Loading...

আর কত প্রাণ ঝরলে নিরাপদ হবে সড়ক, প্রশ্ন স্বজনহারাদের

| Updated: December 11, 2021 18:40:24


আর কত প্রাণ ঝরলে নিরাপদ হবে সড়ক, প্রশ্ন স্বজনহারাদের

বিশৃঙ্খলা সড়কে একের পর এক শিক্ষার্থীর প্রাণহানি; দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্ষতিপূরণ বা বিচার না পাওয়া; এবং সরকারের উদাসীনতায় হতাশ তাদের স্বজনরা। তাদের প্রশ্ন, সড়কে আর কত প্রাণ ঝরলে সরকারের টনক নড়বে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সমাবেশে তারা এ প্রতিক্রিয়া জানান।

২০১৮ সালে ৩ আগস্ট মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের গোড়ায় ঢাকা-সাতক্ষীরাগামী বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারান মটরসাইকেল আরোহী সাইফুল ইসলাম (২৭)।

তার বাবা শাহজাহান আলী ছেলের ছবিসহ পেপারকাটিং নিয়ে শহীদ মিনারে এসেছেন। তিনি জানান, ওই ঘটনায় বাসের চালককে গ্রেপ্তার করা হলেও বিচার হয়নি; কয়েক মাসের মধ্যেই চালক জামিন নিয়ে ছাড়া পেয়ে যান।

তিনি বলেন, “সাইফুলই আমার একমাত্র ছেলে ছিল। পড়ালেখা করিয়েছি, ছেলে চাকরি করে আমাদের ভরণপোষণ  করবে। কিন্তু তাকে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। তিন বছরের ধরে বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। সরকারের এমন কোনো দপ্তর নাই, যেখানে যাইনি। কোনো ক্ষতিপূরণ আমাদেরকে দেওয়া হয়নি।

“শুনেছি গত নভেম্বরে সড়কে ৫৪ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে। আজকে অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখা ছেড়ে রাস্তায় আন্দোলন করছে। আর কত বাবা-মায়ের বুক খালি হলে সড়ক নিরাপদ হবে?”

তিন বছর আগে বিমানবন্দ সড়কে বাস চাপায় নিহত হন শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম।

তার সহপাঠী ইসরাত জাহান বলেন, “সহপাঠীকে হারানোর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এরই মধ্যে একের পর এক শিক্ষার্থী সড়কে পিষ্ট হচ্ছে। সরকার কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

“আর কত শিক্ষার্থীর প্রাণ ঝরলে সরকারের টনক নড়বে?"

সড়কে শৃঙ্খলা আনা এবং সারাদেশে রেল, লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারিসহ ৯ দফা দাবিতে গত এক মাস ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করছে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

২০১৮ সালে থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। তবে গত ১৮ নভেম্বর থেকে গণপরিবহন হাফ ভাড়ার দাবিতে আবারও রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা।

এরই মধ্যে ২৪ নভেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আবর্জনার গাড়ির চাপায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের প্রাণহানির ফলে শিক্ষার্থীদের হাফ পাসের আন্দোলন নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে রূপ নেয়।

এর পর ২৯ নভেম্বর রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় একরামুন্নেছা বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাঈনুদ্দীনের মৃত্যুতে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন আরও বেগবান হয়।

৯ দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে সড়কে স্বজনহারাদের সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি মানা না হলে ১৫ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় সচিবালয়ের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

সারাদেশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা অনশন করবে বলেও জানান আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদুল ইসলাম আপন।

তিনি বলেন, “সড়কে লাশের মিছিল বাড়ছে, সরকারের কোনো পদক্ষেপ নাই। নিরাপদ সড়ক কেন আমাদের চাওয়া? এটা কেন সরকারের চাওয়া নয়? আমরা যদি নিরাপদে সড়কে চলতে না পারি, তাহলে কীভাবে আমরা স্বাধীন দেশের বসবাস করছি?

সমাবেশে সড়কে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও সহপাঠীসহ অনেকেই অংশ নিয়ে আন্দোলনে সংহতি জানান।

আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মেহেদি দীপ্ত, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রাজীবের বন্ধু মাহফুজ হাসান রাহাত বক্তব্য দেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি-

১. বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই বিধান সংবিধানে সংযোজন করতে হবে।

২. নৌপরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

৩. ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন না।

৪. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না।

৫. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভারব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৬. প্রত্যেক সড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিডব্রেকার দিতে হবে।

৭. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।

৮. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের নিতে হবে।

৯. শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

 

 

Share if you like

Filter By Topic