Loading...

কেন্দুয়ায় বাঙ্গি চাষেও সফল ওয়াসিম

| Updated: April 27, 2021 17:53:10


নিজ বাগানে ফলনকৃত বাঙ্গি হাতে ওয়াসিম নিজ বাগানে ফলনকৃত বাঙ্গি হাতে ওয়াসিম

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বৃক্ষপ্রেমিক ওয়াসিমের ক্ষেতে ফলেছে ৯ কেজি ওজনের বাঙ্গি। এ বছর বাঙ্গির ভাল ফলন হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন তিনি।

কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণজাত গ্রামে মল্লিক আনোয়ার জাহিদ ওরফে ওয়াসিম এ বছর তার ৪০ শতক আম বাগানে সাথী ফসল হিসেবে বাঙ্গি চাষ করেন। ফলন হয়েছে আশানুরূপ। ৭ থেকে ৯ কেজি ওজনের একেকটি বাঙ্গি চাষ করে এলাকায় রীতিমত তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। ফলক্রমে অনেকেই এখন ওয়াসিমের কাছে বাঙ্গি চাষের পরামর্শ নিতে আসছেন।

এলাকায় একজন বৃক্ষপ্রেমিক হিসেবে ওয়াসিমের পরিচিতি রয়েছে। তার রয়েছে মাল্টা বাগান, উন্নতজাতের আম বাগান, লেবুর বাগান। এছাড়াও প্রায় ১২০ শতক জমির ওপর তার বসতবাড়িটি যেন আস্ত একটি ফল বাগান। প্রায় দেড়শ প্রজাতির ফলের গাছ রয়েছে তার বাড়িতে। এর মধ্যে ৪০ প্রজাতির আম, ৮৫টি কাঁঠাল, ৮টি জাম, ৬টি কমলা, ৫টি লিচু, ১০ টি পেয়ারা, ৬টি ড্রাগন, ৪০টি লটকনের গাছ আছে।

এর বাইরেও বসতবাড়ি ঘেরা বাগানটিতে পেঁপে, সুপারি, গোলাপ, জাম, নারিকেল, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, ট্যাংফল, কামরাঙ্গা, অরবড়ই, নাশপাতি, কুল, তেঁতুল, ডেফল, চালতা, সফেদা, আশফল, বেলেম্বু, আঙ্গুর, আনারস, কলা, বেল, জাম্বুরা, করমচা, জামরুল, আমড়া, আনার, ডালিম, বেদানা, চেরিফল, মহুয়া ফল, রামভূটান, কতবেল, আমলকি, শরিফা, আতাফল, এভোকাডো ফল, বিভিন্ন প্রজাতির আপেল, ট্রভেরী, পেয়ারা, মালবেরী, বিভিন্ন প্রজাতির আনার, পার্সিমন ফল, রামভুটান ফলের গাছ আছে।

ভেষজ গাছের মধ্যে রয়েছে হরতকি, বহেরা, পাথরকুঁচি, ডায়াজেট, এ্যালোভেরা, পান বিলাস, তুলসী, লজ্জাবতী, উলটকম্বল, আলুবোখারা, লবঙ্গসহ নানা প্রজাপতির বনজ গাছ।

ওয়াসিম বাবার একমাত্র ছেলে। লেখাপড়া শেষ করে কেন্দুয়া বাজারে ‘মেসার্স মল্লিক কৃষি কেন্দ্র’নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। ছোটবেলা থেকেই ফলের গাছ লাগানো ও কৃষি কাজের প্রতি প্রবল শখ তার। এই শখ থেকেই তিনি এখন এলাকার একজন বৃক্ষপ্রেমিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

ওয়াসিম বলেন, ৪০ শতক আম বাগানে সাথী ফসল হিসেবে বাঙ্গি চাষ করে এ বছর ভালই লাভবান হয়েছেন তিনি। বাগানের প্রতিটি বাঙ্গির ওজন ৭ থেকে ৯ কেজি।

“আমাদের এলাকায় ছোট বাঙ্গির চাহিদা বেশি। আমি মূলত ছোট জাতের বাঙ্গি চাষ করেছিলাম, কিন্তু ফলেছে বড় জাত। এই জাতের বাঙ্গি সুস্বাদু হওয়ায় ভাল চাহিদা রয়েছে।

“এছাড়া আমার আম, মাল্টা, লেবুর বাগান রয়েছে। আমার বাড়িতে ১৫৫ জাতের দেশী-বিদেশী ফলের গাছ রয়েছে। সারা বছর কোন না কোন ফল আমার বাড়িতে থাকে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে তাই বিক্রিও করতে পারি,” জানান ওয়াসিম।

Share if you like

Filter By Topic