Loading...

কত পারমাণবিক বোমা আছে রাশিয়ার হাতে?

| Updated: March 03, 2022 20:48:00


ইউক্রেইনে আগ্রাসন চালানোর কয়েক দিন আগেই পারমাণবিক অস্ত্রের মহড়া শুরু চালায় রাশিয়া ইউক্রেইনে আগ্রাসন চালানোর কয়েক দিন আগেই পারমাণবিক অস্ত্রের মহড়া শুরু চালায় রাশিয়া

ইউক্রেইনে যুদ্ধের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি রাখার হুকুম দিয়ে বিশ্বকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছেন রাশিয়ার নেতা ভ্লাদিমির পুতিন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ অবশ্য মনে করেন, অন্যদের এ যুদ্ধ থেকে দূরে রাখতেই পুতিন এমন হুমকি দিয়েছেন; বোমা ফাটানোর ইচ্ছে হয়ত তার নেই।

এই পৃথিবীতে পারমাণবিক বোমার বয়স হয়ে গেল প্রায় আশি বছর। অনেক দেশই মনে করে, বিপুল ধ্বংস ক্ষমতার এ বোমাই তাদের জাতীয় নিরাপত্তার চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দিতে পারে।

প্রশ্ন হল, রাশিয়ার হাতে কী পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র আছে? এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে।

কোনো দেশ কখনও তাদের পরিমাণবিক অস্ত্র মজুদের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে না। যেসব হিসাব পাওয়া যায়, তার সবই আসলে তথ্যনির্ভর অনুমান।

ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টসের ধারণা, রাশিয়ার হাতে থাকা পারমাণবিক ওয়ারহেড আছে ৫ হাজার ৯৭৭টি। অবশ্য এর মধ্যে দেড় হাজারের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় সরিয়ে ফেলার সময় হয়েছে।     

বাকি যে সাড়ে চার হাজার ওয়ারহেড সক্রিয় বলে ধারণা করা হয়, সেগুলো রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণিক অস্ত্র বহরের অংশ। ব্যালিস্টিক মিসাইল বা রকেটের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য এসব ওয়ারহেড তৈরি করা হয়েছে। মূলত পারমাণবিক যুদ্ধের উপক্রম হলে তখন এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করার কথা।   

এর বাইরে অন্য পারমাণবিক বোমাগুলো হয় আকারে ছোট, ধ্বংসক্ষমতাও হয় তুলনামূলকভাবে কম। স্বল্প দূরত্বের যুদ্ধক্ষেত্রে বা সাগরে ব্যবহারের জন্য এ ধরনের অস্ত্র তৈরি করা হয়।   

রাশিয়ার হাতে সাড়ে চার হাজার পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকার মানে এই নয় যে তার সবগুলো ব্যবহারের জন্য তৈরি অবস্থায় আছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেড় হাজারের মত পারমাণবিক ওয়ারহেড এখন মিসাইল বেইজ, বিমানঘাঁটি আর সাবমেরিনে প্রস্তুত অবস্থায় রাখা আছে।

অন্যদের কী অবস্থা?

বর্তমান বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্র আছে নয় দেশের হাতে: যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ইসরায়েল, ভারত, পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়া।

যে ১৯১টি দেশ পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি-এনপিটিতে সই করেছে, তার ভেতরে চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও আছে।

ওই চুক্তি অনুযায়ী, পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ ধারাবাহিকভাবে কমিয়ে আনতে এবং এক পর্যায়ে তা শূন্যে নামিয়ে আনতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আর পরমাণু ক্ষমতাধর দেশগুলো সত্তর ও আশির দশকের তুলনায় তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ কমিয়েও এনেছে। 

ভারত, ইসরায়েল ও পাকিস্তান কখনোই এনপিটিতে যায়নি। উত্তর কোরিয়া ২০০৩ সালে ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়।

