কানাডার সাসকাচুয়ান প্রদেশে ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়ে ১০ জনকে হত্যা, ১৮ জনকে আহত করার ঘটনার এক সন্দেহভাজন পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর হাসপাতালে মারা গেছেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
কানাডীয় পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বুধবার বিকালে সাসকাচুয়ান প্রদেশেরই রসটার্ন শহরে গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করে মাইলস স্যান্ডারসন নামের ৩২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সহকারী পুলিশ কমিশনার রন্ডা ব্ল্যাকমোর রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, স্যান্ডারসন এক বাড়ির বাইরে থেকে একটি গাড়ি চুরি করেছেন বলে খবর পেয়েছিলেন তারা। ওই গাড়ি নিয়ে ঘণ্টায় দেড়শ কিলোমিটার গতি তুলে পালানোর চেষ্টা করছিলেন স্যান্ডারসন।
পুলিশ তখন ধাওয়া করে রসটার্ন শহরের কাছে তাকে ধরে ফেলে এবং সেই এসইউভির ভেতরে একটি ছুরি পাওয়া যায়।
গ্রেপ্তারের পরপরই স্যান্ডারসন ‘অসুস্থ হয়ে পড়লে’ তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ কর্মকর্তা ব্ল্যাকমোর জানান।
বিবিসি লিখেছে, গ্রেপ্তারের সময় তোলা ছবিতে স্যান্ডারসনকে দাঁড়ানো অবস্থাতেই দেখা গিয়েছিল। কেন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, এসব প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো উত্তর পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া হয়নি।
আদিবাসী অধ্যুষিত জনবিরল সাসকাচুয়ান প্রদেশের ১৩টি এলাকায় রোববার ভোরে ছুরি নিয়ে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দশজন এখনও হাসপাতালে রয়েছেন, তাদের তিনজনের অবস্থা গুরুতর।

ডেমিয়েন স্যান্ডারসন ও মাইলস স্যান্ডারসন| ছবি: কানাডা পুলিশ
পুলিশ বলছে, মাইলস স্যান্ডারসনের ভাই ডেমিয়েন স্যান্ডারসনও হামলায় জড়িত ছিলেন। সোমবার জেমস স্মিথ ক্রি নেশন এলাকা থেকে ডেমিয়েনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি তার ভাইয়ের হাতেই খুন হয়েছেন কি না, পুলিশ তা তদন্ত করে দেখছে।
এ দুই ভাইয়ের বাবা-মা বুধবার মাইলস স্যান্ডারসনকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান। তাদের মা সিবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমার ছেলের জন্য, আমার ছেলেদের জন্য আমি ক্ষমা চাইছি।”
