নতুন একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং চারজন নির্বাচন কমিশনার খুঁজে নিতে প্রথম সভায় বসেছেন রাষ্ট্রপতির গঠিত সার্চ কমিটির সদস্যরা।
রোববার বিকাল সাড়ে ৪টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জে এ বৈঠক শুরু হয়। আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সভাপতিত্বে এ কমিটির বাকি পাঁচ সদস্যও উপস্থিত রয়েছেন সভায়। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
কমিটির সদস্য মহা হিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক (সিএজি) মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন, কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক বিকাল পৌনে ৪টা থেকে সোয়া ৪টার মধ্যে জাজেজ লাউঞ্জে পৌঁছান।
কমিটির সভাপতি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান আগে থেকেই সেখানে ছিলেন।
কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দিচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামও বৈঠকে রয়েছেন।
সার্চ কমিটির সদস্যরা বৈঠকের আগে কথা বলেননি। তবে বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ব্রিফ করার কথা রয়েছে।
দেশে প্রথমবারের মত আইনের আওতায় সার্চ কমিটি গঠনের পরদিনই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রথম বৈঠকে বসলেন আপিল বিভাগের বিচারক বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন’র ২৭ জানুয়ারি সংসদে পাস হয়। এ আইনের আলোকে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠিত হয় শনিবার।
এবারই প্রথম আইনের আওতায় সার্চ কমিটি করে নতুন নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের বেছে নিচ্ছে বাংলাদেশ। আইন অনুযায়ী, এই সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে দশজনের নাম প্রস্তাব করার জন্য ১৫ কার্যদিবস সময় পাচ্ছে। সেখান থেকে বেছে নিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি।
সার্চ কমিটি একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং চারজন নির্বাচন কমিশনারের মোট পাঁচটি পদের জন্য দুজন করে ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করবে। তাদের মধ্যে থেকে বেছে নিয়ে রাষ্ট্রপতি গঠন করবেন ত্রয়োদশ নির্বাচন কমিশন। তাদের ওপরই থাকবে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ভার।
কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন ১৪ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ পূর্ণ করছে। বর্তমান ইসির মেয়াদপূর্তির আগেই নতুন ইসি চূড়ান্ত করতে হলে হাতে থাকছে আর নয় দিন। সার্চ কমিটির সদস্যরা তা করতে না পারলে ইসি শূন্য থাকার সম্ভাবনা তৈরি হবে। অবশ্য তাতে কোনো সমস্যা নেই বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বিএনপি এ সার্চ কমিটিকে নিরপেক্ষ মনে করছে না। আর জাতীয় পার্টি বলছে, অনুসন্ধান কমিটি কাদের নাম প্রস্তাব করে সেটা দেখার অপেক্ষায় আছে তারা।
সার্চ কমিটির কাজ
সার্চ কমিটির (অনুসন্ধান কমিটি) কাজ সম্পর্কে আইনে বলা হয়েছে, এ কমিটি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করবে।
আইনে বেধে দেওয়া যোগ্যতা, অযোগ্যতা অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সুনাম বিবেচনা করে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে।
এ অনুসন্ধান কমিটি সিইসি ও কমিশনারদের প্রতি পদের জন্য দুই জন করে ব্যক্তির নাম সুপারিশ করবে। কমিটির গঠনের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে জাম দিতে হবে।
সার্চ কমিটি সিইসি এবং নির্বাচন কমিশনার পদে যোগ্যদের অনুসন্ধানের জন্য রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে নাম আহ্বান করতে পারবে।
