তীব্র সমালোচনার মুখে রাশিয়াকে রুখতে শেষ পর্যন্ত ইউক্রেইনে সমরাস্ত্র পাঠাচ্ছে জার্মানি। তারা ইউক্রেইনে এক হাজার ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র এবং পাঁচশ ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (স্টিংগার) পাঠাবে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বার্লিন থেকে শনিবার এ খবর নিশ্চিত করা হয় বলে জানায় বিবিসি।
নিজেরা অস্ত্র পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার আগে জার্মান সরকার তৃতীয় কোনো দেশের জার্মানির তৈরি সমরাস্ত্র ইউক্রেইনে পাঠাতে যে বাধা ছিল তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র রপ্তানি না করার নীতি গ্রহণ করে আছে। এমনকি, তৃতীয় কোনো দেশকে জার্মানির তৈরি সমরাস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার বা পাঠানোর আগে বার্লিনের অনুমতি নিতে হয় এবং তারা সাধারণত ওই অনুমতি দেয় না।
ইউক্রেইনে অস্ত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত তাদের ওই নীতিতে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইউক্রেইনে অস্ত্র পাঠানো নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ওলফ শলৎস বলেন, এই পরিস্থিতিতে, ভ্লাদিমির পুতিনের দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিজেদের সর্বশক্তি নিয়ে ইউক্রেইনের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সমর্থন করা আমাদের দায়িত্ব।
তৃতীয় দেশের জার্মান অস্ত্র রপ্তানির বাধা প্রত্যাহার:
তৃতীয় কোনো দেশের জার্মানির তৈরি সমরাস্ত্র ইউক্রেইনে পাঠাতে যে বাধা ছিল তা প্রত্যাহার করেছে জার্মান সরকার।
শনিবার জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয় বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, চ্যান্সেলরের অধিদপ্তর থেকে এই বাধা প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবিসি জানায়, জার্মানির এই সিদ্ধান্তের ফলে নেদারল্যান্ডস এখন ইউক্রেইনে জার্মানির তৈরি রকেট চালিত গ্রেনেড লঞ্চার (৪০০ আরপিজিএস) পাঠাতে পারবে।
ইউরোপের দেশগুলোর সেনাবাহিনীর হাতে জার্মানির তৈরি সমরাস্ত্রই বেশি। কিন্তু জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র রপ্তানি না করার নীতি গ্রহণ করে আছে। এমনকি, তৃতীয় কোনো দেশকে জার্মানির তৈরি সমরাস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার বা পাঠানোর আগে বার্লিনের অনুমতি নিতে হয় এবং তারা সাধারণত ওই অনুমতি দেয় না।
জার্মানির সমরাস্ত্র রপ্তানি নীতিতে এই পরিবর্তনের ফলে স্বাভাবিকভাবেই ইউক্রেইনে ইউরোপের দেশগুলোর অস্ত্র সহায়তা বাড়বে।
জার্মানিতে ইউক্রেইনের রাষ্ট্রদূত শনিবার বার্লিনকেও সমরাস্ত্র সহায়তা পাঠানো দেশগুলোর কাতারে সামিল হওয়ার অনুরোধ করেছেন।
ইউক্রেইন দূতাবাস থেকে শনিবার রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত অ্যান্ড্রি মালনিক বলেন, শুনুন, আমাদের সাহায্য করার চূড়ান্ত সময় এসে গেছে। আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রযোজন, আমাদের একটি নো ফ্লাই জোন খুব প্রয়োজন।
রাশিয়া ইউক্রেইনে হামলা করতে পারে, জানুয়ারির শেষ দিকে যখন এমন আশঙ্কা গভীর হচ্ছিল তখন জার্মানি কিয়েভে পাঁচ হাজার হেলমেট পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। ক্ষুব্ধ কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো একে নিষ্ঠুর কৌতুক বলে ওই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এখন পর্যন্ত কিয়েভে একটি ফিল্ড হাসাপাতাল পাঠিয়েছে জার্মানি।
চেক প্রজাতন্ত্রের অস্ত্র সহায়তা:
চেক প্রজাতন্ত্রও ইউক্রেইনে অস্ত্র এবং গোলাবারুদ পাঠাচ্ছে।
বিবিসি জানায়, চেক প্রজাতন্ত্র সরকার ৮৬ লাখ মার্কিন ডলার বেশি মূল্যের অস্ত্র ও গোলাবারুদের ওই চালান ইউক্রেইনে পাঠানোর প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে।
যেগুলোর মধ্যে মেশিন গান, অ্যাসল্ট রাইফেল এবং আরো কিছু হাল্কা সমরাস্ত্র রয়েছে বলে জানায় চেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।