ইউক্রেইনে আগ্রাসনের জেরে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শাসন থেকে মুখ ফেরাতে শুরু করেছে রাশিয়ার ধনীরা। দেশান্তরের এক উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বছর রাশিয়া ছেড়ে চলে যেতে পারে ১৫ হাজারের বেশি ধনকুবের।
দেশান্তর সংক্রান্ত উপাত্ত বিশ্লেষণকারী লন্ডন-ভিত্তিক ফার্ম হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের হিসাবমতে, ১০ লাখ ডলারের বেশি সম্পদ থাকা রুশ নাগরিকদের প্রায় ১৫ শতাংশ ২০২২ সালের শেষ নাগাদ অন্য দেশে চলে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
হেনলি ফার্মের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান ‘নিউ ওয়ার্ল্ড ওয়েলথ’ এর প্রধান গবেষক অ্যান্ড্রু অ্যামোইলস বলেন, “রাশিয়া ধনকুবেরদের রক্তক্ষরণ করছে। গত এক দশক ধরে প্রতি বছর ধনীদের রাশিয়া ছাড়ার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।”
“ধনকুবেরদের দেশ ছাড়ার এই প্রবণতা রাশিয়ার জন্য আগাম সতর্কবার্তা। ঐতিহাসিকভাবে, ধনীদের দেশ ছাড়ার মধ্য দিয়ে সাধারণত বড় একটি দেশের পতন ঘনিয়ে আসে। ধনীরা প্রায়ই সবার আগে দেশ ছেড়ে যায়, কারণ তাদের এটি করার উপায় আছে।”
‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকা জানায়, ইউক্রেইনের ধনকুবেরদের একটি বড় অংশও এবছর দেশ ছাড়তে পারে।২,৮০০ ধনকুবের (ধনী নাগরিকদের ৪২ শতাংশ) এ বছর ইউক্রেইন ছাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বের ধনীরা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে স্থানান্তরিত হয় এবং হয়ে আসছে। কিন্তু হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স বলছে, এ বছর সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দেশান্তরিত ধনকুবেরদের জন্য এক নম্বর গন্তব্য হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যকে টপকে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বছর আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ধনকুবের স্থানান্তরিত হতে পারে। এছাড়া, অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৩,৫০০, সিঙ্গাপুরে ২,৮০০ এবং ইসরায়েলে ২,৫০০ ধনকুবের স্থানান্তরিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাল্টা, মরিশাস এবং মানাকোতেও যেতে পারে বেশ কিছু সংখ্যক ধনকুবের।
