Loading...
The Financial Express

কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙন: অর্ধ শতাধিক বাড়িঘর নদী গর্ভে

| Updated: June 14, 2022 12:32:29


কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙন: অর্ধ শতাধিক বাড়িঘর নদী গর্ভে

তিস্তা নদীর ভাঙনে গত দেড় মাসে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের অর্ধ শতাধিক বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে বলে জনপ্রতিধিরা জানিয়েছেন। 

তারা বলছেন, তিস্তার ভাঙনে এই দুই ইউপির শত শত বিঘা আবাদি জমি, গাছপালা, পুকুর ও মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতি বছর নতুন নতুন জায়গায় ভাঙন শুরু হওয়ায় বাড়িঘর, গাছপালা, আবাদি জমি ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। হুমকির মধ্যে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও মন্দির মসজিদ। 

বর্তমানে রাজারহাটের ঘরিয়ালডাঙ্গা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে তিস্তা নদীতে ৬ কিলোমিটার এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে।অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের। 

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার শেষ সীমানা থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটার ব্যাপী তিস্তা নদীর অবস্থান। এই দীর্ঘ নদী পথে মাত্র দুই কিলোমিটার জায়গায় স্থায়ীভাবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও বাকি ৪১ কিলোমিটার জায়গা উন্মুক্ত রয়েছে। 

তিনি বলেন, “তিস্তা নদীর বেশ কিছু জায়গা আমরা প্রটেক্ট করেছি। এখন নতুন নতুন জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে সাধ্যমতো ভাঙন ঠেকাতে চেষ্টা করছি। তবে মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হলে তিস্তা নদী শাসন করা সম্ভব হবে।” 

এদিকে নদী ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পরেছে তিস্তা পাড়ের মানুষ। ভাঙন দ্রুত প্রতিরোধের আর্জি জানিয়েছেন তারা। 

ঘড়িয়ালডাঙা ইউপির খিতাব খাঁ গ্রামের ৬৮ বছর বয়সী মণ্ডল আলী  বলেন, “নদীর কাচারে পরি আছি, নদীর কোন ব্যবস্থা নাই; বস্তার কোন ব্যবস্থা নাই। আমরা যে কিভাবে থাকবো আমার কোন বুদ্ধি নাই। তিস্তা নদীর ঢলে পাড় বহুদূর ভাঙ্গি বহুদূর আউগাইছে। এই কারণে আমরা কিন্তু বর্তমানে বাঁশের থোপে, রাস্তার ধারে পরি পরি আছি।কাইল থাকি ফির যে ভাঙন শুরু হইছে আমরা কি থাকতে পারবো কি পারবের নই তার নিশ্চয়তা নাই।”’ 

বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি গ্রামের মেহেরন (৪০) বলেন, “নদী আমার সউগ কিছু নিয়া গেইছে। আবাদী জমি গেইছে। দুই বিঘা ধানি জমিত গাছ লাগাইছিলাম ভাঙন শুরু হওয়ায় পানির দরে গাছগুলা বেছি দিতে হইছে। ৫ লাখ টাকার গাছ নদী ভাঙনের কারণে ৮০-৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করি দিছি। এখন বাড়িটা ভাঙলে আমরা নিঃস্ব হয়া যাবো।” 

নাসিমা বেগম রামহরি গ্রামের ২৫ বছর বয়সী আরেক নারী জুলেখা বলেন, “নদী কাছোত আসায় ১৫দিন আগে টিনের ঘর ভাঙ্গি পাশের মনসুর মিয়ার জমিত রাখছিলাম। তারা জায়গা না দেয়ায় আগের জায়গাত ঘর নিয়ে আসলাম। এখন আমার থাকপের জাগা নাই।” 

ঘড়িয়ালডাঙার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিক জানালেন, তিস্তার ভাঙনে তার ইউপির শত শত বিঘা আবাদি জমি ভেসে গেছে। ৪০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। তাছাড়া গাছপালা, পুকুর ও মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

এ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল বাতেন বলেন, “এই এলাকায় গতিয়াসাম থেকে চতুরা পর্যন্ত প্রায় ৬/৭ কিলোমিটার জায়গায় তিস্তা নদীতে ভাঙন চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিলেও তা অপ্রতুল। এদিকে রক্ষা করলে আরেক দিকে ভাঙন শুরু হয়। এভাবে জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানো যাবে না। এজন্য দরকার বেশি বেশি জিও টিউব ব্যাগ। থাহলে ভাঙন থেকে এলাকা রক্ষা পাবে।”  

এছাড়া বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ২০টি পরিবার তিস্তার ভাঙনে গৃহহীন হয়েছে বলে চেয়ারম্যারন তাউউজুল ইসলাম জানান। 

Share if you like

Filter By Topic