বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পোশাকের চাহিদা বেড়েছে, ক্রয়াদেশও আসছে বেশি; এমন পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে রপ্তানির অর্ডার না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের এ সংগঠনের সভাপতি মো. ফারুক হাসান উদ্যোক্তাদের প্রতি এ আহ্বান জানান। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বিজিএমইএর একটি প্রতিনিধি দলের সম্প্রতি ইউরোপ সফরের বিষয়ে অবহিত করতে রাজধানীর গুলশানে হোটেল আমারিতে এ মিট দ্যা প্রেস ডাকা হয়।
এসময় সংগঠনের সহ সভাপতি মিরান আলীসহ অন্যান্য নেতা ও পোশাক কারখানা মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ফারুক হাসান বলেন, কোভিড মহামারীকালে উদ্যোক্তারা লোকসান দিয়ে ক্রেতা ও কর্মচারী ধরে রেখেছিলেন। কোনও রকম কারখানা চালু রেখেছিলেন। সেটার সুফল এখন পাচ্ছেন, ক্রয়াদেশ বাড়ছে।
“আমি পোশাকখাতের উদ্যোক্তা ভাই বোনদের কাছে অনুরোধ করব, আপনারা পণ্যের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হবেন। কোনও অবস্থাতেই যেন স্বাভাবিক উৎপাদন মূল্যের চেয়ে কম দামে নেগোশিয়েট না করি।”
তৈরি পোশাকের উৎপাদন ব্যয় ও দাম বাড়ার পাশাপাশি যে পরিমাণ ক্রয়াদেশ বাড়ছে তা পূরণের সক্ষমতা কারখানা মালিকদের রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজিএমইএ সভাপতি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে দাম বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আপনারা পোশাকের মূল্যের বিষয়টিতে আরও সংবেদনশীল হন।”
ক্রেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “বর্তমানে সুতাসহ অন্যান্য কাঁচামাল ও ফ্রেইট খরচ বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরবরাহকারীদের সঙ্গে ন্যায্যতারভিত্তিতে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করুণ।
“এ প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে ক্রেতাদের সহযোগিতা আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।“
সরবরাহকারীরা টিকে থাকলে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন ঠিক থাকবে, যোগ করেন তিনি।
বিজিএমইএ সভাপতির নেতৃত্বে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দলের সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড ও বেলজিয়াম সফরকালে এসব দেশের ক্রেতাদের কাছে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ফারুক জানান, বর্তমানে বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের যে পরিমাণ চাহিদা তৈরি হয়েছে, সে সুযোগ সবসময় আসে না। এখন পোশাকের সঙ্গে এর পশ্চাদপৎ (ব্যাকওয়ার্ক লিঙ্কেজ) শিল্পগুলোও চাঙ্গা হয়েছে। তাদের আয়ও বেড়েছে।
“আশা করছি এ সুযোগে আগামীতে দেশে আরও বিনিয়োগ হবে এবং পণ্যের উৎপাদন মূল্যও আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে।”
এ সুযোগ কাজে লাগাতে তিনি বর্তমান সংকট মোকাবিলা করে টিকে থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় তিনি ২৩ শতাংশ ডিজেলের দাম বাড়ানোর কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার অনুপাতে পরিবহন ব্যয়, জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাঁচামাল ও সেবার মূল্য বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ ৪ থেকে ৫ শতাংশ বাড়বে।
এ পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে জ্বালানি তেলের দাম পুর্ননির্ধারণের আহবান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি আগামী বছরের নভেম্বরে ঢাকায় প্রথমবারের মতো ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপারেল ফেডারেশন (আইএএফ) ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশন’ আয়োজন করার কথা জানান।
আন্তর্জাতিক এ মেলা কোথায় হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, “কয়েকটি স্থান নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে আমরা স্থান ও সময় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।”
