কিয়েভ রুশ হামলা চলার মধ্যে নিজ দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করতে রাজধানীর পথে নেমেছেন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
শুক্রবার রাতে সঙ্গীসাথীদের নিয়ে কিয়েভের পথে হাঁটার ভিডিও সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দিয়ে তিনি বলেছেন, রুশ হামলার মুখেও রাজধানী থেকে পালাননি তারা।
অব্যাহত রুশ হামলায় কিয়েভের পতন হতে যাচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা। এরমধ্যে জেলেনেস্কির কিয়েভ ছাড়ার গুঞ্জনও ছড়িয়েছে।
তবে ভিডিওতে জেলেনস্কিকে বলতে শোনা যায়, “আমরা সবাই এখানেই আছে। আপনাদের প্রেসিডেন্ট এখানে আছেন, প্রধানমন্ত্রী এখানে আছেন। সৈন্যরা এখানে আছে, নাগরিকরাও। আমরা সবাই এখানে রয়েছি আমাদের দেশ, স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে এবং এখানেই থাকব।”
প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে ধারণ করা এই ভিডিওতে জেলেনস্কির সঙ্গে রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারাও ছিলেন।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টের এই ভিডিও প্রকাশের মধ্যেই শুক্রবার রাতে কিয়েভে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার খবর এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে।
ফক্স নিউজ জানিয়েছে, কিয়েভের উপর নানা দিক থেকে হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। রাস্তায় গাড়ি জ্বলতেও দেখা গেছে।
ইউক্রেইনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আগ্রহে ক্ষুব্ধ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কয়েক মাসের উত্তেজনার পর গত বৃহস্পতিবার সর্বাত্মক হামলার নির্দেশ দেন। তারপর থেকে সেখানে যুদ্ধ চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য বলছে, কিয়েভ রাশিয়ার দখলে চলে যেতে পারে দুই-তিন দিনের মধ্যে, আর তাতে ইউক্রেইনে নেতৃত্বের পতন ঘটতে পারে এক সপ্তাহের মধ্যেই।
রাশিয়ার উপর নানা নিষেধাজ্ঞা দিলেও যুক্তরাষ্ট্র এবং নেটো বলছে, তারা এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াবে না।
এই অবস্থায় শুক্রবার সকালে এক ভাষণে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে জেলেনস্কি বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীগুলো দূর থেকে তা প্রত্যক্ষ করছে। গতকালের নিষেধাজ্ঞায় কি রাশিয়া প্রভাবিত হয়েছে? আমরা আমাদের আকাশে যে শব্দ শুনছি ও ভূমিতে যা দেখছি তাতে এটা যথেষ্ট নয়।”
এক সময়ের কমেডি অভিনেতা জেলেনস্কি ২০১৯ সাল থেকে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টের পদে রয়েছেন।
