পাহাড় হলো অহংকারী শিখর হিমাদ্রির,
সাগর সদা গতিচঞ্চল প্রতীক পৃথিবীর।
- নির্মলেন্দু গুণ
ক্ষুদ্র মানব জীবনের কাছে পাহাড় আর সমুদ্র হলো বিশালতার প্রতীক। মনুষ্য জীবনে বাস্তবতার কঠিনতা, একঘেয়েমি, নগর জীবনের ক্লান্তি ভুলতে তাই পাহাড় বা সমুদ্রের কাছে যেতেই হয়।
কবির কবিতার মতো পাহাড় আর সমুদ্র যেন একে অপরের পরিপূরক। কারো পাহাড় ভালো লাগে তো কারো ঝর্ণা।
তবে পাহাড়, ঝর্ণা, সাগর সব কিছু একসাথে যদি মেলে, তাহলে তো কথাই নেই। এই তিনকে বেষ্টন করে প্রকৃতির অপরুপ মহিমায় সপ্রতিভ চট্টগ্রামের উপজেলা সীতাকুণ্ড।
সীতাকুণ্ড ভ্রমণপিপাসু মানুষের পছন্দের শীর্ষে থাকার কারণ প্রাকৃতিক ত্রিরত্মের সমাহার আর কম খরচে একদিনে ঘুরে আসার সুযোগ। যেহেতু একদিনের ট্যুর, তাই সীতাকুনণ্ড ভ্রমণের জন্য দরকার সঠিক ভ্রমণ পরিকল্পনা।
দিনের দিন ঘুরে আসার সুযোগ আছে বলে অনেকেই সপ্তাহান্তে ছুটির দিনে ঘুরে আসার পরিকল্পনা করেন এ জায়গা।
নলাইন ভিত্তিক ট্যুর অপারেটর গোল্লার সহ প্রতিষ্ঠাতা হাসনাইন তোহা জানান, তরুণরা, বিশেষত শিক্ষার্থীরা সীতাকুণ্ড যেতে আগ্রহী বেশি। কারণ খুব আয়েশী ভ্রমণের স্থান এটি না। কিছুটা বন্ধুর এবং রোমাঞ্চকর।
একদিন পুরো সময় হাতে পেলে রাতে ট্রেন বা বাসে সীতাকুণ্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে। রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল বা মহাখালী থেকে ছেড়ে যাওয়া চট্টগ্রামগামী সকল বাসেই সীতাকুণ্ড যাওয়া যায়।
বাসের টিকিটের মূল্য ৪৮০ থেকে ১১০০ টাকার মধ্যে। রেল পথে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে মেইল ট্রেনে জনপ্রতি ১২০ টাকা ভাড়ায় সরাসরি সীতাকুণ্ড যাওয়া যায়।
তবে ছুটির দিনের আগের রাতে প্রচুর ভীড় হয়। সিট পেতে হলে আগে আগে ট্রেনে উঠে বসা বুদ্ধিদীপ্ত কাজ হবে।
একদিনে ঘোরার জন্য সীতাকুণ্ডে তিনটি জায়গা খুবই জনপ্রিয়। চন্দ্রনাথ পাহাড়, খৈয়াছড়া ঝর্ণা ও গুলিয়াখালি সী বিচ।
চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে ঐতিহাসিক চন্দ্রনাথ মন্দির। সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে পবিত্র এ স্থান ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই দর্শন করতে যান। সেই সাথে উপভোগ করেন চন্দ্রনাথ পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে পাহড়ের চূড়ায় আরোহনের পুরোটা রাস্তা যেনো সবুজের লীলাখেলা আর।
সীতাকুণ্ড বাজারে সকালের নাস্তা সেরে ২০ টাকা ভাড়ায় অটোতে চলে যাওয়া যায় পাহাড়ের পাদদেশে। সেখান থেকে বিশ থেকে ত্রিশ টাকার বিনিময়ে একটি লাঠি নিয়ে যাত্রা শুরু করতে হয় চূড়ার উদ্দেশ্যে। ট্রেকের জন্য পর্যাপ্ত খাবার পানি ও শুকনো খাবার সঙ্গে রাখা জরুরি।
এখান থেকে আধা ঘন্টা দূরত্বে পাহাড়ের বুকচিরে নয়নাভিরাম ঝর্ণা ঝরেছে খৈয়াছড়ায়। চন্দ্রনাথ থেকে সীতাকুণ্ড বাজারে ফিরে ২০ টাকায় লোকাল বাসে মিরেরসরাই যেতে হয়। সেখান থেকে ১০০ টাকা সিএনজি ভাড়ায় সরাসরি নিয়ে যায় খৈয়াছড়া ঝিরিতে।
ঝিরি পথ ধরে বেশ খানিকটা হেঁটে যেতে হয় ঝর্ণার কাছে। ঝর্ণার ১৩ টি ধাপ মুগ্ধতা আর দুঃসাহসিকতার মোহমায়ায় ঘেরা।
খৈয়াছড়ায় গ্রামীন হোটেলে খাবার খেয়ে সীতাকুণ্ড বাজারে ফিরে সেখান থেকে সরাসরি সিএনজিতে যাওয়া যায় গুলিয়াখালি সি বিচ।
একদিকে সবুজ ঘাস, অন্যদিকে উত্তাল সাগরের ডাক, উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয় পর্যটকদের শিরায় শিরায়।
পাহাড় ও ঝর্ণা ভ্রমণে সতর্কতা আবশ্যক। শিশু এবং বয়ঃবৃদ্ধদের এসব ট্রেকে অন্তর্ভূক্ত করা উচিৎ নয়। যত্র তত্র ময়লা ফেলা থেকেও বিরত থাকতে হবে।
গুলিয়াখালি থেকে সীতাকুণ্ড ফিরে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরার বাস পাওয়া যায়। ট্রেনে যেতে চাইলে সময়সূচি মিলিয়ে চলে যেতে হবে স্টেশনে। এভাবে দিনে দিনেই সীতাকুণ্ড থেকে ফিরে আসা যায় প্রকৃতি দর্শন শেষে।
anmrifat14@gmail.com