Loading...

কাজের সময় কেন প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে পাওয়া যায় না?

| Updated: December 26, 2021 22:53:16


কাজের সময় কেন প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে পাওয়া যায় না?

চোখের সামনে রয়েছে তবু জিনিসটাকে যেন খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না বা কোথাও কিছু একটা রেখে দিয়ে পরবর্তীতে কিছুতেই সে বিষয়ে স্মরণ করা যায় না। এমনটা কমবেশি সকলের ক্ষেত্রে প্রায়ই হয়ে থাকে।

লিপবাম, চিরুনি, মাপার ফিতা, চুলের ব্যান্ড, নেইলকাটার, চার্জার, রিমোট - এমন কতশত জিনিস রয়েছে যা প্রয়োজনের সময় যেন কিছুতেই খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনটা কখনো শোনা যায়নি যে কেউ বাড়ি, গাড়ি বা কর্মস্থল খুঁজে পাচ্ছে না।

কেন এরকম হয়? যখন প্রয়োজন তখনই কেন খুঁজে পাওয়া যায় না সারাক্ষণ চোখের সামনে থাকা বস্তুটিও?

জনৈক ব্যক্তি হুট করেই তার পানির বোতলের ক্যাপটি খুঁজে পাচ্ছেন না। ক্যাপ ছাড়া পানির বোতলটি ব্যাগে বহনের ক্ষেত্রে বা বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য একদমই উপযুক্ত নয়।

খানিকটা বিরক্তি নিয়েই জনৈক ব্যক্তি ক্যাপ খুঁজতে শুরু করলেন। ঠিক যেখান থেকে ক্যাপটি উধাও হয়ে গিয়েছে সেখান থেকে শুরু করে ঘরের আনাচে-কানাচে সম্ভাব্য সকল জায়গায় খুঁজতে থাকলেন।

অবশেষে কোথাও খুঁজে না পেয়ে তিনি খোঁজা বন্ধ করে দিলেন এবং আশা ছেড়ে দিয়ে ধরে নিলেন যে ক্যাপটি হারিয়ে গেছে, তিনি আর কখনোই খুঁজে পাবেন না।

এর বেশ কিছুদিন পরে তিনি তার ডেস্কের ড্রয়ার খুলে অন্যান্য জিনিসপত্রের ঠিক পাশেই তার পানির বোতলের ক্যাপটি লক্ষ্য করলেন। অবাক করা বিষয় হলো তিনি প্রতিদিন এই ড্রয়ারটি খুলে থাকেন, তারপরও এই কদিনে ক্যাপটি একবারও তার নজরে আসেনি।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয়ে থাকে ‘ইনঅ্যাটেনশনাল ব্লাইন্ডনেস।’ এটি চোখের কোনো অন্ধত্ব নয়। চোখ খোলা থাকলেই যে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া বা উপস্থিত সবকিছু দেখতে পাওয়া যায় ব্যাপারটা কিন্তু মোটেও সেরকম নয়।

মনোযোগের উপর ভিত্তি করে বস্তুত সবকিছু দৃষ্টিগোচর হয়ে থাকে। এখানে জনৈক ব্যক্তি যেসব জায়গায় বোতলের ক্যাপটি থাকতে পারে বলে ধারণা করেছেন কেবলমাত্র সেসকল জায়গাতেই তার চোখ ক্যাপটিকে খুঁজেছে এবং ড্রয়ারে ক্যাপটি থাকা সত্ত্বেও অপ্রত্যাশিত হওয়ার কারণে সেখানে সেটি তার নজরে আসেনি।

চিকিৎসাবিদরা সুস্পষ্টতার প্রভাব, মানসিক চাপ, ওয়ার্কিং মেমরির কর্মক্ষমতা হ্রাস এসকল বিষয়গুলোকে ইনঅ্যাটেনশনাল ব্লাইন্ডনেসের কারণ হিসেবে দায়ী করে থাকেন। 

এছাড়াও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা নিচের কারণগুলোতেও আলোকপাত করেন।

খুব দ্রুত হাল ছেড়ে দেওয়া

সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজার পর হাল ছেড়ে না দিয়ে বরং যেসকল জায়গায় জিনিসটি থাকতে পারে না বলে একজন ধারণা করে থাকে খানিকটা সময় আরো ব্যয় করে সেসকল খুঁজলে অবশ্যই কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি খুঁজে পাওয়া যাবে।

খোঁজার পাশাপাশি সেই বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তা করা

মাথা ঠান্ডা রেখে ধীরে সুস্থে খোঁজাই শ্রেয়। কিছুক্ষণের জন্য খোঁজার বিষয়টিকে চিন্তার বাইরে নিয়ে যেতে হবে। অহেতুক চাপ না নিয়ে খানিকটা বিরতি নিয়ে আবার খুঁজলে সহজেই পাওয়া যাবে কিংবা কোথায় রাখা হয়েছে সেটিও মনে পরে যাবে।

খুঁজে না পাওয়া জিনিসটির উপর মায়া কাজ করা

কোনো কিছু হারিয়ে যেতেই পারে এবং ঐ জিনিসটি ছাড়াও ঠিকঠাক কাজ চলে যাবে এমন একটা ভাবনা মাথায় নিয়ে এসে, আবেগের বশীভূত না হয়ে খুঁজতে থাকলে এর ফলাফল ইতিবাচকই হবে। হারানো জিনিসটির জন্য যতবেশি দুঃখবোধ হবে, খুঁজে পেতে সময় লাগবে তত বেশি।

 

শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

zabin860@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic