কলম্বিয়ার আরাউকা প্রদেশে দু’টি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে লড়াইয়ে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী দিয়েগো মোলানো একথা জানিয়েছেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সেরর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী আরাউকায় রোববার বিদ্রোহী গোষ্ঠী ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (ইএলএন) সদস্যদের সঙ্গে অপর বিদ্রোহী গোষ্ঠী রেভলুশ্যনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়ার (এফএআরসি) ভিন্নমতাবলম্বীদের লড়াই শুরু হয়; এফএআরসির এই অংশটি ২০১৬ সালে হওয়া একটি শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল।
রোববার রাতে এক বিবৃতিতে কলম্বিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মাদক পাচারের মতো অবৈধ অর্থনীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে গোষ্ঠী দু’টির মধ্যে লড়াই শুরু হয়েছে।
এই লড়াইয়ের কারণে ১২টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে কলম্বিয়ার মানবাধিকার ন্যায়পাল জানিয়েছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) আমেরিকা বিষয়ক জ্যেষ্ঠ তদন্তকারী হুয়ান পাপিয়ের টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, ওই লড়াইয়ে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পেয়েছেন তারা। সেখানে ঘর ছাড়া করার ও অপহরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পাপিয়ের বলেন, “আরাউকা ও আপুরেতে তৎপর এফএআরসি’র ১০ম ফ্রন্টের সঙ্গে ইএলএনের লড়াই নিয়ে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।”
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভান দুকে আরাউকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও মোকাবেলার জন্য ব্যবস্থা নিতে সামরিক বাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি বৈঠকে ডেকেছিলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এক ভিডিও ব্রডকাস্টে দুকে বলেছেন, “ওই অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করার জন্য পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দুই ব্যাটেলিয়ন সৈন্য মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছে আমি।”
ভেনেজুয়েলা এফএআরসির ভিন্নমতাবলম্বীদের ও ইএলএনকে আশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগও করেন তিনি।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ভ্লাদিমির পাদরিনো এই অভিযোগকে উপহাস করে টুইটারে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কলম্বিয়ায় যে লড়াই চলছে তার প্রতিক্রিয়ায় সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে মোতায়েন ভেনেজুয়েলান সামরিক বাহিনী তাদের সতর্কতার মাত্রা আরও বাড়িয়েছে।
এর আগে ২০০০ সালের মাঝামাঝি আরাউকায় এফএআরসি ও ইএলএনের মধ্যে লড়াই শুরু হওয়ার পর তা ভেনেজুয়েলার আপুরে রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০১০ সালে থামে এ লড়াই।
এইচআরডব্লিউর তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ওই লড়াইয়ে ৫৮ হাজার লোক বাস্তুচ্যুত হয় এবং অন্তত ৮৬৮ জন বেসামরিক নিহত হন।
গত বছরের মার্চে কলম্বিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছিল। তখন প্রায় ৫ হাজার লোক আপুরেতে পালিয়ে গিয়েছিল।
