ভোক্তারা যেন সয়াবিন তেলের নামে অন্য কোনো ভোজ্যতেল ক্রয় করে প্রতারিত না হন তা নিশ্চিত করতে সরকার কেবলমাত্র বোতলজাত অবস্থায় সয়াবিন তেল বিক্রির নির্দেশ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
এ ব্যাপারে শিল্প মন্ত্রণালয় চলতি বছরের শুরুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতামত চায়। তখন ভোজ্যতেলের মূল্য বেশি থাকার কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উল্লিখিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্মতি জানায়নি।
তবে সম্প্রতি বাণিজ্যা মন্ত্রণালয় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সে প্রস্তাবের সাথে একমত হয়েছে। এতে করে ভোক্তাদের প্রতারিত হওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বার্ষিক আমদানিকৃত ভোজ্যতেলের পরিমাণ প্রায় ২২ লক্ষ টন, যার ৭০ শতাংশ পাম তেল এবং ৩০ শতাংশ সয়াবিন তেল।
তবে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের বাজার বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায় বাজারে যে পরিমাণ সয়াবিন তেল বিক্রি হয়, তা আমদানিকৃত পরিমাণের চেয়ে বেশি।
কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা যায়, বর্তমানে পাম তেল বোতল ছাড়া খোলা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে যেখানে সয়াবিন তেল বোতল সহ ও ছাড়া উভয় রকমেই পাওয়া যায়। তাদের ধারণা, অসাধু ব্যবসায়ীরা সয়াবিন তেলের নামে পাম তেল বিক্রি করে ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করছে।
প্লাস্টিকের মোড়ক এবং পিইটি বোতলে বিক্রি করা হবে সয়াবিন তেল। অন্যাদিকে পাম তেল কেবলমাত্র খোলা অবস্থায় বিক্রি হবে। তাহলে পার্থক্য সহজে বোধগম্য হবে।
বোতলজাত অবস্থায় একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পণ্য হিসেবে সয়াবিন তেল বিক্রি করতে হবে এবং এর জন্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) এর সনদ থাকা বাধ্যতামূলক।
পিইটি’র পূর্ণরূপ হলো, পলিইথিলিন টেরেফথেলেট। সাধারণত ভোজ্য পানীয় ও অন্যান্য পানি জাতীয় পণ্যের জন্য প্লাস্টিকের বোতল উৎপাদনে এর ব্যবহার হয়ে থাকে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে জানান যে, এই বছরের শুরুর দিকে সয়াবিন তেলের দাম ওঠানামা করছিল। তাই তারা শিল্প মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে, নতুন শর্ত যেন তেলের দাম কমার পর জারি করা হয়।
কেবলমাত্র বোতলজাত অবস্থায় সয়াবিন তেল বিক্রির ঘোষণা কিছুটা হলেও ভোক্তা পর্যায়ে তেলের দাম বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করেন তিনি ।
তিনি আরো বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে ভোক্তারা পাম তেল কিনলেও তার জন্য সয়াবিন তেলের দাম দিতে বাধ্য হচ্ছেন।”
গত বুধবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন যে, বর্তমানে বাজারে মাত্র ৩৫ শতাংশ সয়াবিন তেল বোতলজাত করে বিক্রি করা হচ্ছে; বাকি ৬৫ শতাংশের বিক্রি হচ্ছে মোড়ক বা বোতল ছাড়া।
তিনি জানান, “বেসরকারি খাত আমাদেরকে সহযোগিতা করতে নারাজ।”
সুলতানা আরো জানান, ভোজ্যতেল বিক্রেতাদের নতুন নিয়মের আওতাভুক্ত করতে মন্ত্রণালয় আগামী সপ্তাহে অংশীজনদের সাথে বৈঠকে বসবে।
“এরপরে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে,” তিনি যোগ করেন।
syful-islam@outlook.com
