করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে চলমান কঠোর লকডাউন এক সপ্তাহের হলেও তা আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর পক্ষে কোভিড সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরী পরামর্শক কমিটি।
সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকায় জাতীয় কমিটির সুপারিশের পরই গত ১ জুলাই থেকে সরকার কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করে।
তার চার দিন গড়ালেও এর মধ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় নতুন রেকর্ডের পর জাতীয় কমিটি লকডাউনের বাড়ানোর পক্ষেই অবস্থান জানাল।
কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ রোববার বলেন, গত ২৪ জুন জাতীয় কমিটি যে সুপারিশ করেছিল, তাতে ১৪ দিনের লকডাউনের কথাই বলা হয়েছিল। কমিটি এখনও মনে করে সংক্রমণ কমিয়ে আনতে কমপক্ষে ১৪ দিনের লকডাউন প্রয়োজন।
আমরা নতুন করে কিছু বলি নাই। আমাদের অবস্থা খুব ক্লিয়ার। আমরা প্রথম যে পরামর্শ দিয়েছিলাম, সেখান পরিষ্কারভাবে বলেছি, যদি বিজ্ঞানসম্মতভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে চাই, তাহলে লকডাউন বা বিধিনিষেধ দুই সপ্তাহের হতে হবে। আমরা এখনও এটাই মনে করি। আমরা মনে করি এর কম সময়ে নিয়ন্ত্রণে আসবে না।
চলমান লকডাউন ৭ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছিলেন, প্রয়োজনে লকডাউনের মেয়াদ বাড়তে পারে।
মহামারীর বছর গড়ানোর পর করোনাভাইরাসের ভারতে উদ্ভূত ডেল্টা ধরন বাংলাদেশে সংক্রমিত হওয়ার পর গত এপ্রিল মাস থেকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সীমান্তের বিভিন্ন জেলায় আলাদাভাবে লকডাউন দিয়েছিল। কিন্তু তাতে ফল না আসায় গত ২৪ জুন দেশে একটানা ১৪ দিনের সম্পূর্ণ শাটডাউনদেওয়ার সুপারিশ করে জাতীয় কমিটি।
সেদিন কমিটির ৩৮তম সভা শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ডেল্টা প্রজাতির সামাজিক সংক্রমণ চিহ্নিত হয়েছে এবং দেশে ইতোমধ্যেই রোগের প্রকোপ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। রোগ প্রতিরোধের জন্য খণ্ড খণ্ডভাবে গৃহীত কর্মসূচির উপযোগিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।