‘এয়ার বাবল’ চুক্তির আওতায় শুক্রবার থেকে ভারতের সঙ্গে বিমান চলাচল শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
মঙ্গলবার ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীর উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “২০ অগাস্ট থেকে শুরু হবে। বাংলাদেশে অনেক রোগীর দিক থেকে এখানে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আমরা সেজন্য ভারতকে অনুরোধ করেছিলাম। ভারত এক্ষেত্রে রাজি হওয়ায় তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।”
বিশেষ পরিস্থিতিতে নিয়মিত ফ্লাইট বন্ধের সময় দুটি দেশ যখন বিশেষ ব্যবস্থায় নিজেদের মধ্যে বিমান যোগাযোগ স্থাপন করে, তাকে ‘এয়ার বাবল’ বলে।
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে গত বছরের অক্টোবরে ভারতের সঙ্গে ‘এয়ার বাবল’ চুক্তির আওতায় বিমান চলাচল শুরু করেছিল বাংলাদেশ।
এরপর চলতি বছরের এপ্রিলে মহামারীর কারণে ভারতে বিপর্যস্ত অবস্থার কারণে বিশেষ ব্যবস্থার ওই বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ভারত সরকারের উপহারের অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এয়ার বাবল পুনরায় চালুর খবর দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।
অনুষ্ঠানে ভারত থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা সরবরাহের অগ্রগতি জানতে চাইলে তার কোনো দিনক্ষণ জানাতে পারেননি ভারতীয় হাই কমিশনার দোরাইস্বামী।
তিনি বলেন, “এটা এখন ভারতের চাহিদা মেটানোর প্রক্রিয়ায় আছে। আমাদের কোভিড পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আমরা ভারতের চাহিদা মেটানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছিলাম।
“এর মধ্যে আমরা অক্সিজেনসহ অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানোর কাজ এতদিন করেছিলাম। আশা করি, ভারতে আমাদের চাহিদা মিটে গেলে বাংলাদেশেও পাঠানো শুরু হবে।”
ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে গণটিকাদান শুরু হয়েছিল।
সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি কোভিশিল্ড টিকার ৩ কোটি ডোজ কিনতে চুক্তি করেছিল সরকার। কিন্তু ৭০ লাখ ডোজ আসার পর ভারত রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলে আর চালান আসেনি।
ভারত থেকে কেনা টিকা পাঠানো নিয়ে কাজ চলছে মন্তব্য করে দোরাইস্বামী বলেন, “আমরা বলছি না, আমাদের সরবরাহ নাই। ভারতে সঙ্কট মিটে গেলে আমরা পাঠাব।
“আমরা বলছি, যখনই সম্ভব হবে আমরা টিকা পাঠাব। কারণ, বাংলাদেশ আমাদের অগ্রাধিকার তালিকায় আছে। বাংলাদেশ টিকা কেনার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি।”
