অবশেষে সাংহাই-ভিত্তিক নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এনডিবি) ১ শতাংশ অংশীদারত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ। ব্রিকস জাতিগুলোর পাঁচ প্রতিষ্ঠাতা দেশের পরে বাংলাদেশকে তিনটি শেয়ারহোল্ডার পদের একটি গ্রহণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
গত শনিবারে চীনের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত ব্লক সামিটে কর্মকর্তারা জানান যে, ঢাকা এখন এনডিবিকে তার অংশীদারত্বের জন্য নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্যাংকটি পূর্বে পরিচিত ছিলো ব্রিকস ব্যাংক নামে।
বহুপাক্ষিক এই ব্যাংকটি আগে এর পাঁচটি সদস্য দেশ - ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং সাউথ আফ্রিকার (ব্রিকস) পর ষষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে ০.৭৬ শতাংশ শেয়ার মালিকানা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। এ ব্যাপারে সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদি জাতিসংঘের অন্যান্য সদস্য দেশ ব্যাংকটির শেয়ার মালিকানা পায়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের অংশীদারত্বের ভাগ কমে ০.৪২ শতাংশে নামবে।
ব্যাংকটির শেয়ার হোল্ডার হওয়ার জন্য ঢাকাকে পরবর্তী ৭ বছরে ৪,০০০ লক্ষ আমেরিকান ডলার প্রদান করতে হবে, জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা। সাংহাই-ভিত্তিক বহুপাক্ষিক উন্নয়ন কার্যক্রমে জড়িত এই ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের বোর্ড তিনটি দেশকে সদস্য পদ পেতে অনুমোদন দিয়েছে - বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং উরুগুয়ে। এরপর সদ্য প্রতিষ্ঠিত ব্রিকস ব্যাংকের ১ শতাংশ মালিকানা পাওয়ার জন্য মধ্যস্থতা করে বাংলাদেশ।
এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অর্থমন্ত্রী এএইচএম মোস্তফা কামাল ও এনডিবি ব্যাংকের সভাপতি মার্কোস ট্রিয়োজোর মধ্যে অনুষ্ঠিত সভায় অর্থমন্ত্রী ন্যূনতম ১ শতাংশ মালিকানার দাবি জানান।
মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, আমরা এখনই ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাক্সেশন (আইওএ) বা একীভূতকরণ দলিল প্রস্তুত করছি। এনডিবি আমাদের আইওএ গ্রহণ করলে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এর সদস্য পদ লাভ করবে।
তিনি আরো জানান, এছাড়াও তারা সাধারণ শেয়ার ও কল শেয়ারের সাবস্ক্রিপশন ফি প্রদানের জন্য এনডিবির বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার অপেক্ষা করছেন।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন সহ উঠতি অর্থনীতির দেশগুলো নিয়ে গড়ে ওঠা এই ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ১০,০০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ২০ লক্ষ শেয়ারে বিভক্ত। প্রতি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১ লক্ষ ডলার।
এনডিবির প্রবর্তক সদস্যরা ৫ লক্ষ শেয়ারের মাধ্যমে প্রাথমিক মূলধনের তহবিল তৈরি করেন, যার মোট মূল্য ৫,০০০ কোটি মার্কিন ডলার। ৫ লক্ষ শেয়ারের ১ লক্ষ দিয়ে গঠিত হয় ২৫ ভাগ পরিশোধিত মূলধন এবং বাকি ৭৫ ভাগ কল-আপ মূলধন আসে ৪ লক্ষ শেয়ারের মাধ্যমে।
পাঁচ প্রতিষ্ঠাতা দেশের মধ্যে প্রাথমিক মূলধন সমানভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়। ব্যাংকের সদস্যপদ জাতিসংঘের দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত।
এনডিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্রিকস দেশগুলো সদস্যপদ লাভে আগ্রহী দেশগুলোর জন্য ৪৯ শতাংশ মালিকানা ছেড়ে দেবে।
অর্থ মন্ত্রালয়ের কর্মকর্তা বলেন যে, এনডিবিতে সদস্যপদ পেলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা জোরদার করার প্রয়াস আরো মজবুত হবে।
২০১৬ সালে চীনের নেতৃত্বে পরিচালিত এশিয়ান অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকে (এআইআইবি) যোগদান করে বাংলাদেশ। বেইজিং-ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের শক্তি, যানবাহন, পানি ও স্বাস্থ্যসহ আরো কয়েকটি খাতের অনেক প্রকল্পে অর্থায়ন করে আসছে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরে বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক, জাপান, ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক, ইউকে এইড এবং ইউএসএইড সহ অনেক বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিকদাতা প্রতিষ্ঠান সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্ষুধা সমস্যা হ্রাস করতে বাংলাদেশকে ঋণ ও অনুদান দিয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এই ব্যাংকে যোগদানের আমন্ত্রণ জানান দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। নিজের কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এনডিবি এর সদস্যপদের নীতি পাকাপাকি করেছে এবং নতুন সদস্যদের জন্য নিয়মকানুনের খসড়া তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
জাতিসংঘের যে কোনো সদস্য দেশ এনডিবির সদস্য হতে আবেদন করতে পারবে এই নীতির পাশাপাশি আরো একটি নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে আবেদন করা প্রতিটি সদস্যদেশকে ব্যাংকের কাছে অন্য দুটি দেশকে মনোনীত করতে হবে।
সদস্য বাড়ানোর পরিকল্পনাটি গতবছর নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল ব্রিকস সামিটে উত্থাপিত হয়েছিল।
kabirhumayan10@gmail.com