Loading...

এ অর্জন ব্যর্থ হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

| Updated: November 21, 2021 17:33:08


এ অর্জন ব্যর্থ হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে রোববার খেতাবপ্রাপ্ত নির্বাচিত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের জন্য আয়োজিত সংবর্ধনা এবং সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিকালীন পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পাঁচজন সেনা, দুইজন নৌ এবং একজন বিমান বাহিনী সদস্যকে ২০২০-২১ সালের শান্তিকালীন পদকে ভূষিত করেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

শেখ হাসিনা বলেন, “১৯৭১ সালে এদেশের মানুষ তাদের সমস্ত কিছু ঢেলে দিয়ে সমর্থন জানিয়েছে আওয়ামী লীগকে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কাজেই এ সকল মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অর্জিত স্বাধীনতা, এটা কখনো ব্যর্থ হতে পারে না। কাজেই বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে, বাংলাদেশকে বিশ্ব মর্যাদায় আমরা আজকে নিয়ে এসেছি, এই মর্যাদা ধরে রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।”

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা ইনশাল্লাহ আমরা গড়ে তুলব।”

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ শুরুর দিনটি প্রতি বছর সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে উদযাপন করে বাংলাদেশ।

সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে এই সশস্ত্র বাহিনী দিবসে আমি এইটুকু চাই যে আমাদের এই দেশের অগ্রযাত্রা যেন কোনো রকম ব্যাহত না হয়। বাংলাদেশ যেন সারাবিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে। প্রতিটি বাঙালি পৃথিবীর যেখানে যাবে, মাথা উঁচু করে গর্বভরে বলতে পারবে যে আমরা বিজয়ী জাতি, আমরা উন্নত জাতি। আমরা আমাদের নিজেদের দেশকে গড়ে তুলেছি, একটা সম্মানজনক অবস্থানে। সেটুকুই আমাদের আকাঙ্ক্ষা, সেটুকুই আমাদের কামনা।”

সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আজকে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য, শুধু সশস্ত্র বাহিনী না, আমি প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। যার ফলে আজকে আমরা এইটুকু দাবি করতে পারি, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সমানতালে পা মিলিয়ে চলতে পারে, সেই সক্ষমতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে।

“লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যেটা অর্জন করেছি, সেটা ধরে রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আজকের দিনে আমাদের সেটাই মাথায় রাখতে হবে যে এই দেশ আমরা স্বাধীন করেছি লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে।”

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার পুরো জীবনই যে মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন, সে কথা তুলে ধরে তার মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে বারবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে, সন্তান হিসেবে খুব কম সময়ই তারা বাবাকে কাছে পেয়েছেন।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলে সে সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। সে সময় যারা অবৈধভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছিল, তারা দেশে ফেরার পথে বাধা তৈরি করেছিল। ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে দলের হাল ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “জাতির পিতাকে হত্যার পর এদেশে এমন একটা সময় এসেছিল, যখন মুক্তিযোদ্ধারা পরিচয় দিতে ভয় পেত… মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছিল। একটা মনগড়া ইতিহাস চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। আমি জানি না পৃথিবীর কোনো দেশে কখনো নিজেদের বিজয়গাথা এভাবে বিকৃত করেছে কি না। কিন্তু সেই ধরনের একটা জঘন্য কাজ আমাদের দেশে করা হয়েছিল।“

জাতির পিতা ‘মাটি ও মানুষ দিয়ে’ এই দেশকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যখন সরকারে এসেছি, আমাদের একটাই লক্ষ্য ছিল, দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। আমাদের যে গৌরব ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে পেয়েছিলাম, যে গৌরব বাংলাদেশ হারিয়েছিল ৭৫ এর ১৫ অগাস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করে, আমরা আবার সেই গৌরব ফিরিয়ে এনে জাতির পিতার যে আদর্শ, সেই আদর্শ বাস্তবায়ন করব।”

Share if you like

Filter By Topic