Loading...
The Financial Express

কতটা স্বাস্থ্যকর হিমালয়ের গোলাপি লবণ?

| Updated: June 12, 2022 20:31:57


ছবি: মেডিকেল নিউজ টুডে ছবি: মেডিকেল নিউজ টুডে

স্বাস্থ্যসচেতন অনেকেই প্রতিদিনের ব্যবহৃত সামুদ্রিক খাবার লবণের জায়গায় ব্যবহার করে থাকেন হিমালয়ান পিঙ্ক সল্ট বা গোলাপি লবণ। কিন্তু এই লবণ আসলেই কতটা স্বাস্থ্যকর?

পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশ থেকে সারা বিশ্বে এই রকসল্ট বা পাথুরে লবণ রপ্তানি হয়। বছরে ৮০ মিলিয়ন পাউন্ডের পিঙ্ক সল্ট উত্তোলিত হয়। তাই এটি হোয়াইড গোল্ড নামেও পরিচিত।

লবণ আহরিত হয় সমুদ্রের পানি হতে। পর্বতে কি করে লবণের জন্ম হতে পারে, ব্যাপারটা সত্যিই খুব বিস্ময়কর লাগতে পারে অনেকের কাছেই। আসলে প্রাগৈতিহাসিক যুগে হিমালয় পর্বতের পুরো জায়গাটিই ছিল সমুদ্র। লক্ষ লক্ষ বছর আগের সমুদ্র টেকটোনিক প্লেটের পরিবর্তনে হিমালয় পর্বতে পরিণত হয়েছে। তখন সমুদ্রের সব জল গরম লাভায় পুড়ে লবণ হয়ে গিয়েছিল।  তাই এর চাইগুলোতে যেন একটু পোড় খাওয়া ভাব। যাই হোক, তাপ থেকে উৎপত্তি বলে বিশেষজ্ঞরা একে পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ বা দূষণমুক্ত লবণ ভাবেন। কারণ এতে কোনো প্রকার বিষাক্ত উপাদান পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে আমরা রোজকার যে লবণ ব্যবহার করছি তাতে মিশে থাকে প্লাস্টিকের অতি ক্ষুদ্র কণা যা এসেছে সমুদ্রে ছুড়ে ফেলা প্লাস্টিক দ্রব্য হতে। মানবদেহে এসব কণা প্রদাহের কারণ হতে পারে। এছাড়াও সাধারণ সামুদ্রিক লবণ নানা রকম শোধন প্রক্রিয়ার পরে আমাদের গ্রহণ উপযোগী করা হয়, সেজন্য এতে মিলে থাকে রাসায়নিক পদার্থ। কিন্তু গোলাপি লবণের এধরণের কোনো ঝঞ্ঝাট নেই। সংগৃহীত চাই হতেই সরাসরি গুঁড়া করে ব্যবহার করা হয়।

হিমালয়ান পিঙ্ক সল্ট স্বাস্থ্যকর মেনে আজকাল রান্না বা খাবার প্রস্তুতে ব্যবহার করা হয়।  লবণটির প্রদাহরোধক ক্ষমতার জন্য স্পা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ বাথ সল্টের পরিবর্তে পিঙ্ক সল্ট ব্যবহার করে। এই লবণের বড় বড় পাথরের মত টুকরো গুলি কেটে ল্যাম্প মতো করা হয়, যার মধ্যে থাকে কৃত্রিম লাইট বা মোমবাতি। অনেকে বিশ্বাস করেন এই আলোতে ঘুমালে ঘুম ভালো হয়, কিন্তু এর পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

লবণটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক গোলাপি আভা যার কারণ আয়রন অক্সাইড। লবণের মূল উপাদান অবশ্য সোডিয়াম ক্লোরাইড যা শতকরা ৯৮ শতাংশ, যা সাধারণ সামুদ্রিক লবণের সমান। অবশ্য বাকি ২ শতাংশে রয়েছে সালফেট, ম্যাগনেসিয়াম, কপার, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম প্রভৃতি যা গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রলাইটের ভালো উৎস। জিংক, সেলেনিয়াম, ফ্লোরাইড, আয়োডিনসহ প্রায় ৮০টির মতো উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে এতে।

মানবদেহে সহজে শোষিত হয়ে কোষের কাজের উপযোগী হয়ে যায়। রোজ সকালে খালি পেটে যদি এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানিতে মাত্র ১ চা চামচ গোলাপি লবণ গুলে খাওয়া যায়, তবে সারাদিন চনমনে কাটবে। কারণ শরীরের সোডিয়ামের পরিমাণ ঠিক রেখে এটি শরীর ও মন শান্ত রাখে। ভালো অনুভূতির হরমোনগুলির ক্ষরণ বেশি হয়। ফলে দিন শেষে ঘুম ভালো হয়। অনেককে পিঙ্ক সল্ট সেবন করেন ডিটক্সিফায়ার বা কার্যকরী শোধক হিসেবে। যারা পেটে ভারী ভাবের সমস্যায় ভোগেন তাদের অন্ত্রের সংকোচন প্রসারণ বাড়িয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে পিঙ্ক সল্ট।

তবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, গোলাপি লবণের দানা সাধারণ লবণের থেকে বড়। মানে সাধারণ সামুদ্রিক লবণ গোলাপি লবণের থেকে বেশি মিহি। তাই সাধারণ লবণের সোডিয়ামের মাত্রা বেশি। রোজকার চাহিদায় প্রয়োজন ২৩৬০ মিলিগ্রাম  সোডিয়াম যা স্বাভাবিক লবণে এক চা চামচে পুরোটাই থাকে আর সেখানে  গোলাপি লবণে থাকে মাত্র ১৬৮০ মিলি গ্রাম।

হিমালয়ের গোলাপি লবণে বাহির থেকে কোনোরূপ আয়োডিন যুক্ত করা হয় না, আর যে পরিমাণ আয়োডিন প্রাকৃতিকভাবে থাকে তা থাইরয়েডের সমস্যায় ভোগা রোগীদের জন্যে যথেষ্ট নয়। তাই তাদের আয়োডিন যুক্ত লবণ গ্রহণ শ্রেয়।

তবে সব কথার শেষ কথা যেটি মনে রাখতে হবে, অন্য সব খাবার লবণের মতো এটিও একটি লবণ। তাই কখনোই স্বাস্থ্যকরী বলে বেশি সেবন করা যাবে না। এটিও রক্তচাপ বাড়িয়ে দেবার ক্ষমতা রাখে। রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে ফেলতে পারে কিডনি ও হৃদরোগের ঝুঁকিতে। তাই গ্রহণ করতে হবে পরিমিত, কখনোই একজন ব্যক্তির জন্য ২৩৬০ মিলি গ্রামের বেশি নয়। মানে দুই চা চামচ থেকে শুধু এক চিমটি বেশি!

সুস্মিতা রায় বর্তমানে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

susmi9897@gmail.com

 

Share if you like

Filter By Topic