবেন। সেপ্টেম্বর থেকে তার ক্লাস শুরু হবে। বিদেশ যাওয়ার শর্ত হল দুই ডোজ টিকা সম্পন্ন করে ১৪ দিন নিজ দেশে থাকতে হবে। পরে তিনি বিদেশ যেতে পারবেন।
কিন্তু টিকা নিবন্ধনের জন্য সুরক্ষা অ্যাপে বিদেশ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো ক্যাটাগরি নেই। এদিকে সময়ও প্রায় শেষ। অগাস্টের ১৫ তারিখের মধ্যে তাকে সেদেশে যেতে হবে।
এ কারণে বিদেশে পড়তে যেতে আগ্রহীরা যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা নিতে পারেন সে জন্য সুরক্ষা অ্যাপ ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে টিকার জন্য জনস্বার্থে হাই কোর্টে বিষয়টি উপস্থাপন করি।
শুনানিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, এদেরকে (বিদেশে পড়ুয়া শিক্ষার্থিীদের) কীভাবে কী করা (টিকা নিবন্ধন) যায়, কথা বলেন। শিক্ষার্থীরা তো পয়সা দিয়ে ভর্তি হয়েছে।
আবেদনকারীর আইনজীবীকে উদ্দেশ্যে করে বিচারপতি বলেন, আপনি শিক্ষার্থীদের অসুবিধার উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একটি রিকোয়েস্ট লেটার দেন। তাদের তো আপনার অসুবিধা জানতে হবে।
তখন আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আজকেই চিঠি লিখব।