Loading...
The Financial Express

উড়োজাহাজ লিজ: লোকসান থেকে ‘শিক্ষা নিয়েছে’বিমান

| Updated: June 02, 2022 14:21:48


ফাইল ছবি (সংগৃহীত) ফাইল ছবি (সংগৃহীত)

মিশর থেকে ভাড়ায় আনা দুটি বোয়িং উড়োজাহাজে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক হাজার ১০০ কোটি টাকাগচ্চা’ যাওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

বুধবার দুদকের একটি দল বিমানের সদর দপ্তর বলাকায় গিয়ে নথিপত্র দেখেছে।

এ অনুসন্ধান দলকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত এ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামাল তাদের (দুদক) কাজ নির্বিঘ্নে শেষ করতে বিমানের লোকজনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এদিন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ট্রেনিং সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দুদককে সহযোগিতা করার বিষয়টি জানান তিনি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

ওই সভায় জানতে চাওয়া হয়েছিল, দুটি উড়োজাহাজ লিজ নিয়ে সরকারের ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে- এক্ষেত্রে বিমান কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

জবাবে বিমানের পরিচালক (প্ল্যানিং অ্যান্ড ট্রেনিং) এয়ার কমোডর মো. মাহবুব জাহান খান বলেন, “বিমান এখান থেকে শিক্ষা নিয়েছে। এটা সবচেয়ে বড় কথা।

এই ঘটনার পর বিমানের একটি লিজ গাইডলাইন হয়েছে। ভবিষ্যতে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার ক্ষেত্রে কতগুলো সভা হবে, বোর্ডে কতবার উপস্থাপন করতে হবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।“

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে এ সভার আয়োজন করে বিমান কর্তৃপক্ষ।

২০১৪ সালে মার্চ ও মে মাসে ইজিপ্ট এয়ার থেকে দুটি উড়োজাহাজ ভাড়া নেয় বিমান। ওই দুটি উড়োজাহাজ ত্রুটিপূর্ণ থাকায় বিমানের তাতে লোকসান হয় বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর বের হয়। এ নিয়ে অনুসন্ধান করতেই দুদকের দলটি বুধবার বলাকা ভবনে আসে।

পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে বোয়িং ৭৭৭-২০০ উড়োজাহাজ দুটি লিজ নেয় বিমান। এর একটি বিমানের বহরে যুক্ত হয় ২০১৪ সালের মার্চে এবং অন্যটি একই বছরের মে মাসে।

এক বছরের কম সময় অর্থাৎ ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফ্লাইট পরিচালনার পর একটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন।

এ দুটো উড়োজাহাজের পেছনে পাঁচ বছরে বাংলাদেশ বিমানের নিট ক্ষতি হয়েছে ১১শ কোটি টাকা বলে ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

এদিন মতবিনিময় সভায় দুদকের প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, “বিষয়টি সংসদীয় কমিটিতে ছিল। তারা সেটি দুদকে রেফার করেছে। সেটির পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের দল এসেছে। আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাই।

দুদক যেন নির্বিঘ্নে তাদের কাজ শেষ করতে পারে সেজন্য বিমানের লোকজন সেখানে কাজ করছে। সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে পরিচালক এয়ার কমোডর মাহবুব বলেন, “আমি ২০১৮ সালে জয়েন করেছি। এর আগেও আরও কয়েকবার তদন্ত হয়েছে। আমি দেখেছি ইজিপ্টের দুটি বিমান ভিয়েতনামে আছে, যেখান থেকে ঠিক করে ফেরত দেওয়ার কথা। এই জটিলতার মধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি।”

বিমানের হজ ফ্লাইট নিজস্ব উড়োজাহাজে

মতবিনিময় সভায় বিমানের কর্মকর্তারা জানান, এবারে বিমান মোট ২৯ হাজার হজযাত্রী বহন করবে। এজন্য যাওয়া আসা মিলে মোট ১৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করতে হবে। এবার সরকারিভাবে হজে যাচ্ছেন ৪ হাজার ৫৬৪ জন।

আগামী ৫ জুন থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে জানিয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, অন্য বছরগুলোতে হজ যাত্রী পরিবহনের জন্য দুই থেকে আড়াই মাস সময় পাওয়া গেলেও এবারে এক মাসেরও কম সময় পাওয়া যাচ্ছে।

এবার কোনো উড়োজাহাজ লিজ নেওয়া হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রত্যেকবার হজের শুরুতে হজযাত্রী কত হবে সেটা অনিশ্চিত থাকে। এবারও তাই ছিল। এ কারণে দুটি বিমান লিজ নেওয়ার কথা ছিল। তবে এবারের যাত্রী সংখ্যা কম হওয়ায় আমাদের আর উড়োজাহাজ ভাড়া করতে হচ্ছে না।”

জেট ফুয়েলের দাম বাড়লেও হজ ফ্লাইটের ভাড়া বাড়বে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই।”

টরন্টো ফ্লাইট এখনওঝুলছে’

আগামী ২৮ জুন ঢাকা থেকে টরন্টোর উদ্দেশ্যে বিমানের উড়োজাহাজ উড়বে বলে মোস্তফা কামাল জানালেও একই সঙ্গে অনেকগুলো অনিশ্চয়তার খবরও দিয়েছেন।

এ কারণে বহুল আলোচিত এ ফ্লাইট চালুর তারিখ নিয়ে এখনও দোদুল্যমানতা কাটেনি। যে কারণে টিকিট বিক্রি শুরু হয়নি।

তবে গত ২৬ মার্চপ্রেস্টিজ রক্ষায়’ বিমানেরপরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক’ একটি ফ্লাইট টরন্টো গিয়ে আবার ফিরেও এসেছে। ওই ফ্লাইট পরিচালনার কয়েক কোটি টাকা খরচ নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে।

বিলিং অ্যান্ড সেটলমেন্ট প্ল্যানিং (এজেন্সি) হয়নি, রুটের লাইসেন্সও পাওয়া যায়নি জানিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, “বিমান ২৮ জুনেই যাবে। যদি সময় একটু বেশি লাগে তাহলে তারিখটা হয়তো একটু পেছাবে।

“টিকিট বিক্রি এখনও শুরু হয়নি। টিকিট ছাড়তে পারছি না কারণ, বিলিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্ল্যানিংয়ের সঙ্গে ট্রাভেল এজেন্সির একটা সম্পর্ক আছে। এ সমন্বয়ের জন্য যে বিজনেস লাইসেন্স লাগে সেটি এখনও পাইনি। এসব না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছি। কেবল ওয়েবসাইটের টিকিট দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব না।”

মতবিনিময় সভায় বিমানের চিফ অব ফ্লাইট সেইফটি ক্যাপ্টেন এনামুল হক তালুকদার, পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশন্স) ক্যাপ্টেন সিদ্দিকুর রহমান, গ্রাহক সেবার পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমান, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ যাহিদ হোসেন, বিমান ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারের (বিএফসিসি) মহাব্যবস্থাপক শামসুল করিম, ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনের এয়ার কমোডর মৃধা মো. একরামুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

Share if you like

Filter By Topic