কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে তিন বছরের মাথায় আবার 'নারী ও শিশুদের জন্য' সংরক্ষিত অঞ্চল চালু করেছে প্রশাসন।
বুধবার দুপুরে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে বিশেষায়িত এ পর্যটন অঞ্চল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনর রশীদ। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বিস্তৃত সৈকতের লাবণী পয়েন্টের বালিয়াড়ির অন্তত দেড়শ মিটার এলাকায় দুই পাশে সাইনবোর্ড ও গোলাপী রঙের পতাকা লাগিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে 'নারী ও শিশুদের' সংরক্ষিত এ বিশেষ এলাকা। এখানে শুধু নারী ও শিশুদের প্রবেশাধিকার থাকবে।
এর আগে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সৈকতের সী-গাল পয়েন্টে এ ধরনের বিশেষ অঞ্চল চালু করা হলেও পরবর্তীতে তা বন্ধ হয়ে যায়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কক্সবাজার ঘুরতে আসা যেকোনো নারী পর্যটক চাইলে তার শিশু সন্তানকে নিয়ে সংরক্ষিত এ জোনে সাগরে স্নানসহ নির্বিঘ্নে আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।
এ অঞ্চলকে নারীবান্ধব করে গড়ে তুলে নিরাপত্তাসহ নানা সেবা কার্যক্রমে নারীরাই নিয়োজিত থাকবে। এখানে স্থাপিত পর্যটক ছাতা, বিচ-বাইক, টিউব ও ‘পারসোনাল ওয়াটার ক্রাফট’সহ [জেটস্কি, ওয়েব রানার ইত্যাদি] বিনোদনের যেসব আয়োজন থাকবে সেগুলো শুধু নারী ও শিশুরাই ব্যবহার করার সুযোগ পাবে।
জোনটিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের নারী সদস্যদের পাশাপাশি নারী সৈকতকর্মীরাই নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
সংরক্ষিত এ অঞ্চলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে জেলা পরিষদের উন্মুক্ত মঞ্চে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মামুনুর বলেন, সমুদ্র সৈকতে নারী ও শিশুদের বিশেষ একটা সুরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে সংরক্ষিত জোন গড়ে তোলা হয়েছে। নারীদের মধ্যে শুধু যারা নিজেদের মত করে সময় কাটাত চান তাদের জন্যই বিশেষায়িত এ ব্যবস্থা।
“পর্যটক ভাইয়েরা বোনেরা যারা আসবেন, তারা অবশ্যই যেখানে ইচ্ছা সেখানে সমুদ্রের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। কিন্তু আমরা চাচ্ছি, নারী ও শিশুদের মধ্যে যারা নিজেদের মত করে সৈকতে সময় কাটাতে চান তাদের জন্য বিশেষ একটা জোন থাকুক।"
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, "আমরা (প্রশাসন) কোনো বিষয়ে নেতিবাচক নয়, ইতিবাচকভাবে সব বিষয়ে চিন্তা করব। ভালো যেকোনো উদ্যোগে সকলে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চাই।"
এ সময় নিরাপত্তাসহ সবধরনের সেবা কার্যক্রমে নারীদের নিয়োজিত রাখা হবে বলেও জানান মামুনুর রশীদ।
২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নারীদের জন্য বিশেষ অঞ্চল চালু করা হয়েছিল। পরে সেটা বন্ধ হয়ে যায়।
এ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক মামুনুর বলেন, "বিশেষ এ উদ্যোগটি কার্যকর করতে সকলেই সমন্বিতভাবে কাজ করব। যাতে করে সেটা কার্যকর হয় এবং সুফল সবাই পায় এ ব্যাপারে প্রশাসন সচেষ্ট থাকবে।"
তবে এ উদ্যোগটি ‘বিশেষ কোনো কঠিন কাজ নয়’ বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম, ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আহমেদ, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল), কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছার ও কক্সবাজার ট্যুর অপারেশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনোয়ার কামালসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
