করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর যে প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, এশিয়ায় তার অনেকটাই যোগান দিতে পারে নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ জোট রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)।
আরসিইপি চুক্তিটি গত বছর ১৫ নভেম্বর ১৫টি দেশ স্বাক্ষর করেছে। এতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত ধারাগুলো আসলে বিদ্যমান বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তিগুলোর একটি সমন্বিত রূপ। তারপরেও পণ্য, সেবা ও ই-বাণিজ্য সংক্রান্ত বাজার সুবিধা ও বিধিবিধানগুলো আঞ্চলিক মূল্য সম্পৃক্ততা (ভ্যালু চেইন) এবং বাজারমুখী বিনিয়োগের জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক হয়েছে।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) এরপরই ইনভেস্টমেন্ট ট্রেন্ডস মনিটরর যে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছিল, তাতে এসব অভিমত তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে আরসিইপি অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবণতা, পণ্য উৎপাদন ও বাজারের বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।
আরসিইপি জোটের সদস্য দেশগুলো হলো: আসিয়ানের ১০-সদস্য (ব্র্রুনাই, কম্বোডিয়া, পূর্ব-তিমুর, মিয়ানমান, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম), এবং চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।
আঙ্কটাডের প্রতিবেদন অনুসারে, আরসিইপি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) গন্তব্য। বর্তমানে এখানে বিশ্বের মোট পুঞ্জিভূত (স্টক) বিদেশি বিনিয়োগ ১৬ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহের ১৬ শতাংশআছে।
২০১০ সালে আরইসিপি অঞ্চলে পুঞ্জিভুত বিদেশি বিনিয়োগ ছিল দুই লাখ ৭০ হাজার ডলার যা ২০১৯ সালে বেড়ে হয়েছে পাঁচ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলার। প্রতি বছর গড়ে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে নয় শতাংশ হারে।
তবে ২০১৯ সালে আরসিইপি অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগ আগের বছরের চেয়ে চার শতাংশ কমে হয়েছে ৩৬ হাজার ৪০ কোটি ডলার। মূলত অস্ট্রেলিয়া বিদেশি বিনিয়োগ ৪৭ শতাংশ কমে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে।
করোনাভাইরাসের অভিঘাতে বৈশ্বিক বিদেশি বিনিয়োগ গত বছর বা ২০২০ সালে আগের বছরের মানে ২০১৯ সালের তুলনায় ৪২ শতাংশ কমে গিয়েছে বলে আঙ্কটাডের হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অবশ্য আরসিইপি তে বিদেশি বিনিয়োগের সিংহভাগেই মাত্র পাঁচটি দেশে কেন্দ্রীভূত। আঙ্কটাড উপাত্ত দেখায় যে চীন, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামেই এই অঞ্চলের ৮৪ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে।
অন্যদিকে আরসিইপি বিশ্বে বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম বড় উৎসও বটে। গতবছর বৈশ্বিক বিদেশি বিনিয়োগের ৩৬ শতাংশ এসেছে এই অঞ্চল থেকে। তবে এখানেও এই বিনিয়োগের বেশিরভাগটাই যোগান দেয় চার দেশ: জাপান, চীন, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া।
উল্লেখ্য বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রায় এক-চতুর্থাংশ আরসিইপি অঞ্চল থেকে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে ২০১৯-২০অথর্বছরে দেশে ২৭৩ কোটি ডলারের নিট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল যার মধ্যে আরইসিপির ছয় দেশ থেকে (সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, জাপান ও মালয়েশিয়া) এসেছে প্রায় ৫৪ কোটি ডলার।