ইসরায়েল হল একমাত্র দেশ, যারা তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি। তবে বিশ্বজুড়ে এটা স্বীকৃত যে তাদের হাতে পারমাণবিক বোমা আছে। 

ইউক্রেইনের হাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের অভিযোগ, ইউক্রেইন ওই বোমা সংগ্রহ করার চেষ্টায় আছে, যদিও তার কোনো প্রমাণ এখনও মেলেনি।

পারমাণবিক বোমা কতটা বিধ্বংসী

এ বোমার নকশাই করা হয় সর্বোচ্চ ধ্বংসসাধনের লক্ষ্য রেখে। ধ্বংসের মাত্রা নির্ভর করে এর আকার, ভূমি থেকে কতটা উপরে বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর।  

তবে সবচেয়ে ছোট বোমাটিও বিপুল প্রাণের ধ্বংস ডেকে আনতে পারে, এর প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জাপানের হিরোশিমার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ফেলা যে বোমাটি ১ লাখ ৪৬ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল, সেটি ছিল ১৫ কিলোটনের। আর এখন হাজার কিলোটনের বোমাও আছে কোনো কোনো দেশের মজুদে।

কোথাও পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ হলে তার সীমার ভেতরে বেশি কিছু টিকে থাকার সুযোগ নেই।

চোখ ধাঁধানো আলোর ঝলকানি, বিশাল আকারের আগুনের গোলা এবং ভয়ঙ্কর শকওয়েভ- এরপর কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে সামনে যা পড়বে, এক কথায় ধ্বংস হয়ে যাবে।

নিউক্লিয়ার ডিটারেন্ট’

বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র মজুদ করে রাখার পেছনে একটি যুক্তি হল, এর মধ্যে দিয়ে শত্রুকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার সক্ষমতা পাওয়া যাবে। আর সেই ভয়েই শত্রু ঘাটানোর সাহস করবে না।

বছরের পর বছর ধরে বহু পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে এর কারিগরি উন্নয়ন এবং ধ্বংসক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। তবে ১৯৪৫ সালের পর কোনো যুদ্ধে আর এ অস্ত্রের ব্যবহার হয়নি।

রাশিয়ার পরমাণু নীতিতে এ ধরনের অস্ত্রকে কেবলডিটারেন্ট’ হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। চার ধরনের পরিস্থিতির কথা সেখানে বলা হয়েছে, যখন এ অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে।

. রাশিয়া বা তার কোনো মিত্রের সীমানা লক্ষ্য করে যদি অন্য কোনো দেশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।

. রাশিয়া বা তার কোনো মিত্রের ওপর যদি পারমাণবিক অস্ত্র বা অন্য কোনো ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়।

. রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কোনো সরকারি বা সামরিক স্থাপনায় হামলার কারণে যদি এর পারমাণবিক সক্ষমতা হুমকির মুখে পড়ে।

. প্রথাগত অস্ত্র ব্যবহার করে যদি রাশিয়ায় আগ্রাসন চালানো হয় এবং তাতে যদি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে।

কতটা উদ্বেগের?

বিবিসি লিখেছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি কিছুটা হলেও বেড়েছে, তবে এখনও তার মাত্রা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। 

পুতিনের হুমকি যদি শুধু ভয় দেখানোর জন্যও হয়, তারপরও হিসাবের গড়বড় হওয়ার একটি ঝুঁকি সবসময়ই থাকে। কোনো এক পক্ষ যদি অন্য পক্ষের পদক্ষেপের ভুল ব্যাখ্যা করে, অথবা কোনোভাবে যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইর চলে যায়, তখন তা বিপজ্জনক দিকে মোড় নিতে পারে। 

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বেন ওয়ালেস অবশ্য বলছেন, রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডারে নড়াচড়ার কোনো ইংগিত তারা এখনও দেখছেন না।    

তবে সবাই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে, সন্দেহ নেই।

Share if you like

Filter By Topic