Loading...

ই-কমার্সে প্রতারণা রোধ করতে না পারার দায় সরকারের, বললেন অর্থমন্ত্রী

| Updated: September 24, 2021 16:36:13


ই-কমার্সে প্রতারণা রোধ করতে না পারার দায় সরকারের, বললেন অর্থমন্ত্রী

ই-কমার্সের নামে প্রতারণার মাধ্যমে মানুষ ‘ঠকানোর’ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার দায় যে সরকারকে নিতে হবে, সে কথা স্বীকার করলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বুধবার ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ”মাঝেমধ্যে এ ধরনের কাজ করে মানুষকে ঠকায়, এটা কিন্তু চলে আসতেছে। আগে যেভাবে হত, এখন হয়ত ভিন্ন আঙ্গিকে আসছে। আগে ম্যানুয়ালি করত, এখন ইলেকক্ট্রনিক্যালি করতেছে। এখন ডিজিটাইজড ওয়েতে এগুলো করা হচ্ছে। মানুষ বিশ্বাস করে।”

“কত দিকে নিয়ন্ত্রণ করবেন? নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, এটা গভার্নমেন্টকে দায়িত্ব নিতে হবে অবশ্যই। গভার্নমেন্টের দায়িত্ব। গভার্নমেন্ট দায়িত্ব এড়াবে কেমন করে।”

দেশে ই কমার্সের ব্যবসা বেশ কয়েক বছর ধরেই বাড়ছিল, এর মধ্যে মহামারী শুরু হলে নতুন নতুন বেশ কিছু কোম্পানি রাতারাতি ফুলে ফেঁপে উঠতে শুরু করে।

বাজারমূল্যের চেয়ে অর্ধেক দামে পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে এসব কোম্পানি লাখ লাখ গ্রাহকের হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে এখন।

অনেকে অর্ধেক দামে পণ্য কিনে পরে বেশি দামে বিক্রির আশায় এসব কোম্পানিতে লাখ লাখ টাকার অর্ডার করেছেন। কিন্তু তাদের অনেকে মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও পণ্য বুঝে পাননি, কোম্পানি তাদের টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।

এসব ঘটনায় ইভ্যালি, ই অরেঞ্জসহ বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলাও হয়েছে সম্প্রতি। কিন্তু অগ্রিম টাকা দিয়ে পণ্য না পাওয়া গ্রাহকরা রয়েছেন অনিশ্চয়তায়। ই-কমার্সের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ঠেকাতে সরকার ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে হাই কোর্ট।

হাই কোর্টের একটি বেঞ্চের একজন বিচারক মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানিতে বলেছেন “আমার টাকাটা নিয়ে গেল। আর আমি দ্বারে দ্বারে ঘুরব? এই তো তারা থানায় যাবে, জেলে যাবে, রাত্রে ঘুমাবে। কিন্তু আমার টাকাটা যে নিয়ে গেল সেটার কী হবে?”

এ বিষয়ে এক প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ই-কমার্স কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক দায়িত্ব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্ত থাকায় অর্থ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব রয়েছে, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

“অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজটি হল, এখানে বাংলাদেশ ব্যাংক আছে… বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা ভূমিকা আছে। উদ্যোক্তা হিসাবে তারা আমাদের এখানে নিয়ে আসে। আইটি রিলেটেড যেগুলো আছে, সেখানে আমাদের আইসিটি মিনিস্ট্রি আছে, তারাও দায়িত্ব নেবে এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলিকে জানার জন্য।”

তিনি এসব কোম্পানি যখন ব্যবসা শুরু করে, তখন কোনো না কোনো কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিয়েই তারা আসে।

“এখানে ছাড়পত্র দিচ্ছে কমার্স মিনিস্ট্রি, তাদেরকে প্রাইমারিলি দায়িত্ব নিতে হবে। এবং তাদের সাথে অন্য যারা সংযুক্ত আছে, সংশ্লিষ্ট আছেন, সম্পৃক্ত আছেন, তাদের সবাইর আমি মনে করি, দায়িত্ব নেওয়া উচিত।”

Share if you like

Filter By Topic